সম্প্রতি The Alliance শো-এর একটি নতুন প্রোমো প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে সোহেল খানকে প্রশ্ন করা হয়, একই মঞ্চে সীমা সাজদেহকে দেখে তাঁর কেমন লাগছে। উত্তরে অভিনেতা অকপটে বলেন, ভালো লাগছে। এরপরই তিনি এমন একটি মন্তব্য করেন, যা মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

সোহেলের কথায়, ‘আমি এই সুন্দরী মহিলার সঙ্গে ২৫ বছর কাটিয়েছি। আজ জাতীয় টেলিভিশনে আমি স্বীকার করতে চাই, যদি আমাদের সম্পর্কে কোনও ভুল হয়ে থাকে, তবে সেই দায় আমি নিজের কাঁধেই নিতে চাই। সমস্ত দায়িত্বও আমার।’ তাঁর এই বক্তব্য শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য প্রতিযোগীরা করতালিতে ফেটে পড়েন। অন্যদিকে, সীমা সাজদেহকে শান্তভাবে সোহেলের কথা শুনতে দেখা যায়।
শো শুরু হওয়ার আগেই সোহেলকে নিয়ে কী বলেছিলেন সীমা?
এর আগে ফিল্মি জ্ঞান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সীমা সাজদেহ জানিয়েছিলেন, তিনি আগে থেকেই জানতেন যে সোহেলও দ্য অ্যালায়েন্সে অংশ নিচ্ছেন। সীমার কথায়, ‘আমি জানতাম ও শো-তে আসছে। ওকে দেখার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম। শুধু দুঃখের বিষয়, আমি তখন আর থাকব না, কারণ আমি শো থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি। তবে আমার বিশ্বাস, ও খুব ভালো খেলবে। ও নিজের কমফোর্ট জোনের বাইরে এসে এই চ্যালেঞ্জ নিয়েছে। সেটা দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। আমি ওর জন্য গর্বিত।’
‘আমরা চাই বা না চাই, জোট হবই’
সাক্ষাৎকারে সীমাকে আরও প্রশ্ন করা হয়, শো-তে তাঁদের সমীকরণ কেমন হতে পারে।
{{/usCountry}}সাক্ষাৎকারে সীমাকে আরও প্রশ্ন করা হয়, শো-তে তাঁদের সমীকরণ কেমন হতে পারে।
{{/usCountry}}জবাবে তিনি বলেন, ‘আশা করি আমরা একে অপরের অ্যালায়েন্স হব। আসলে আমরা চাই বা না চাই, আমাদের একসঙ্গেই থাকতে হবে।’ তিনি আরও জানান, শো-তে যাওয়ার আগে সোহেল তাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছিলেন।
সীমার কথায়, ‘ও আমাকে বলেছিল, তুমি যেমন, ঠিক তেমনই থেকো। কাউকে তোমাকে ভয় দেখাতে বা চাপে ফেলতে দিও না। আমি ওকে বলেছিলাম, আমার চিন্তার কিছু নেই, কারণ তুমিও তো সেখানে থাকবে।’
ছোট ছেলে ইয়োহানের উৎসাহেই শো-তে অংশগ্রহণ
The Alliance-এ অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে সীমা জানান, এর নেপথ্যে রয়েছে তাঁদের ছোট ছেলে ইয়োহান।
তিনি বলেন, 'আমার ছোট ছেলে ইয়োহান এই বিষয়টি নিয়ে ভীষণ উৎসাহিত ছিল। অবশ্য বড় ছেলে নির্বাণও সমর্থন করেছে। তবে ইয়োহান আমাদের দু'জনকেই বলেছিল, তোমাদের এই শো-তে যেতেই হবে এবং জিতেও ফিরতে হবে।'
বিচ্ছেদের পরও একসঙ্গে পালন করছেন বাবা-মায়ের দায়িত্ব
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সোহেল খান ও সীমা সাজদেহ। সেই সময় সীমার অন্যত্র বাগদান ঠিক হলেও পরে তিনি সেই সম্পর্ক ভেঙে সোহেলের সঙ্গে ঘর বাঁধেন। পরিবারের অমত থাকায় দু'জনে পালিয়ে গিয়েই বিয়ে করেছিলেন।
দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর তাঁদের বিচ্ছেদ হলেও দুই ছেলে—নির্বাণ ও ইয়োহানের দায়িত্ব আজও যৌথভাবেই পালন করছেন সোহেল ও সীমা। ব্যক্তিগত সম্পর্কে ইতি টানলেও, সন্তানদের জন্য এবং পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকে তাঁরা এখনও একে অপরের পাশে রয়েছেন।