কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর রেশ কেটেছে। এবার মা কালীর আরাধনায় মেতে ওঠবার পালা। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় আম বাঙালির মতো মেতে ওঠেছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সেই ঘরোয়া সেলিব্রেশনের মুহূর্ত তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।

লক্ষ্মী পুজোয় নিজের হাতে আল্পনা আঁকা থেকে শুরু করে ফল কাটা, নৈবেদ্য সাজানো সবই করেছেন শ্রীলেখা। তবে লক্ষ্মীর পাঁচালিতে লেখা নারীদের বিধিনিষেধ নিয়ে আপত্তি শ্রীলেখা মিত্রর। আড়ম্বরপূর্ণ পুজো নয়, ঈশ্বরের সঙ্গে আন্তরিক আত্মিক সম্পর্ককেই প্রাধান্য দেন তিনি। সম্প্রতি এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে ছোটবেলার ভাবনা, লক্ষ্মীর পাঁচালির কিছু বিতর্কিত লাইন এবং নারী স্বাধীনতা নিয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করেন অভিনেত্রী।
লক্ষ্মীর পাঁচালি ও শ্রীলেখার শৈশবের প্রশ্ন:
শ্রীলেখা আম অর্পিতাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, মাত্র ১১-১২ বছর বয়সে যখন তাঁর মা তাঁকে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়তে দিতেন, তখনই পাঁচালির বেশ কিছু লাইন মেনে নিতে পারতেন না তিনি। পাঁচালিতে থাকা নির্দেশাবলী যেমন— ‘পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলবে না’ কিংবা ‘স্বামীর আগে খাবে না’—এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতেন তিনি। শ্রীলেখার কথায়, তখন নারীবাদ (Feminism) সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও তাঁর মনে প্রশ্ন জাগত— 'একজন মেয়ে কেন নিজের ইচ্ছামতো খাবে না বা অন্য পুরুষের সঙ্গে হাসাহাসি ও কথা বলতে পারবে না?'
অভিনেত্রীর মতে, এগুলো দেবী লক্ষ্মীর নিজস্ব কোনো বার্তা নয়; বরং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নিজেদের সুবিধা ও নারীদের দমিয়ে রাখার জন্য এই নিয়মগুলো তৈরি করেছে।
{{/usCountry}}অভিনেত্রীর মতে, এগুলো দেবী লক্ষ্মীর নিজস্ব কোনো বার্তা নয়; বরং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নিজেদের সুবিধা ও নারীদের দমিয়ে রাখার জন্য এই নিয়মগুলো তৈরি করেছে।
{{/usCountry}}ব্যক্তিগত পুজো ও সমাজভাবনা:
লোকদেখানো জাঁকজমক বাদ দিয়ে নিজের বাড়িতে একদম সাধারণভাবে লক্ষ্মীপুজো করেন শ্রীলেখা। তাঁর কাছে অর্থ-সম্পদের অন্ধ অনুকরণ নয়, বিদ্যা ও সম্পদের দেবী লক্ষ্মী ও সরস্বতীর আশীর্বাদে জীবনকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আসল।
সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক চোরবাগান দুর্ঘটনায় শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন শ্রীলেখা। এছাড়া নিষিদ্ধ শব্দবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং পোষ্যদের প্রতি ভালোবাসা ও সুরক্ষা নিয়েও জনগণে সজাগ থাকতে বলেন শ্রীলেখা। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মাচারের নামে নারীদের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে খাটো করার মানসিকতা বদলানোর আহ্বান জানিয়েছেন এই টলি-অভিনেত্রী।