...
...
Next Story

‘তাবু জাতীয় পুরস্কার পাওয়ায় আমার বুক জ্বলেছিল’, হিংসের কথা অকপটে স্বীকার সোনালির

৩০ বছর আগে মাচিস ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন তাবু। এই সিদ্ধান্ত মন ভেঙেছিল সোনালি কুলকার্নির। হিংসায় ফেটে পড়েছিলেন তিনি।

Published on: Jun 28, 2026, 10:00:56 IST
Advertisement

বলিউডের ছবির ইতিহাসে এমন কিছু সিনেমা রয়েছে, যা কালজয়ী বা ‘ক্ল্যাসিক’ (Classic) তকমা পেয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রখ্যাত গীতিকার ও পরিচালক গুলজারের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া ‘মাচিস’ তেমনই একটি ছবি। এই সিনেমাটিতে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ (National Award) পেয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী তাবু (Tabu)। কিন্তু আপনি কি জানেন, তাবুর এই বিশাল প্রাপ্তি দেখে বলিউডেরই এক নামী অভিনেত্রী হিংসা ও রাগে ফেটে পড়েছিলেন?

‘তাবু জাতীয় পুরস্কার পাওয়ায় আমার বুক জ্বলেছিল’, হিংসের কথা অকপটে স্বীকার সোনালির (IMDb and Instagram)
‘তাবু জাতীয় পুরস্কার পাওয়ায় আমার বুক জ্বলেছিল’, হিংসের কথা অকপটে স্বীকার সোনালির (IMDb and Instagram)

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই পুরোনো ইনসিকিউরিটি, রাগ এবং ঈর্ষার কথা অকপটে স্বীকার করে বড়সড় খোলসা করলেন অভিনেত্রী সোনালী কুলকার্নি।

‘যে-ই পুরস্কার পেত, আমার বুক জ্বলত’— সোনালী কুলকার্নি

‘স্ক্রিন’ (Screen)-কে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে সোনালী কুলকার্নি তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর মানসিক টানাপোড়েন নিয়ে কথা বলেন। অত্যন্ত সততার সাথে তিনি মেনে নেন, সেই সময় জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার জন্য তিনি এতটাই মরিয়া ছিলেন যে অন্য কাউকে সেই ট্রফি হাতে নিতে দেখলেই ওঁর প্রচণ্ড হিংসা হতো।

সোনালী জানান, ‘সেই সময়ে আমার করা বেশ কিছু সিনেমা জাতীয় পুরস্কারের দৌড়ে একদম ফাইনাল রাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছাত। কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে এসে আমি বাদ পড়ে যেতাম আর অন্য কেউ পুরস্কারটা জিতে নিত। এই কারণে আমি ভীষণ হতাশ এবং মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েছিলাম। যদিও আমি অন্যান্য অনেক পুরস্কার পাচ্ছিলাম, কিন্তু মনের কোণে ওই ‘ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ার জেদটা বড্ড বেশি চেপে বসেছিল।’

সোনালী জানান, যখন তাবু ‘মাচিস’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কারটি ছিনিয়ে নেন, তখন নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য তিনি তখনকার ইন্ডাস্ট্রির একটা চেনা সংলাপ আওড়াতেন— ‘ও তো বাণিজ্যিক ছবির দুনিয়ার (বলিউড) চেনা মুখ, তাই পেয়েছে’।

নিজের সেই তীব্র ঈর্ষা এবং তা কাটিয়ে ওঠার অবিশ্বাস্য গল্প শুনিয়ে সোনালী বলেন, ‘আমি তাবুর ওপর এতটাই রেগে গিয়েছিলাম এবং এত হিংসা হচ্ছিল যে, শেষমেশ রাগ সামলাতে না পেরে ওঁর ওই ‘মাচিস’ ছবিটাই দেখে ফেললাম। আর ওঁর অভিনয় দেখার পর আমার ভেতরের সমস্ত রাগ, অস্থিরতা আর ইনসিকিউরিটি এক লহমায় ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেল। এরপর যখন আমি তাবুর ‘মাচিস’, ‘অস্তিত্ব’ এবং ‘চাঁদনী বার’-এর মতো সিনেমাগুলো একে একে দেখলাম, প্রতিবার ওঁর রাগের বদলে ওঁর অভিনয়ের প্রেমে পড়ে গেলাম।’

দেরিতে হলেও পূরণ হয়েছে সোনালীর স্বপ্ন

সেদিনের সেই তরুণী সোনালীর হতাশা কিন্তু চিরস্থায়ী হয়নি। সময়ের সাথে সাথে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। অবশেষে ২০২২ সালে সোনালী কুলকার্নিরও জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সত্যি হয়। একটি মারাঠি শর্ট ফিল্ম ‘ক্রান্তি কনাডে’-র জন্য তাঁকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড)-এ ভূষিত করা হয়।

ওম পুরী, টাবু, চন্দ্রচূড় সিং, কানওয়ালজিৎ সিং, কুলভূষণ খারবান্দা, সুনীল সিনহা, জিমি শেরগিল, এস এম জহির এবং রাজ জুৎসির মতো শিল্পীদের একফ্রেমে দেখা গিয়েছিল মাচিসে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe