সম্প্রতি তাঁর জেলজীবন নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ কুন্দ্রা। শিল্পা শেট্টির স্বামী বছরচারেক আগে বেশ লম্বা সময় কাটিয়েছিলেন কারাগারের ভিতরে। সম্প্রতি ২০২১ সালে গ্রেফতার হওয়া, মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলে কাটানো সেই ৬৩টা দিন, সঙ্গে এই কঠিন সময়ে স্ত্রী শিল্পার থেকে পাওয়া অবিচল সমর্থন নিয়ে বলেছেন কথা।
২০২১ সালের পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার স্মৃতিচারণ করলেন রাজ
কুন্দ্রা জানান যে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব পেয়ে তিনি থানায় গিয়েছিলেন। এবং গ্রেপ্তার হতে পারেন এমন আশঙ্কাও ছিল না তাঁর। রাজের কথা অনুসারে, থানার ভেতর থেকে একটি নিউজ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি পোস্ট পড়ে তিনি নিজের গ্রেপ্তারের খবরটি জানতে পারেন।
‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাকে থানায় ডাকা হয়েছিল এবং আমি কোনো সন্দেহ না করেই সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে থাকাকালীন আমি এক্স-এ (টুইটার) পড়ি যে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি যখন পুলিশ অফিসারকে জিজ্ঞাসা করি, তিনি বলেন, 'হ্যাঁ এটাই আদেশ'।’, স্মরণ করেন কুন্দ্রা।
রাজ আরও জানান যে, শিল্পাও স্বামীর গ্রেফতার হওয়ার খবরটি জানতে পেরেছিলেন সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই। আর সঙ্গে সঙ্গেই সঙ্গে সঙ্গে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা-সহ পরিস্থিতি সামাল দিতে শুরু করেন। কুন্দ্রা বলেন, সেই সময়ে ভারতে তাঁর ব্যবসায় প্রায় ৪,০০০ কর্মী নিযুক্ত ছিলেন, ফলে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া শিল্পার পক্ষে একেবারে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
‘শিল্পা নিউজ থেকে আমায় গ্রেপ্তারের খবরটা পায়। সে সেরা সব উকিলদের নিয়োগ করেছিল, কিন্তু কী করবে তা বুঝতে পারছিল না। সেই সময় ভারতে আমার ব্যবসাগুলোতে প্রায় ৪,০০০ লোক কাজ করত। শিল্পা বলতেই থাকত, 'আমি এই সবকিছু কীভাবে সামলাব?' আমাকে বলা হয়েছিল ৬৩ দিন জেলে কাটাতে হবে, কিন্তু আসলে কতদিন লাগবে সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না’, বলেন রাজ। রাজ কুন্দ্রা স্মরণ করেন যে, শিল্পা শেষ পর্যন্ত সংকটের মধ্যে ব্যবসাগুলো নষ্ট না করার থেকে, সেগুলো রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আর্থার রোড জেলের ভেতরের পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন রাজ
{{/usCountry}}‘শিল্পা নিউজ থেকে আমায় গ্রেপ্তারের খবরটা পায়। সে সেরা সব উকিলদের নিয়োগ করেছিল, কিন্তু কী করবে তা বুঝতে পারছিল না। সেই সময় ভারতে আমার ব্যবসাগুলোতে প্রায় ৪,০০০ লোক কাজ করত। শিল্পা বলতেই থাকত, 'আমি এই সবকিছু কীভাবে সামলাব?' আমাকে বলা হয়েছিল ৬৩ দিন জেলে কাটাতে হবে, কিন্তু আসলে কতদিন লাগবে সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না’, বলেন রাজ। রাজ কুন্দ্রা স্মরণ করেন যে, শিল্পা শেষ পর্যন্ত সংকটের মধ্যে ব্যবসাগুলো নষ্ট না করার থেকে, সেগুলো রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আর্থার রোড জেলের ভেতরের পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন রাজ
