সম্প্রতি নিজের জন্মদিনে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষকে কেক খাইয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ট্রোলিং ও আক্রমণের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। কুণাল ঘোষ ও শ্রীলেখা দুজনেই পশুপ্রেমী, তাই রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে অবলাদের স্বার্থে পথপশুদের একটি বিশেষ ক্যাম্পে একসঙ্গে হাজির হয়েছিলেন তাঁরা। তবে সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শ্রীলেখার রাজনৈতিক অবস্থান ও দলবদল নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ কটাক্ষ করতে শুরু করেন। অবশেষে সেইসব জল্পনা ও ট্রোলিংয়ের কড়া জবাব দিলেন অভিনেত্রী।

ট্রোলিংয়ের জবাবে শ্রীলেখা মিত্রের স্পষ্ট বক্তব্য: কুণাল ঘোষকে কেক খাওয়ানো মানেই দল পরিবর্তন করা নয়। তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন, কেবল একটি বামপন্থী আদর্শকে সমর্থন করেন। আর সেই আদর্শ মেনে চলেন বলেই গলবস্ত্র হয়ে কখনো সরকারি সুবিধা বা অনুদান নেননি।
শ্রীলেখা জোর গলায় জানান, গত ১৫ বছরে তিনি শাসকদলের কারও কাছ থেকে কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা বা সাহায্য নেননি। উল্টে সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করার মাশুল হিসেবে তাঁর কাজের সংখ্যা কমেছে।
গত ৩০শে অগস্ট কুণাল ঘোষও শ্রীলেখাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘আজ ওঁর (শ্রীলেখা মিত্র) জন্মদিনও বটে। সবাই মিলে কেক কাটা হল। রাজনীতির মতামত আলাদা। কিন্তু পশুপ্রেমে একমত থাকাই ভালো।’
অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা:
বর্তমান বা ভবিষ্যৎ—কোনো সরকারের কাছেই তিনি সাহায্য চাননি এবং চাইবেনও না। নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়েই তিনি ও তাঁর পোষ্যরা মাথা উঁচু করে বাঁচবেন।চারপেয়ে পথশিশুদের কল্যাণে কুণাল ঘোষসহ যাঁরা এগিয়ে এসেছেন এবং সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অভিনেত্রী।
পশুপ্রেমই অগ্রাধিকার:
শ্রীলেখার কাছে এই পথপশুরা সন্তানসম। ওদের ভালোর জন্য প্রয়োজনে তিনি অতীতে তাঁকে কটু কথা বলা মানুষদের কাছেও সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না, এতে তাঁর কোনো ‘ইগো’ বা অহংকার ছোট হয় না। সবশেষে ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে অভিনেত্রী বার্তা দেন— এসব অহেতুক বিতর্ক বাদ দিয়ে সম্ভব হলে সবাই যেন অন্তত দুটো ‘পার্লে-জি’ বিস্কুট কিনে রাস্তার পথপশুদের খাইয়ে দেন।