পরিচালক অনীক দত্তর প্রয়াণের পর টলিপাড়ার জল যে ক্রমশ ঘোলা হচ্ছে, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। এবার প্রয়াত পরিচালকের এক বান্ধবী তথা পেশায় বিজ্ঞানী পর্ণালী ধর চৌধুরীর স্মৃতিচারণ এবং অনীক দত্তকে নিয়ে বই লেখার ইচ্ছাপ্রকাশকে কেন্দ্র করে বেঁধে গেল তুমুল বিতর্ক। পর্ণালীর এই উদ্যোগকে স্রেফ ন্যাকামো, ফেক এবং সুবিধাবাদ বলে তোপ দাগলেন গায়িকা পরমা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিশিষ্ট অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। সোশ্যালে পরমার একটি বিস্ফোরক পোস্ট শেয়ার করে পর্ণালীকে পরজীবী বলে বেনজির আক্রমণ শানালেন শ্রীলেখা।

অনীকদাকে ভাঙিয়ে সেলেব হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা!
বিতর্কের সূত্রপাত একটি খবরকে কেন্দ্র করে, যেখানে অনীক দত্তর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁর বন্ধু পর্ণালী ধর চৌধুরী জানিয়েছিলেন যে তিনি অনীকদাকে নিয়ে একটি বই লিখবেন। এই খবরটি নজরে আসতেই নিজের ফেসবুকের দেওয়ালে ক্ষোভ উগরে দেন গায়িকা পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরমা স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, ‘ন্যাকামি এবং ফেক। আপাদমস্তক। সবাই এটাই মনে করলেও মুখে কথাটা ব্লান্টলি বলে খারাপ হব একমাত্র আমি। তাতে আমার কিচ্ছু এসে যায় না। কারণ অনীকদা চলে গেলেন। উনি এখন অনীকদাকে আরও খানিকটা ভাঙিয়ে যতটুকু সেলেব হওয়া যায় তার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। আর মুখ খুললাম না।’
প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে ব্লক করেছিলেন! বিস্ফোরক শ্রীলেখা
পরমার এই পোস্টটি আর এড়িয়ে যেতে পারেননি অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। সেটি নিজের ওয়ালে শেয়ার করে পর্ণালীর বিরুদ্ধে আরও মারাত্মক সব অভিযোগ আনেন তিনি। শ্রীলেখা লেখেন, ‘চোখে পড়েছিল আগেই আর ইগনোর করতে পারলাম না। পরমা ঠিক লিখেছেন। এই সায়েন্টিস্ট নাকি যেন মহিলা অনীকদার শেষ জীবনে বন্ধু ভাব দেখিয়ে সেলিব্রিটি কন্ট্যাক্টস বানিয়ে এখন নাকি অনীকদার ওপর বই লিখবেন!’
পর্ণালীকে সরাসরি আক্রমণ করে শ্রীলেখা আরও যোগ করেন, ‘পর্ণালী, আপনি অনীকদার সাথে ঘুরে কন্ট্যাক্টস বানিয়েছেন তারপর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তাঁকে ব্লক করেছিলেন, সেটা আমরা অনেকেই জানি। আজ ওনার প্রতি দরদ উথলে উঠল? আপনিও ওনার মানসিক ক্ষতি করেছেন, তার দায় নিন। তাছাড়া আপনি কী জানেন ওনার ব্যাপারে যে আপনি ওনার বায়োগ্রাফি লিখবেন?’
{{/usCountry}}পর্ণালীকে সরাসরি আক্রমণ করে শ্রীলেখা আরও যোগ করেন, ‘পর্ণালী, আপনি অনীকদার সাথে ঘুরে কন্ট্যাক্টস বানিয়েছেন তারপর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তাঁকে ব্লক করেছিলেন, সেটা আমরা অনেকেই জানি। আজ ওনার প্রতি দরদ উথলে উঠল? আপনিও ওনার মানসিক ক্ষতি করেছেন, তার দায় নিন। তাছাড়া আপনি কী জানেন ওনার ব্যাপারে যে আপনি ওনার বায়োগ্রাফি লিখবেন?’
{{/usCountry}}আমাদের জীবনে এরা আসলে পরজীবী
টলিপাড়ার ভেতরে কাজের সুযোগ বা চেনা পরিচিতি বাড়ানোর জন্য অনেকেই যে তারকাদের ব্যবহার করেন, সেই তেতো সত্যটাও উগরে দিয়েছেন শ্রীলেখা। তাঁর কথায়, এরকম অনেকেই আসে আমাদের জীবনে যারা আমাদের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেন, কন্ট্যাক্টস, সুযোগ সুবিধে নেওয়ার জন্য। এক প্রকার পরজীবী বা প্যারাসাইটস।
পোস্টের শেষে অনীক দত্তর প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি অর্থাৎ টুটুলদির পাশে দাঁড়িয়েছেন শ্রীলেখা। নীতিপুলিশদের উদ্দেশ্যে তাঁর কড়া বার্তা, টুটুলদিকে না জেনে ট্রোল করা বন্ধ করুন। অনীকদার মতো একটা বড় বাচ্চাকে সামলেছিলেন বলেই অনীকদা কাজ করতে পেরেছিলেন। সব মিলিয়ে, অনীক দত্তর মৃত্যুর পর শোকপ্রকাশের আড়ালে টলিপাড়ার যে এক অন্য নোংরা লড়াই ও স্বার্থের সমীকরণ লুকিয়ে ছিল, পরমা ও শ্রীলেখার এই যৌথ আক্রমণ যেন সেটাই প্রকাশ্যে এনে দিল।