উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় একাদশের কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যুর নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে গুলিবিনিময়ে মৃত্যু হয় অভিযুক্তর। তবে মর্মান্তিক এই ঘটনার পর, অভিযুক্তের শোকার্ত মায়ের মুখের সামনে সংবাদমাধ্যমের একের পর এক বুম ও মাইক গুঁজে প্রশ্ন করার দৃশ্য ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী শ্রুতি দাস ও জনপ্রিয় গায়িকা অন্তরা মিত্র।

ঘটনার প্রেক্ষিত ও মায়ের করুণ পরিস্থিতি
গাইঘাটায় প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া একাদশ শ্রেণি কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত ও বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ধর্ষণের অভিযোগ গ্রেফতার করেছিল প্রহ্লাদকে। পরবর্তীতে গভীর রাতে এনকাউন্টারে তার মৃত্যু হয়।
এনকাউন্টারে ছেলের মৃত্যুর ঘটনা জানার পাওয়ার পর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি প্রহ্লাদের মা রেখা দাস। ‘ছেলে অন্যায় করেছে, শাস্তি পেয়েছে, একজন নাগরিক হিসেবে সঠিক বিচার হয়েছে’ বললেও এক সন্তানের মায়ের অসহায়তা ফুটে ওঠে তাঁর মুখে। তবে সেই পরিস্থিতিতেও সংবাদমাধ্যমের একের পর এক সংবেদনহীন প্রশ্ন ও মাইক উঁচিয়ে ধরা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
হাপুস নয়নে কাঁদতে থাকা অভিযুক্তর মা-কে ছেলে এই কাজ করল কী করে? এই পথে গেল কী করে? এমন প্রশ্ন লাগাতার করে চলেছিল মিডিয়া। তিনি শোকস্তব্ধ অবস্থাতেও করুণ আকুতি করে বলেন, ‘আমায় ছেড়ে দিন’। সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবাদী শ্রুতি-অন্তররা।
‘যাঁরা প্রশ্ন করছেন, তাঁদের কি মা-বাবা নেই?’: শ্রুতি দাসের তোপ
{{/usCountry}}‘যাঁরা প্রশ্ন করছেন, তাঁদের কি মা-বাবা নেই?’: শ্রুতি দাসের তোপ
{{/usCountry}}অভিযুক্তের মায়ের সামনে একের পর এক বুম গুঁজে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা ও প্রশ্নবাণ তোলার ট্রাইয়াল দেখে চুপ থাকেননি অভিনেত্রী শ্রুতি দাস।কড়া প্রতিক্রিয়া: সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে শ্রুতি লেখেন, ‘যাঁরা প্রশ্ন করছেন, তাঁদের কি বাড়িতে মা-বাবা নেই? ছিঃ... তোমাদের লজ্জা হওয়া উচিত।’
সন্তান অন্যায় করলেও এক অসহায় মায়ের মর্মান্তিক মুহূর্তে বুম গুঁজে ভাইরাল করার চেষ্টা ও সংবেদনশীলতাহীন সাংবাদিকতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী।
অন্তরা মিত্রের ভাইরাল বার্তা ও ক্ষোভ:শ্রুতির সুরেই সুর মিলিয়ে এই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানান গায়িকা অন্তরা মিত্র। নিজের অ্যাকাউন্টে একটি বার্তা শেয়ার করে অন্তরা লেখেন, ‘একজনের মেয়ে নিপীড়িত ও মৃত, অন্যজনের ছেলে এনকাউন্টারড ও মৃত। আর দুজন মায়ের মুখে বুম মাইক ধরে ক্রমাগত প্রশ্ন করতে থাকা মিডিয়া। কোথায় যে যাচ্ছে সমাজটা ভাইরাল হতে গিয়ে জানি না!’
চরম বাস্তব ও সমাজের নির্দয় ছবি তুলে ধরার পর অবশ্য কিছু সময় পরই পোস্টটি সরিয়ে নেন গায়িকা। এনকাউন্টার ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক জল্পনার মাঝেই ভাইরাল হওয়ার চক্করে গণমাধ্যমের এই সংবেদনহীনতা ও মানবিকতাহীন আচরণ নিয়ে এখন তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া।