পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক শোয়েব মালিক অবশেষে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন, বিশেষ করে ‘চতুর্থ বিয়ে’ নিয়ে মুখ খুলেছেন। এমনকী, শোয়েবের দাবি, এসব খবর তাঁর ছেলের চোখেও পড়ছে, আর সেগুলো তাঁর পরিবারকে কষ্ট দিচ্ছে। তাই নীরাবতা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শোয়েব মালিকের মতে, তাঁর প্রথম বিবাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে হয়েছিল এবং বিচ্ছেদ পরস্পরের সম্মতিতে হয়েছিল। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে বিচ্ছেদের পর উভয় পক্ষই তাদের সন্তানের সহ-অভিভাবকত্ব বেছে নেন। যদিও একাধিক রিপোর্ট অনুসারে, শোয়েবের প্রথম স্ত্রী সানিয়া মির্জা নন, এর আগেও বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন তিনি।
শোয়েব মালিকের বক্তব্য
শোয়েব মালিক একটি দীর্ঘ বিবৃতি জারি করে তার চতুর্থ বিয়ের খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি তার স্ত্রী সানা জাভেদকে নিয়ে চলা ট্রোলেও করেছেন জোরালো প্রতিবাদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘২০২৩ সালের গোড়ার দিকে আমার বিয়ে ভেঙে যায়। পারস্পরিক সম্মতিক্রমে আমরা আমাদের সন্তানকে একসঙ্গে বড় করছি। এর পরেই আমি পুনরায় বিয়ে করি। আমি সবসময় আমার ব্যক্তিগত জীবনকে গোপন রাখার চেষ্টা করেছি। তবে, আমার নীরবতা সম্ভবত আমার দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়েছে।’
শোয়েব মালিক তাঁর বিবৃতিতে আরও বলেছেন যে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যাচাই না করেই খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন যে কিছু লোক তার নাম এমন মহিলাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে যাদের সঙ্গে কোনোদিন দেখাই করেননি। তিনি বিশ্বাস করেন যে, সানা জাভেদকে বিয়ে করার পর থেকেই তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}শোয়েব মালিক তাঁর বিবৃতিতে আরও বলেছেন যে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যাচাই না করেই খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন যে কিছু লোক তার নাম এমন মহিলাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে যাদের সঙ্গে কোনোদিন দেখাই করেননি। তিনি বিশ্বাস করেন যে, সানা জাভেদকে বিয়ে করার পর থেকেই তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}শোয়েব আরও লেখেন, ‘আমার মনে হয় এই বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কথা বলা প্রয়োজন। আমার ছেলে এখন এমন বয়সে পৌঁছেছে যেখানে সে এই মিথ্যা ও বানানো গল্পগুলো পড়বে, যেগুলো কেবল কিছু টাকা, ভিউর জন্য ছড়ানো হচ্ছে।’
শোয়েব মালিক সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, তাঁর গোপনীয়তাকে সম্মান করতে হবে, নাহলে তিনি ট্রোলারদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন। ‘জীবনে কিছু লাইক এবং ভিউয়ের চেয়েও বেশি কিছু আছে। তোমাদের সকলের মতো আমারও একটি পরিবার আছে। আমি আশা করি এই বার্তাটি ইতিবাচকভাবে নেওয়া হবে। আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা এবং রসিকতা করা বন্ধ করুন। যদি তা না হয়, তাহলে আমার টিম কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।’
শোয়েবের বৈবাহিক জীবন
শোয়েব মালিকের কথা বলতে গেলে, তিনি ইতিমধ্যেই তিনবার বিয়ে করেছেন। ২০০২ সালে আয়েশা সিদ্দিকির সঙ্গে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু ২০১০ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর, শোয়েব মালিক ২০১০ সালে সানিয়া মির্জাকে বিয়ে করেন। তবে এই সম্পর্কও ব্যর্থ হয়। ২০২৩ সালে তিনি সানিয়া খুল্লা দেন শোয়েবকে। এই বিয়ে থেকে তাঁদের এক সন্তান হয়, যে আপাতত মায়ের সঙ্গেই থাকে। শোয়েব মালিক ২০২৪ সালে তৃতীয়বারের মতো পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানা জাভেদকে বিয়ে করেন। তবে শোনা যায়, বিয়ের মাসখানেক পর থেকেই নাকি সানার সঙ্গে মতভেদ শুরু। এরপর চতুর্থ বিয়ের খবর ছড়ায়।