কলকাতার সিজেপি (CJP) আন্দোলনের প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়ে আচমকাই নেটপাড়ার তুমুল বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকৃত’ পোস্টার হাতে তুলে নেওয়ার পর থেকেই অভিনেত্রীর ওপর ধেয়ে আসছে ক্রমাগত আক্রমণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তা দিয়ে তিনি আগেই স্পষ্ট করেছিলেন যে ভুলবশতই ঘটনাটি ঘটেছিল। কিন্তু তাতেও থামেনি বিতর্ক ও ট্রোলিং। আসলে অভিনেত্রীর সাফাইকে অনেকেই হজম করতে পারেননি। এবার সেই সমস্ত মানসিক হেনস্থা, কুরুচিকর মন্তব্য ও হুমকি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ বিস্ফোরক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিনেত্রী।

'গণতন্ত্রে প্রশ্ন তোলা কি অপরাধ?' হেনস্থার খতিয়ান দিলেন শ্রীলেখা
শ্রীলেখা নিজের পোস্টে স্পষ্ট জানান, ‘আমরা এখনো একটি গণতান্ত্রিক দেশে বাস করি যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার পূর্ণ অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। অথচ আমার ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টাই এক বিভীষিকাময় রূপ নিয়েছে’। অনিচ্ছাকৃত ভুলের সাফাই দেওয়ার পরেও ওনাকে লাগাতার সহ্য করতে হচ্ছে কুরুচিকর আক্রমণ:
প্রাণনাশের ও ধর্ষণের হুমকি: সোশ্যাল মিডিয়ায় নিত্যদিন অভিনেত্রীকে দেওয়া হচ্ছে খুনের ও ধর্ষণের মতো বীভৎস হুমকি।
বডি শ্লেমিং ও স্লাট শ্লেমিং: শ্রীলেখার শরীর, বয়স ও চরিত্র নিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের মন্তব্য চালাচ্ছে ট্রোলারদের একাংশ।
আইনি চাপ: অনিচ্ছাকৃত ভুলের অপরাধে শ্রীলেখার বিরুদ্ধে রুজু করা হয়েছে একের পর এক এফআইআর (FIR)।
আরএসএস নেতার 'রেপ লাভার' মন্তব্য ও সমাজের দ্বিচারিতা নিয়ে সওয়াল
নিজের এই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সম্প্রতি এক আরএসএস নেতার বিতর্কিত মন্তব্য শ্রীলেখার ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। প্রতিবাদী ও স্পষ্টবক্তা নারীদের উদ্দেশ্য করে সেই নেতার 'রেপ লাভার' (Rape Lover)-এর মতো অপমানজনক শব্দ প্রয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
শ্রীলেখার সোজা প্রশ্ন, প্রভাবশালীরা যখন প্রকাশ্যে নারীদের সম্মানহানি করে এমন ন্যক্কারজনক ভাষা ব্যবহার করতে পারেন, তখন একজন আমজনতা বা অভিনেত্রীর অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি পোস্টার হাতে নেওয়া কেন এত বড় অপরাধ হয়ে গেল? কোনটা গণতন্ত্রের মূল ভাবনার পরিপন্থী?
{{/usCountry}}শ্রীলেখার সোজা প্রশ্ন, প্রভাবশালীরা যখন প্রকাশ্যে নারীদের সম্মানহানি করে এমন ন্যক্কারজনক ভাষা ব্যবহার করতে পারেন, তখন একজন আমজনতা বা অভিনেত্রীর অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি পোস্টার হাতে নেওয়া কেন এত বড় অপরাধ হয়ে গেল? কোনটা গণতন্ত্রের মূল ভাবনার পরিপন্থী?
{{/usCountry}}হুমকির মুখে অনড় অভিনেত্রী
প্রতিবাদের স্বাধীনতা আর বাকস্বাধীনতার অধিকারকে এভাবে পদে পদে খর্ব করা এবং নারীদের প্রতি সমাজজুড়ে ক্রমাগত বিদ্বেষ ছড়ানোর এই বিপজ্জনক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে শ্রীলেখা ফের একবার প্রমাণ করলেন, ট্রোলিং বা হুমকির মুখে নতি স্বীকার করার পাত্রী তিনি নন!