{{/usCountry}}মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলে কাটানো সময়গুলো নিয়েও কথা বলেন রাজ। তিনি দাবি করেন যে, কিছু কিছু জায়গায় রাখা বন্দীর সংখ্যা সেগুলোর নির্ধারিত ধারণক্ষমতার থেকে অনেক বেশি ছিল। ‘একটা ছোট ঘরে যেখানে ৫০ জনের ঘুমানোর কথা, সেখানে ২৫০ জনকে রাখা হত। একজন আরেকজনের ওপর ঘুমাত। একটা পা ফেলারও জায়গা ছিল না’, বলেন রাজ।
জেলের খাবার নিয়ে জানান, ‘এখানকার খাবারও ছিল অত্যন্ত জঘন্য। পাঁচ-ছয়জন সহ-বন্দী একটা হাঁড়ির চারপাশে বসে থাকত এবং সেখানে এক বালতি জল ঢেলে দিত। ওরা বলত সেটা নাকি ডাল। কিন্তু জল ছাড়া কিছুই দেখা যেত না।’ রাজ এই সাক্ষাৎকারে আরও বলেন যে, বন্দীরা মাঝে মাঝে কারাগারের একটি দোকান থেকে ফারসান কিনে খাবারকে আরও সুস্বাদু করার চেষ্টা চালাত। গরম জল ও মশলার সঙ্গে মিশিয়ে নিত স্বাদ আনতে।
কুন্দ্রা জানিয়েছেন যে, জেল হেফাজতে থাকা ৬৩ দিন তিনি খুব কষ্ট পেয়েছিলেন খাবার নিয়ে। শেষ পর্যন্ত মূলত বিস্কুট ও জল খেয়েই বেঁচে ছিলেন। আর যার ফলে ১৭-১৮ কেজি ওজন কমে গিয়েছিল তাঁর। ‘আমি দুর্বল ও শীর্ণকায় হয়ে বেরিয়েছিলাম। এটা ছিল টিকে থাকার লড়াই। কিন্তু একটা ভালো যে আমি টিকে থাকার কৌশল শিখেছিলাম’, বলেন রাজ কুন্দ্রা।
সঙ্গে তিনি আরও জানান যে, জেলে বসে সবচেয়ে কঠিন রাত ছিল তাঁর কাছে যখন আচমকা জানতে পারেন যে শিল্পা নাকি তাঁকে ডিভোর্স দিতে চায়। সেই রাতটা একটা অসহায় ছিল যে, চোখের পাতা ফেলতে পারেননি। এমনকী নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। পরেরদিন সকালে শিল্পার কাছ থেকে আসা ফোন তাঁকে স্বস্তি দেয়।
রাজ বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই, কারণ আমার কাছে আমার স্ত্রী ও পরিবারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই। আমার জীবনটা শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছিল। পরের দিন আমি ওর (শিল্পা) সঙ্গে ফোনে কথা বললাম। ও বলল, 'এটা একটা বাজে খবর। আমি তোমার সঙ্গে আছি। আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। এটা নিয়ে চিন্তা কোরো না'। ওই ফোনটার পর আমি অনেক সাহস পেলাম। মনে মনে ভেবেছিলাম, যা খুশি করো। আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে আছে। আমি একাই পুরো পৃথিবীর মোকাবেলা করতে পারি। আমার কিছু যায় আসে না।’
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১৯ জুলাই মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ রাজ কুন্দ্রাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের অভিযোগ, তার সংস্থা আর্মসপ্রাইম মিডিয়া ‘হটশটস’ অ্যাপটি তৈরি করেছিল, যা প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্নোগ্রাফিক সামগ্রী স্ট্রিম করার জন্য ব্যবহৃত হতো। কুন্দ্রা কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে তিনি অভিযুক্ত বিষয়বস্তু তৈরিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন না। পরে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ প্রায় ১,৫০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে। পুলিশ কুন্দ্রাকে এই কথিত চক্রের একজন মূল সহায়তাকারী হিসেবে বর্ণনা করে। রাজ কুন্দ্রা প্রায় দুই মাস হাজতে থাকার পর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জামিন পান।