লিউড মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে লিঙ্গবৈষম্য, নারীদের পণ্য হিসেবে প্রদর্শন করা এবং নারী কণ্ঠকে কোণঠাসা করার বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার গায়িকা সোনা মহাপাত্র (Sona Mohapatra)। এবার বলিউডের ‘ব্রেক-আপ’ বা বিরহের গান নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। সোনার মতে, বলিউডের সমস্ত জনপ্রিয় বিরহের গান যেন কেবল ‘পুরুষদের জন্যই সংরক্ষিত’ থাকে, সেখানে নারী কণ্ঠের জন্য কোনও জায়গাই রাখা হয় না।

কেরালার একটি সাহিত্য উৎসবে যোগ দিয়ে বলিউডের এই ‘রিস্ক-অ্যাভার্স’ (ঝুঁকি এড়াতে চাওয়া) মিউজিক সিস্টেমকে ধুয়ে দিলেন গায়িকা।
১. “পুরুষরাই কি কেবল ভালোবাসা অনুভব করে?”— সোনা
নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা একটি ভিডিও ক্লিপে সোনা মহাপাত্রকে বলিউডের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন: ‘বলিউডের সমস্ত ব্রেক-আপ বা মন ভাঙার গান ছেলেদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। (গানগুলো শুনলে মনে হয়) যেন কেবল পুরুষদেরই মন ভাঙে, কিংবা বর্তমান সময়ে শুধু ছেলেরাই ভালোবাসা অনুভব করতে পারে! কারণ যখনই আমাকে কোনও ডুয়েট (যুগলবন্দি) গান গাওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে, দেখা গেছে আমাকে দেওয়া হয়েছে কেবল গানের শেষের কোরাসটুকু।’
‘জালিমা’ গানের উদাহরণ এবং প্রীতমকে করা সেই কঠিন প্রশ্ন
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ২০১৭ সালের শাহরুখ খান ও মাহিরা খান অভিনীত ‘রইস’ ছবির সুপারহিট গান ‘জালিমা’ (Zaalima)-র প্রসঙ্গ টানেন সোনা— যদিও তথ্যগতভাবে এই গানটি গেয়েছিলেন অরিজিৎ সিং ও হর্ষদীপ কৌর। সোনা জানান, এই ধরণের গানের কাঠামো দেখে তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘গানের মুখড়া, অন্তরা, আবার মুখড়া, অন্তরা— সবকিছুই পুরুষ গায়ক গেয়ে যান। এতে অরিজিতের কোনও দোষ নেই, ও দারুণ শিল্পী। কিন্তু নারী কণ্ঠটি কেন একদম শেষে আসবে? আমি সঙ্গীত পরিচালক প্রীতমকে প্রশ্ন করেছিলাম— ‘তাড়াতাড়ি বলো, এই লোকটা কি নিজের সাথেই প্রেম করছে? এটা কেমন ধরণের ডুয়েট গান? আমি কেন একদম শেষে আসব?’ জানিয়ে রাখি, রইস অ্যালবমে সোনা মহাপাত্রের গলায় জালিমা গানটি রয়েছে, তবে তা ছবির অংশ হতে পারেনি। পাশাপাশি অরিজিৎ ইতিমধ্য়েই মেনস্ট্রিম বলিউড মিউজিককে বিদায় জানিয়েছেন। স্পষ্ট বলেছেন, আর প্লে-ব্যাক করবেন না তিনি।
{{/usCountry}}তিনি বলেন, ‘গানের মুখড়া, অন্তরা, আবার মুখড়া, অন্তরা— সবকিছুই পুরুষ গায়ক গেয়ে যান। এতে অরিজিতের কোনও দোষ নেই, ও দারুণ শিল্পী। কিন্তু নারী কণ্ঠটি কেন একদম শেষে আসবে? আমি সঙ্গীত পরিচালক প্রীতমকে প্রশ্ন করেছিলাম— ‘তাড়াতাড়ি বলো, এই লোকটা কি নিজের সাথেই প্রেম করছে? এটা কেমন ধরণের ডুয়েট গান? আমি কেন একদম শেষে আসব?’ জানিয়ে রাখি, রইস অ্যালবমে সোনা মহাপাত্রের গলায় জালিমা গানটি রয়েছে, তবে তা ছবির অংশ হতে পারেনি। পাশাপাশি অরিজিৎ ইতিমধ্য়েই মেনস্ট্রিম বলিউড মিউজিককে বিদায় জানিয়েছেন। স্পষ্ট বলেছেন, আর প্লে-ব্যাক করবেন না তিনি।
{{/usCountry}}‘আইকনিক নারী তারকা তৈরি না হওয়ার পেছনে দায়ী এই সিস্টেম’
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিতর্ক নিয়ে আলোচনা টেনে সোনা কমেন্ট সেকশনে লেখেন যে, এটি আসলে ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের সঠিক প্রতিনিধিত্বের লড়াই। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইন্ডাস্ট্রি নারীদের কেন্দ্র করে আইকনিক গল্প বা গান তৈরি করা বন্ধ করে দেয়, তবে আগামীদিনে ভারত কোনও আইকনিক নারী সঙ্গীত তারকাও পাবে না।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিষয়টা এমন নয় যে মহিলারা কখনও বিরহের গান গাননি। মূল সমস্যা হলো, বলিউড মেয়েদের জন্য এই ধরণের গান লেখাই বন্ধ করে দিয়েছে। যে ইন্ডাস্ট্রি বিগত দুই দশক ধরে তাদের ৮০-৯০% বড় রোম্যান্টিক এবং ব্রেক-আপের গান পুরুষ কণ্ঠকে উপহার দিয়ে আসছে, তারা যেন আজ সমমানের মহিলা তারকা না পেয়ে অবাক না হয়। এটা সিস্টেমের সমস্যা, এখানে কেউ ভিক্টিম নয়। আগে গানগুলো গুনুন, তারপর আমার সাথে কথা বলতে আসবেন।’