সিধু মুসেওয়ালার হত্যাকাণ্ডের দগদগে ক্ষত এখনও শুকোয়নি পঞ্জাবি সঙ্গীতপ্রেমীদের বুক থেকে। তার মাঝেই পঞ্জাবের অপরাধ জগতের অন্ধকার গ্রাস করল আরও এক উদীয়মান পঞ্জাবি গায়ককে। সোমবার রাতে অপহরণ করার পর নৃশংসভাবে খুন করা হলো ওই গায়ককে। মঙ্গলবার সকালে একটি স্থানীয় খাল (Canal) থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত ও বুলেটবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই হাইপ্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত এক কানাডাপ্রবাসী গ্যাংস্টার, যে ঘটনার পরই বেগতিক বুঝে ইতিমধ্যেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

সাতসকালে খাল থেকে উদ্ধার রক্তাক্ত দেহ:
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত গায়ককে গত সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়ির অদূরেই কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে অপহরণ করে। পরিবারের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি ও অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পুলিশ তদন্তে নামার আগেই মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা খালের জলে একটি দেহ ভাসতে দেখেন। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করার পর জানা যায়, সেটি ওই অপহৃত পঞ্জাবি গায়কেরই শরীর। তাঁর শরীরে একাধিক বুলেটের ক্ষত এবং গভীর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।
কানাডা কানেকশন ও মূল অভিযুক্তের পলায়ন:
তদন্তে নেমে পঞ্জাব পুলিশ জানতে পেরেছে, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে কানাডা-ভিত্তিক একটি বড়সড় অপরাধ চক্র বা গ্যাংস্টার নেটওয়ার্ক। গায়কের সাথে ওই গ্যাংস্টারের পুরনো কোনো শত্রুতা কিংবা তোলাবাজি (Extortion) সংক্রান্ত বিবাদ ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ঘটনার মূল হোতা ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি অপরাধ সংগঠিত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পঞ্জাব থেকে পালিয়ে আন্তর্জাতিক বিমানে চেপে কানাডায় পাড়ি দিয়েছে।
পঞ্জাবের বিনোদন জগতে আতঙ্কের ছায়া:
{{/usCountry}}পঞ্জাবের বিনোদন জগতে আতঙ্কের ছায়া:
{{/usCountry}}এই ঘটনার পর পঞ্জাবের গায়ক এবং সঙ্গীত প্রযোজকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। পঞ্জাবি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ওপর আন্তর্জাতিক গ্যাংগুলোর যে একটা ব্যাপক প্রভাব ও ভয়ের পরিবেশ রয়েছে, তা এই ঘটনার পর আবারও প্রমাণিত হলো। সীমান্ত পারের এবং কানাডা-ভিত্তিক গ্যাংস্টারদের এই বাড়বাড়ন্ত রুখতে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (BOI) এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে লুকআউট নোটিস ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে পঞ্জাব পুলিশ।