পোষ্য প্রাণীদের প্রতি তারকাদের টান নতুন কিছু নয়। তবে সেই ভালোবাসাই যে কখনো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মানসিক কষ্টের কারণ হতে পারে, তা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন অভিনেত্রী ও গায়িকা শ্রুতি হাসান (Shruti Haasan)। তীব্র অ্যালার্জির থাবায় নিজের শরীর, কাজ এবং মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অত্যন্ত বাধ্য হয়ে নিজের প্রিয় পার্সিয়ান বিড়াল 'আসলান' (Aslan)-কে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলো তাঁকে।

গত ৯ আগস্ট জনপ্রিয় ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম সাবস্ট্যাক-এ (Substack) একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে নিজের এই কঠিন সংগ্রামের কথা শেয়ার করেন অভিনেত্রী।
শ্রুতি জানান, প্রায় তিন মাস আগে তিনি খুদে পার্সিয়ান বিড়াল আসলান'কে ঘরে এনেছিলেন। কিন্তু আসলানকে বাড়িতে আনার ঠিক দুই দিনের মাথায় শ্রুতির মুখের ত্বকজুড়ে ভয়াবহ ব়্যাশ ও ফুসকুড়ি (Boils) দেখা দেয়।
শ্রুতি শুরুতে ভেবেছিলেন হয়তো বেশি আম খাওয়ার ফলেই তাঁর ত্বকে এই প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। তাই পোষ্যের দিকে কোনো সন্দেহ যায়নি। পরবর্তীতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নেওয়ার পর জানা যায়, আসলানের লোম এবং লালা থেকেই নায়িকার শরীরে এই তীব্র অ্যালার্জি ছড়াচ্ছে।
শ্রুতি হাসানের প্রতিক্রিয়া:
‘যখন বুঝতে পারলাম আমার এই অবস্থার পেছনে আসলামের লোম আর লালাই দায়ী, তখন বুকটা এক অদ্ভুত হতাশায় খালি হয়ে গিয়েছিল। ভেতরে একটা মারাত্মক ভয় কাজ করছিল।’
চেষ্টার খামতি ছিল না, কিন্তু...
প্রিয় পোষ্যকে নিজের কাছে রেখে দেওয়ার জন্য সমস্ত রকম বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত চেষ্টা চালিয়েছিলেন শ্রুতি। বিড়ালের লোম ছেঁটে ছোট করা, ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার বসানো, আসলান'কে নিয়মিত মুছে পরিষ্কার রাখা এবং পোষ্যের খাবার বদলে ফেলা— সব পথই অবলম্বন করেন তিনি।
{{/usCountry}}প্রিয় পোষ্যকে নিজের কাছে রেখে দেওয়ার জন্য সমস্ত রকম বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত চেষ্টা চালিয়েছিলেন শ্রুতি। বিড়ালের লোম ছেঁটে ছোট করা, ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার বসানো, আসলান'কে নিয়মিত মুছে পরিষ্কার রাখা এবং পোষ্যের খাবার বদলে ফেলা— সব পথই অবলম্বন করেন তিনি।
{{/usCountry}}ব্যর্থ ওষুধ: শ্রুতি জানান, কোনও অ্যালার্জির ওষুধই তাঁর মুখের সেই বিষাক্ত ফুসকুড়ি কমাতে পারছিল না। তীব্র অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেষে তাঁকে কড়া কড়া ওষুধ খেতে হচ্ছিল।
শ্রুতি ভেবেছিলেন সময় গড়ালে হয়তো দু'জনে মিলে এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবেন। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের খাতিরে আসলানকে অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করার চরম ও বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত নিতেই হয় তাঁকে।
আসলানকে বিদায় জানানোর সময় শ্রুতি স্বীকার করেছিলেন যে আসলানকে বিদায় জানানো তাকে বিধ্বস্ত করেছিল এবং অপরাধবোধের সাথে লড়াই করেছিল। তিনি লিখেছেন, ‘এটি এতটাই হৃদয়বিদারক যে আমি অপরাধবোধ এবং বেদনা অনুভব করছি তা বর্ণনা করতে শুরু করতে পারি না। যে আমাকে এবং আমার বাড়িকে ভালবাসে এমন একজন নিরীহ আত্মাকে কেন তাকে চলে যেতে হবে?’
তিনি জনগণকে এই পরিস্থিতিকে ‘ব্যর্থ দত্তক’ হিসাবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছিলেন, জোর দিয়ে বলেছিলেন যে কোনও প্রাণীকে দত্তক নেওয়া এবং স্নেহময় বাড়ি সরবরাহ করা সবার দায়িত্ব। ‘এটি ব্যর্থ দত্তক নেওয়ার গল্প যেন না ভাবা হয়, আমি মনে করি আমি আমার অ্যালার্জিতে ব্যর্থ হয়েছি তবে একটি সুন্দর ছোট্ট প্রাণীকে বাড়ি সরবরাহ করা আপনার সবচেয়ে বড় কাজগুলির মধ্যে একটি’, লেখেন শ্রুতি।