...
...
Next Story

Shilpa: ‘প্রযোজকের নামে যৌন হেনস্থার মিথ্যে মামলা করেছিলাম, উপায় ছিল না', শিল্পার কথায় সমালোচনার ঝড়, ছিছিকার নেটপাড়ায়

আইন মেয়েদের পক্ষে, সেই সুবিধা নিয়ে প্রযোজককে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়েছিলেন শিল্পা শিন্ডে। প্রায় এক দশক পর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি অভিনেত্রীর।

Published on: Jun 4, 2026, 07:00:34 IST
Advertisement

ছোটপর্দার দুনিয়ায় এক লহমায় যেন টাইম ট্রাভেল! প্রায় এক দশক আগে হিন্দি টেলিভিশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় সিটকম 'ভাবীজি ঘর পর হ্যায়'-এর প্রযোজক সঞ্জয় কোহলির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার মারাত্মক অভিযোগ এনেছিলেন পর্দার 'অঙ্গুরি ভাবী' ওরফে অভিনেত্রী শিল্পা শিন্ডে। সেই সময়ে এই নিয়ে বিনোদন জগতে তুমুল তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এবার খোদ শিল্পাই অকপটে স্বীকার করে নিলেন যে, সেই অভিযোগ এক্কেবারে মিথ্যে ছিল! জনপ্রিয় কমেডিয়ান ভারতী সিং এবং হর্ষ লিম্বাচিয়ার পডকাস্টে এসে শিল্পার এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি এখন নেটপাড়ার সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

‘প্রযোজকের নামে যৌন হেনস্থার মিথ্যে মামলা করেছিলাম', শিল্পার কথায় সমালোচনার ঝড়
‘প্রযোজকের নামে যৌন হেনস্থার মিথ্যে মামলা করেছিলাম', শিল্পার কথায় সমালোচনার ঝড়

চুক্তি থেকে রেহাই পেতেই 'যৌন হেনস্থা'-র অস্ত্র! কিন্তু কেন?

নয় বছর আগের সেই হাই-প্রোফাইল বিতর্ক নিয়ে এত বছর পর কেন মুখ খুললেন শিল্পা? শো-তে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, সত্যি কথা বলতে তাঁর আর কোনো ভয় নেই। ২০১৬ সালে যখন তিনি 'ভাবীজি ঘর পর হ্যায়' শো-টি ছাড়েন, তখন প্রযোজকদের সঙ্গে তাঁর চুক্তি নিয়ে জট এবং পারিশ্রমিক বাকি থাকা নিয়ে চরম বিবাদ তৈরি হয়েছিল। মেকাররা ওনাকে 'অপেশাদার' তকমা দিয়ে আইনি নোটিশ পাঠান, এমনকি সিন্টাও (CINTAA) অভিনেত্রীকে নিষিদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

শিল্পার দাবি, সেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া পরিস্থিতি থেকে বেরোনোর আর কোনও পথ তাঁর সামনে খোলা ছিল না। যেহেতু অভিনেত্রীর ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড আইনি, তাই তিনি জানতেন কীভাবে এফআইআর (FIR) দায়ের করতে হয়। পুলিশ ওঁনাকে সরাসরি জানিয়েছিল, এফআইআর করতে হলে অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর হতে হবে। আর সেই কারণেই বাধ্য হয়ে তিনি প্রযোজকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার মতো মারাত্মক অভিযোগ এনেছিলেন, যাতে মামলাটির দ্রুত মীমাংসা হয়।

নিজের এই মিথ্যে মামলার জন্য আজ অনুতপ্ত শিল্পা। তিনি জানান, তাঁর এই একটা মিথ্যে অভিযোগের কারণে ‘বেচারা’ সঞ্জয় কোহলিকে সামাজিকভাবে তীব্র অসম্মান ও বদনাম সহ্য করতে হয়েছিল। তবে সেই মামলার পর একটা রফাসূত্র মেলে এবং শিল্পার আটকে থাকা তিন মাসের সমস্ত টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়। শিল্পা বলেন, আমি তখন যে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম তা বোঝানো সম্ভব নয়। তবে মনে মনে ঠিক করেছিলাম, জীবন যদি কখনও সুযোগ দেয়, তবে এই মিথ্যেটা সবার সামনে স্বীকার করব। আজ সেই সুযোগ আসায় নিজের ভুল মেনে নিলাম।

২০২৫-এ আবার সেই 'ভাবীজি'-র ঘরেই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন!

টেলিভিশন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় টুইস্ট কিন্তু এখানেই শেষ নয়। যে শো-এর প্রযোজকদের জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন শিল্পা, ২০২৫ সালে সেই 'ভাবীজি ঘর পর হ্যায়' শো-তেই আবার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন তিনি! শিল্পা জানিয়েছেন, শো-এর লেখকের অনুরোধেই তিনি আবার পুরনো সেটে ফিরেছেন এবং বর্তমানে প্রযোজক ও পুরো টিমের সঙ্গেই ওঁর সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। অতীতে হওয়া সমস্ত তিক্ততা ভুলে শিল্পা এখন জমিয়ে অভিনয় করছেন। তাঁর এই ভোলবদল এবং সত্যি স্বীকার করার সাহস দেখে হতবাক টেলি-দুনিয়া!

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe