বিশ্বজুড়ে হলিউড সিনেমা এবং মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স (MCU)-এর জনপ্রিয় সুপারহিরো স্পাইডার-ম্যানের আবেদন সবসময়ই তুঙ্গে। পিটার পার্কারের ভূমিকায় টম হল্যান্ডের (Tom Holland) উপস্থিতি সবসময়ই সিনেমাপ্রেমী ও বক্স অফিসে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করে। মার্ভেল ও সোনি পিকচার্সের যৌথ প্রযোজনায় মুক্তিপ্রাপ্ত স্পাইডার-ম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন ছবি ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ (Spider-Man: Brand New Day) বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে পা রাখার সাথে সাথেই বক্স অফিসে আক্ষরিক অর্থেই আছড়ে পড়েছে রেকর্ডের ঝড়।

আন্তর্জাতিক বিনোদন মাধ্যম ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’ (The Hollywood Reporter)-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক বক্স অফিস রিপোর্ট অনুযায়ী, ওপেনিং উইকেন্ডেই বিশ্বজুড়ে ব্যবসার সমস্ত পূর্ববর্তী রেকর্ড দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস গড়েছে ছবিটি। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে শুরু করে উত্তর আমেরিকার দেশীয় বক্স অফিসে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে দিয়েছে যে স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তা আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। টম হল্যান্ডের এই নতুন স্পাইডার-ম্যান ছবির মহাবক্স অফিস সাফল্য, রেকর্ড ওপেনিং কালেকশন এবং বিশ্বব্যাপী উন্মাদনা সবাইকে চমকে দিয়েছে।
মার্ভেলের ‘নো ওয়ে হোম’ (No Way Home)-এর বিশাল সাফল্যের পর ভক্তদের মনে নতুন এই ছবিটিকে নিয়ে কৌতুহল ও প্রত্যাশার অন্ত ছিল না। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই থিয়েটারগুলোতে হাউসফুল বোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে এবং প্রথম সপ্তাহান্তেই বিশ্বজুড়ে ব্যবসা ছাড়িয়ে গেছে কয়েকশো মিলিয়ন ডলার।
১. উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে রেকর্ড ভাঙা আয়
দ্য হলিউড রিপোর্টার সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ উদ্বোধনী দিনেই বক্স অফিসে দুর্দান্ত সূচনা করে। উত্তর আমেরিকার মার্কেটে এবং বিশ্ববাজারের আন্তর্জাতিক সার্কিটে ছবিটি যেভাবে ব্যবসা শুরু করেছে, তা পোস্ট-প্যান্ডেমিক বা মহামারীর পরবর্তী যুগে হলিউডের অন্যতম সেরা ওপেনিং হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। কেবল দেশীয় বক্স অফিসেই নয়, এশিয়া, ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকার মতো বিশাল মার্কেটগুলোতেও একের পর এক থিয়েটার শো হাউসফুল গিয়েছে।
২. টম হল্যান্ডের স্ক্রিন প্রেজেন্স ও নতুন গল্পসূত্র
পিটার পার্কার হিসেবে টম হল্যান্ডের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করছেন সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক চিত্রসমালোচকেরা। আগের ফ্র্যাঞ্চাইজির ঘটনাপ্রবাহের পর স্পাইডার-ম্যানের জীবনে আসা নতুন চ্যালেঞ্জ, পরিচয় গোপন রেখে লড়াই করা এবং সম্পূর্ণ নতুন ভিলেনদের সাথে তাঁর মুখোমুখি যুদ্ধ দর্শকদের সিটে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে ছবির অ্যাকশন দৃশ্য, উন্নত সিজিআই (CGI) এবং আবেগঘন মুহূর্তগুলো প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের হাততালি কুড়িয়েছে।
৩. বিশ্বজুড়ে ভক্তদের বাঁধভাঙা উন্মাদনা
{{/usCountry}}পিটার পার্কার হিসেবে টম হল্যান্ডের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করছেন সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক চিত্রসমালোচকেরা। আগের ফ্র্যাঞ্চাইজির ঘটনাপ্রবাহের পর স্পাইডার-ম্যানের জীবনে আসা নতুন চ্যালেঞ্জ, পরিচয় গোপন রেখে লড়াই করা এবং সম্পূর্ণ নতুন ভিলেনদের সাথে তাঁর মুখোমুখি যুদ্ধ দর্শকদের সিটে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে ছবির অ্যাকশন দৃশ্য, উন্নত সিজিআই (CGI) এবং আবেগঘন মুহূর্তগুলো প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের হাততালি কুড়িয়েছে।
৩. বিশ্বজুড়ে ভক্তদের বাঁধভাঙা উন্মাদনা
{{/usCountry}}ছবিটি মুক্তির পর থেকেই আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডিংয়ে শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের বহু বড় হলিউড ব্লকবাস্টারকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের এই ভিড় ও পজিটিভ ওয়ার্ড-অফ-মাউথ (Word of Mouth) বজায় থাকলে খুব দ্রুতই এই ছবি বিশ্বজুড়ে বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে পা রাখবে।
হলিউড ও মার্ভেলের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস
সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বড় বাজেটের হলিউড ছবি বক্স অফিসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে ব্যর্থ হলেও, স্পাইডার-ম্যানের এই অভূতপূর্ব উত্থান সামগ্রিক চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসা ও থিয়েটার ব্যবস্থার জন্য এক নতুন আশার আলো ফুটিয়ে তুলেছে। মার্ভেল ও সোনি পিকচার্স তাদের যৌথ প্ল্যাটফর্মে যে আবারও এক মাস্টারপিস উপহার দিয়েছে, তা স্পষ্ট।
টম হল্যান্ড ও সোনি-মার্ভেলের ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ প্রমাণ করে দিল যে শক্তিশালী গল্প, দুর্দান্ত অ্যাকশন ও সুপারহিরো ইমোশন ঠিকমতো ফুটিয়ে তুলতে পারলে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের ধরে রাখা অসম্ভব কিছু নয়। আগামী দিনগুলোতে ছবিটি বক্স অফিসে আরও বেশ কিছু পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ে তুলবে বলেই মত বিশ্ব চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের।