বলিউডের রাজকীয় এবং সবচেয়ে সফল দম্পতিদের অন্যতম জুটি ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর এবং ভারতীয় ক্রিকেটের ‘টাইগার’ মনসুর আলি খান পতৌদি। ২০১১ সালে নবাব পতৌদির প্রয়াণের আগে পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৩ বছর তাঁরা সুখে সংসার করেছেন। কিন্তু ছয়ের দশকে তাঁদের এই ভিন্নধর্মী বিয়ে র সফর কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। সম্প্রতি বর্ষীয়ান সাংবাদিক বরখা দত্তের ‘মোজো স্টোরি’ (Mojo Story) অনুষ্ঠানে এসে শর্মিলা ঠাকুর তাঁদের বিয়ে নিয়ে এমন কিছু বিস্ফোরক তথ্য ভাগ করে নিলেন, যা শুনে চোখ কপালে উঠেছে অনুরাগীদের।

বিয়ের আগে একসঙ্গে থাকা বা ‘লিভ-ইন’ করা থেকে শুরু করে প্রকাশ্য রাস্তায় ‘খুনের হুমকি’ পাওয়া— জীবনের সেই রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী।
‘সুবিধার জন্য আমরা বিয়ের আগেই একসাথে থাকতাম’
আজকের যুগে দাঁড়িয়ে ‘লিভ-ইন রিলেশনশিপ’ বা বিয়ের আগে এক ছাদের নিচে থাকাটা খুব সাধারণ বিষয় হলেও, আজ থেকে প্রায় পাঁচ-ছয় দশক আগে তা ছিল অকল্পনীয়। শর্মিলা ঠাকুর অকপটে জানান, বিয়ের আগে তাঁরা একসঙ্গে থাকতেন।
হাসিমুখে পুরোনো স্মৃতি হাতড়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা বিয়ের আগে একসঙ্গেই থাকতাম, কারণ সেটাই বেশি সুবিধাজনক ছিল। তবে তখন আমি ঘরকন্নার কাজে ভীষণ আনাড়ি ছিলাম, ঘরের কোনও জিনিস ঠিকঠাক কাজ করত না। তাই টাইগার (মনসুর) প্রায়ই ক্রিকেট ক্লাব অফ ইন্ডিয়া-তে (CCI) যেত স্নান করার জন্য! অবশ্য বছরের পর বছর ধরে আমি কাজগুলো শিখেছি, এখন আমি ঘর গোছাতে বেশ ভালোবাসি’।
‘১৫ মাসের বেশি টিকবে না!’— সাবধান করেছিলেন যশ চোপড়াও
{{/usCountry}}‘১৫ মাসের বেশি টিকবে না!’— সাবধান করেছিলেন যশ চোপড়াও
{{/usCountry}}ভিন ধর্মের হওয়ায় তাঁদের এই সম্পর্ককে সমাজ এবং সংবাদমাধ্যম খুব একটা ভালো চোখে দেখেনি। একের পর এক নেতিবাচক খবর ও ট্রোলিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁদের পরিবারকে।
শর্মিলা জানান, তিনি এবং টাইগার নিজেদের কাজে (যথাক্রমে অভিনয় ও ক্রিকেট) ব্যস্ত থাকায় চাপটা সরাসরি অনুভব করেননি। কিন্তু তাঁদের মা-বাবাকে প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম তো বাজি ধরে বলেছিল, এই বিয়ে ১৫ মাসের বেশি টিকবে না এবং এটি একটি চরম ‘ডিসাস্টার’ হতে চলেছে!
এমনকি প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক যশ চোপড়াও (Yash Chopra) বন্ধু হিসেবে শর্মিলাকে সাবধান করে বলেছিলেন, ‘এই নবাবদের কিন্তু বিশ্বাস করা খুব কঠিন, তাই একটু সাবধানে থেকো।’
‘গুলি কথা বলবে!’ শেষ মুহূর্তে বদলাতে হয়েছিল বিয়ের ভেন্যু
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তাঁদের বিয়ের ঠিক আগের দিনগুলোতে। শর্মিলা ঠাকুর জানান, তাঁদের বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালীন ওনার মা-বাবার কাছে একের পর এক বেনামী টেলিগ্রাম আসতে শুরু করে।
অভিনেত্রীর বয়ানে, ‘আমার মা-বাবার কাছে টেলিগ্রাম আসত, যেখানে লেখা থাকত— ‘বুলেটস শ্যাল স্পিক’ (এবার গুলি কথা বলবে)!’
এই মারাত্মক খুনের হুমকি এবং নিরাপত্তার চরম সংকটের কারণে শেষ মুহূর্তে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানস্থল বা ভেন্যু সম্পূর্ণ বদলে ফেলতে হয়েছিল।
প্রথম দেখায় প্রেম নয়, ভালোবাসার ভিত্তি ছিল ‘বিশ্বাস’
শর্মিলা এবং মনসুর আলি খান পতৌদির আলাপ হয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে কিছু সাধারণ বন্ধুর মাধ্যমে। প্রেমের দিনগুলোতে লন্ডন থেকে শর্মিলাকে এয়ার কন্ডিশনার (AC) এবং লাল গোলাপ পাঠাতেন নবাব পতৌদি।
২০২৩ সালে ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-তে এসে শর্মিলা তাঁদের প্রেম নিয়ে বলেছিলেন, 'টাইগারের সেন্স অফ হিউমার ছিল একেবারে আলাদা। ও নিজের জোকসে নিজেই হাসত, কারণ আমরা কেউই ওগুলো বুঝতাম না! আমাদেরটা প্রথম দেখায় প্রেম ছিল না। তবে আমাদের মধ্যে ভালোবাসা ছিল। আমার শুধু মনে হয়েছিল, এই মানুষটা আমাকে কোনওদিন ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করবে না এবং আমি ওঁর ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারি। একটা সম্পর্কের জন্য এটাই তো সবচেয়ে বড় ভিত্তি, তাই নয় কি?'