পুণের দোঞ্জে গ্রামের নিজস্ব খামারবাড়িতে চোখের জলে শেষবিদায় জানানো হলো ভারতীয় চলচ্চিত্রের কালজয়ী অভিনেতা নানা পাটেকরকে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হলো এই বর্ষীয়ান অভিনেতার শেষকৃত্য। বাবার নশ্বর দেহে মুখাগ্নি করেন পুত্র মলহার পাটেকর। অনুরাগী ও পরিবারের সদস্যদের ‘নানা অমর রহে’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো চত্বর।
রাষ্ট্রীয় সম্মান ও তারকাদের শেষ শ্রদ্ধা:
মৃত্যুর পর গোয়া থেকে যখন ৭৫ বছর বয়সী অভিনেতার পার্থিব দেহ পুণে বিমানবন্দরে পৌঁছায়, তখন সেখানে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস। এরপর খামারবাড়িতে আয়োজিত শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন বিনোদন, রাজনীতি ও সমাজসেবার একাধিক শীর্ষ ব্যক্তিত্ব।
বলিউডের পক্ষে জ্যাকি শ্রফ, সাজিদ নদিয়াদওয়ালা, অনিল শর্মা এবং নানার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মকরন্দ অনাসপুরে উপস্থিত হয়ে প্রবীণ অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়াও মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস পঠাওলে, মুরলীধর মোহল-সহ একাধিক বিশিষ্ট রাজনীতিক ও প্রশাসনিক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
নিজের খামারবাড়িতেই শেষযাত্রার ইচ্ছে:
নানা পাটেকরের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিনেতা নিজেই আগে থেকে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যেন তাঁর শেষকৃত্য শহর থেকে দূরে, প্রকৃতির কোলে তাঁর প্রিয় পুণের খামারবাড়িতেই সম্পন্ন করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াণ ঘটে ‘ক্রান্তিবীর’ তারকার। প্রিয় ‘উদয় শেঠি’কে একঝলক দেখার জন্য দোঞ্জে গ্রামের রাস্তায় মাঝরাতেও হাজার হাজার অনুরাগীর ঢল নেমেছিল। শত শত মানুষের চোখের জলে চিরদিনের মতো রূপোলি পর্দা থেকে বিদায় নিলেন এক অনন্য রূপকার।
পাঁচ দশকের বর্ণময় অভিনয় জীবন
{{/usCountry}}পাঁচ দশকের বর্ণময় অভিনয় জীবন
{{/usCountry}}১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ করা নানা পাটেকর তাঁর তীব্র অভিব্যক্তি, স্বতন্ত্র বাচনভঙ্গি এবং বাস্তবধর্মী অভিনয়ের মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা এক অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
অভিনয়ের সূচনা: ১৯৭৮ সালে মারাঠি ছবি ‘গমন’-এর মাধ্যমে রূপালী পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটে তাঁর।
আইকনিক চরিত্র: ‘পরিিন্দা’, ‘প্রহার’, ‘অঙ্গার’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তেরঙ্গা’, ‘খামোশি’ এবং ‘আব তক ছাপ্পান’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় সিনেমাপ্রেমীদের মনে চিরস্থায়ী আসন তৈরি করে নিয়েছে।
কমেডি চরিত্রে সাফল্য: গম্ভীর ও ক্ষুরধার চরিত্রের পাশাপাশি ‘ওয়েলকাম’ ও ‘হাউসফুল’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মতো বাণিজ্যিকভাবে সফল কমেডি ছবিতে তাঁর সময়জ্ঞান ও হাস্যরসের অভিনয় নতুন প্রজন্মের কাছেও বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
সাম্প্রতিক কাজ: শেষ জীবনেও তিনি সক্রিয়ভাবে অভিনয় চালিয়ে গিয়েছেন। মুক্তিপ্রতীক্ষিত ‘হাউসফুল ৫’, বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’ এবং অনিল কাপুরের সঙ্গে ‘সুবেদার’ ছবিতে তিনি বিশেষ ভূমিকায় কাজ করছিলেন।