পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের আশানুরূপ ফল না হওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। দিল্লিতে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বৈঠকের মাঝেই তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফা দেওয়ার খবর রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তবে এই ভাঙন জল্পনায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে টলিউডের ‘কুইন’ তথা তৃণমূলের নতুন সাংসদ কোয়েল (রুক্মিণী) মল্লিকের নাম!

রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা— সুখেন্দুশেখরের পাশাপাশি কোয়েল মল্লিকও রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা পারেন। চলতি বছরের (২০২৬) এপ্রিল মাসেই তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মাথাতেই তাঁর এই সম্ভাব্য পদত্যাগের জল্পনা টলিপাড়া থেকে শুরু করে দিল্লির রাজনীতিতে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে।
বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের তরফে কোয়েলকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল। সেই ঘোষণা চমকে দিয়েছিল গোটা বাংলাকে। আচমকা নায়িকার রাজনীতিতে প্রবেশকে ভালো চোখে দেখেননি অনেকেই। কোয়েল অবশ্য় বলেছিলেন তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে চান। সেই কারণেই ঘাসফুলে শিবিরে আসা। দু-মাসেই দুম করে কেন মোহভঙ্গ হল তাঁর?
একজন রাজ্যসভার সাংসদের মাসিক মাইনে ও সুযোগ-সুবিধা কত?
কোয়েল মল্লিকের এই ইস্তফা জল্পনার মাঝেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে— দেশের একজন রাজ্যসভা সাংসদ (Rajya Sabha MP) প্রতি মাসে ঠিক কত টাকা মাইনে এবং কী কী সুযোগ-সুবিধা পান? ভারতের সংবিধান ও সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, একজন সাংসদের বেতন ও ভাতা অত্যন্ত আকর্ষণীয়:
একজন রাজ্যসভা সাংসদের প্রতি মাসের মূল বেতন ১,২৪,০০০ টাকা (১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা)।
{{/usCountry}}একজন রাজ্যসভা সাংসদের প্রতি মাসের মূল বেতন ১,২৪,০০০ টাকা (১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা)।
{{/usCountry}}নির্বাচনী এলাকা ভাতা: নিজের নির্বাচনী এলাকার কাজ এবং দেখভালের জন্য প্রতি মাসে আরও ৭০,০০০ টাকা দেওয়া হয়।
অফিস খরচ ভাতা : অফিসের কাজকর্ম, কর্মী রাখা এবং স্টেশনারি খরচের জন্য প্রতি মাসে আরও ৬০,০০০ টাকা বরাদ্দ থাকে।
মোট মাসিক আয়: সব মিলিয়ে প্রতি মাসে একজন সাংসদ নির্দিষ্টভাবে প্রায় ২,৩০,০০০ টাকা (২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা) বেতন ও ভাতা বাবদ পেয়ে থাকেন।
বেতন ছাড়াও মেলে আরও রাজকীয় সুবিধা
শুধুমাত্র মাসিক মাইনে বা ভাতাই নয়, সংসদের অধিবেশন চলাকালীন এবং অন্যান্য সময়েও সাংসদেরা একাধিক অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন:
দৈনিক ভাতা: যখন সংসদে অধিবেশন চলে বা কোনও কমিটির বৈঠক থাকে, তখন প্রতিদিন হাজিরা দেওয়ার জন্য ২৫,০০০ টাকা করে দৈনিক ভাতা দেওয়া হয়।
ভ্রমণ সুবিধা : সাংসদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিনামূল্যে ট্রেন এবং বিমান যাত্রার সুবিধা থাকে। এছাড়া সড়কপথে ভ্রমণের জন্য প্রতি কিলোমিটার পিছু মাইলেজ ভাতাও মেলে।
বিনামূল্যে বাসস্থান ও চিকিৎসা: দিল্লির লাটিয়েন্স জোনে বা পশ এলাকায় সরকারি বাংলো বা ফ্ল্যাট দেওয়া হয় বিনামূল্যে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জল এবং নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ফোন ও ইন্টারনেট খরচ সম্পূর্ণ ফ্রি। একই সাথে রয়েছে উচ্চমানের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য সুবিধা (CGHS)।
আজীবন পেনশন: সাংসদ পদ চলে যাওয়ার বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাঁরা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণে আজীবন পেনশন পাওয়ার অধিকারী হন।
মাত্র ২ মাসেই কেন এই মোহভঙ্গ?
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যখন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভার জন্য কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করেন, তখন তা ছিল এক মস্ত বড় চমক। ৩রা এপ্রিল সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর মেয়াদ ছিল ২০৩২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। কিন্তু দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরেই কি টলি-কুইন এত বড় আর্থিক ও রাজনৈতিক পদমর্যাদা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন সেদিকেই।