রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন-এর সাম্প্রতিক গ্রেফতারি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার পর সোশাল মিডিয়ায় তীব্র ট্রোল ও নেতিবাচক কটাক্ষের মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় গায়িকা জয়তী চক্রবর্তী। নেটিজেনদের একপক্ষের ‘চটিচাটা’, ‘অবৈধ সুযোগসন্ধানী’ কিংবা ‘প্রোপাগান্ডাবাজ’ মন্তব্যের জবাবে এবার চুপ থাকলেন না শিল্পী। সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ ও তীব্র ‘খোলা চিঠি’ পোস্ট করে প্রতিটি সমালোচনার চাঁচাছোলা জবাব দিয়েছেন তিনি।

‘সাধক বামাখ্যাপা’ ছবির প্রমোশনে গিয়ে দেওয়া তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের কড়া জবাব দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন— তাঁর কোনো রাজনৈতিক রং নেই, তাঁর একটাই পরিচয়, তিনি শিল্পী।
‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি! রবীন্দ্রনাথ থেকে দূরে থাকার আপনি কে?’
ট্রোলারদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে জয়তী লেখেন, ‘আমার কথা যারা বোঝেননি তাদের বোঝানোর দায় আমার নয়। আমি কী উত্তর দেব সেটা আমার ব্যক্তিস্বাধীনতা... আর রবীন্দ্রনাথ থেকে আমি দূরে থাকব কি না, সেটা নির্ধারণ করে দেওয়ার আপনি কোন হরিদাস পাল হে?’
ট্রোলারদের ‘চটিচাটা’ কটাক্ষের পাল্টা জবাব:
সরকারি অনুষ্ঠানে দেখা যাওয়া এবং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের জবাবে গায়িকা ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, 'আপনি সব প্রোগ্রাম দেখতে যেতেন তার মানে আপনিও তো কম চটিচাটা শ্রোতা নন দেখছি! তৃণমূলের সব প্রোগ্রাম দেখতে যেতেন? আর সেখানে আমাকেই দেখেছেন, কী কাণ্ড! আপনি এত জানেন আর এটা জানতেন না যে অভয়া মিছিলে হাঁটার পর আমাকে অনেক শিল্পীর মতোই ব্রাত্য করা হয়েছিল বহু অনুষ্ঠান থেকে?”
তিনি আরও খোলসা করেন যে, তাঁর গানের সংগঠন ‘গানসই’-এর বার্ষিক অনুষ্ঠানের জন্য সঠিকভাবে আবেদন করা সত্ত্বেও রবীন্দ্র সদন হলটি তাঁদের শেষ মুহূর্তে ইচ্ছাকৃতভাবে দেওয়া হয়নি এবং বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠানটি কালমন্দিরে করতে হয়েছিল।
{{/usCountry}}তিনি আরও খোলসা করেন যে, তাঁর গানের সংগঠন ‘গানসই’-এর বার্ষিক অনুষ্ঠানের জন্য সঠিকভাবে আবেদন করা সত্ত্বেও রবীন্দ্র সদন হলটি তাঁদের শেষ মুহূর্তে ইচ্ছাকৃতভাবে দেওয়া হয়নি এবং বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠানটি কালমন্দিরে করতে হয়েছিল।
{{/usCountry}}‘জয়তী কে?’— হীনমন্যতার মোড়কে রসিকতা:
অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন জয়তী কে?— এর উত্তরে শিল্পী খোঁচা দিয়ে লেখেন, ‘হীনমন্যতায় ভুগবেন না প্লিজ! আমি আপনি সমান, একদম সমান, বিশ্বাস করুন... শুধু একটুখানি গুলিয়ে ফেলে মিডিয়ার বন্ধুরা মাইকটা আপনার মুখে ধরার বদলে আমার মুখে ধরে ফেলেছেন। গুলিয়ে ফেলেছেন বেচারা রা, ক্ষমা করে দিন ওদের।’
ইন্দ্রনীল সেন ও শিল্পের অবনমন নিয়ে শেষ কথা:
পোস্টের শেষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জয়তী চক্রবর্তী স্পষ্ট করেন, ‘আমি একজন সাধারণ মানুষ হয়েও একই কথা বলব— শিল্পীদের কোনো রং থাকা উচিত নয়। আমার গায়ে কোনো তকমা, কোনো রং নেই... ইন্দ্রনীল সেনকে আমি শিল্পী হিসেবেই চিনেছি। তার ব্যক্তিজীবন বা যাপন নিয়ে মন্তব্য করার আমি কেউ নই। যার যা কর্ম, তার ফল এ জন্মেই ভোগ করতে হয়... কিন্তু উনি নিজেই শিল্পের অবনমন ঘটিয়েছেন। শিল্পী হিসেবে এটি কাম্য নয়, তাই বিষয়টি আমার খারাপ লেগেছে। শিল্পীর চেয়ে, কোনো মানুষের চেয়ে, শিল্প অনেক বড়।’
বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার করে যারা ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আলোর উৎসবের আগেই অন্তরে আলোকিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই গুণী শিল্পী।