প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ও একসময় এই রাজ্যের মন্ত্রিত্ব সামলানো ইন্দ্রনীল সেন-এর সাম্প্রতিক গ্রেফতারির ঘটনায় সঙ্গীত জগতে নেমে এসেছে শোক ও আলোচনার আবহ। এই ঘটনায় নিজের গভীর দুঃখ ও খারাপ লাগার কথা প্রকাশ করলেন জনপ্রিয় গায়িকা জয়তী চক্রবর্তী। একজন শিল্পী হিসেবে অন্য একজন শিল্পীর এই চরম সামাজিক ও ব্যক্তিগত সংকটে তিনি কতটা মর্মাহত, তা অকপটে জানালেন সংবাদমাধ্যমের সামনে। বুধবার সাধক বামাক্ষ্যাপার গান লঞ্চে লেক কালীবাড়িতে হাজির ছিলেন গায়িকা।

‘ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ নেই, আমি উনাকে শিল্পী হিসেবেই দেখি’:
নিজের নিরপেক্ষ অবস্থান স্পষ্ট করে জয়তী চক্রবর্তী জানান, গান-বাজনার ক্ষেত্রে তিনি কখনোই কোনও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা নেননি এবং উনার সঙ্গে কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ বা শত্রুতা তাঁর নেই।
জয়তী বলেন, ‘ঈশ্বর ও দর্শকদের ভালোবাসায় আমি নিজের ক্ষমতায় গান গেয়েছি। ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ বা রোষ জড়িত নেই। তবে একজন শিল্পী হিসেবে বলতে পারি, আমি উনাকে প্রাথমিকভাবে এবং শেষ পর্যন্ত একজন শিল্পী হিসেবেই দেখেছি ও মানতে চাই। উনার ‘দূরের বলাকা’ গান শুনে আমাদের মতো অনেকেই বড় হয়েছেন, যা আজও আমার ভীষণ প্রিয়।’
‘টাকা-পয়সা একদিকে, সম্মান অন্যদিকে’ — শিল্পীর সম্মানের গুরুত্ব:
ইন্দ্রনীল সেনের ব্যক্তিগত জীবন ও সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করা অনুচিত জানিয়ে জয়তী শিল্পীদের আত্মসম্মান ও সামাজিক মর্যাদার ওপর বিশেষ জোর দেন।
তাঁর আক্ষেপের সুরে প্রকাশ পায়, ‘একজন শিল্পীর সম্মান যদি না থাকে, তাহলে আর কী থাকে? উনার ব্যক্তিগত ইচ্ছে বা জীবন উনি যেভাবে পরিচালিত করেছেন, তা নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। কিন্তু আমার সবসময় মনে হয়, টাকা-পয়সা সবকিছু একদিকে আর সম্মান অন্যদিকে। সেই সম্মানটুকু চলে গেলে একজন শিল্পীর আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। হারানো সম্মান ও গৌরব ফিরে পাওয়া ভীষণ কঠিন।’
{{/usCountry}}তাঁর আক্ষেপের সুরে প্রকাশ পায়, ‘একজন শিল্পীর সম্মান যদি না থাকে, তাহলে আর কী থাকে? উনার ব্যক্তিগত ইচ্ছে বা জীবন উনি যেভাবে পরিচালিত করেছেন, তা নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। কিন্তু আমার সবসময় মনে হয়, টাকা-পয়সা সবকিছু একদিকে আর সম্মান অন্যদিকে। সেই সম্মানটুকু চলে গেলে একজন শিল্পীর আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। হারানো সম্মান ও গৌরব ফিরে পাওয়া ভীষণ কঠিন।’
{{/usCountry}}দ্রুত সুস্থ মীমাংসার প্রার্থনা:
বর্তমান আইনি ও বিতর্কিত পরিস্থিতি নিয়ে বিশদে মন্তব্য না করলেও, ঘটনার একটি ইতিবাচক পরিণতি ও সমাধান কামনা করেছেন জয়তী।
তিনি আবেগঘন কণ্ঠে যোগ করেন, ‘আমি চাই খুব তাড়াতাড়ি সবকিছুর একটি সুন্দর মীমাংসা হোক। কে খুশি হবে বা কে কষ্ট পাবে, কতটা ন্যায় বা অন্যায়— সেই প্রসঙ্গে আমি যাব না। তবে মায়ের মন্দিরে দাঁড়িয়ে এটুকুই বলব, শিল্প বলে যদি কিছু থেকে থাকে এবং আমরা যদি শিল্পকে সম্মান দিতে জানি, তবে অবশ্যই এর একটি সঠিক বিচার ও সম্মানজনক মীমাংসা হবে।’
একজন জ্যেষ্ঠ সহশিল্পীর এমন অপমান ও আইনি জটিলতায় টলিউড তথা সঙ্গীত জগতের অনেকেই অন্তরে আঘাত পেয়েছেন, জয়তী চক্রবর্তীর এই বার্তায় যেন সেই অনুভূতিরই প্রতিফলন ঘটল।