রাজ্যে রাজনৈতিক হাওয়া বদল হতেই টলিপাড়ার অন্দরের সমীকরণগুলো যেন বড্ড তাড়াতাড়ি খোলস বদলাতে শুরু করেছে। এতদিন যারা শাসকদলের হয়ে গলা ফাটিয়েছেন, রাজপথে কিংবা মঞ্চে প্রথম সারিতে থেকেছেন, আজ তারাই নিজেদের ‘ভুল’ বা ‘বাধ্যবাধকতা’র গল্প শোনাচ্ছেন আমজনতাকে। আর ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীদের এই ভোলবদল ও সাফাই গাওয়ার হিড়িক দেখেই এবার সমাজমাধ্যমে তীব্র উপহাস করলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। এক লাইনের পোস্টে বিনোদন দুনিয়ার মেকি মুখোশটা এক টানে খুলে দিলেন নায়িকা।

কী লিখেছেন শ্রীলেখা?
ফেসবুকের দেওয়ালে শ্রীলেখা মিত্র ছোট করে অথচ অত্যন্ত কড়া ভাষায় লিখেছেন— কেউ বাচ্চার দোহাই তো কেউ হরলিক্সের... কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায় #ধন্দাবাজি।
পরমব্রত ও সোহমকে নিয়ে ঠিক কোন প্রসঙ্গে এই খোঁচা?
টলিপাড়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর দিকে নজর রাখলেই শ্রীলেখার এই ‘বাচ্চার দোহাই’ আর ‘হরলিক্স’-এর রহস্য এক নিমেষে পরিষ্কার হয়ে যায়। অভিনেতা তথা পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় তাঁর অতীতে তৃণমূলে যোগ দেওয়া এবং ঘাসফুল শিবিরের মঞ্চে গিয়ে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে এক চাঞ্চল্যকর সাফাই দিয়েছেন। ফেডারেশনের এক হাইভোল্টেজ মিটিংয়ে এসে পরমব্রত সাফ জানালেন, বিগত সরকারের জমানায় টলিউডে যে অনাচার আর একনায়কতন্ত্র চলত, তার জেরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল তাঁর। আর তাই নিজের সদ্যোজাত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ‘দাঁতে দাঁত চিপে’ তিনি তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে আপোস করতে বাধ্য হয়েছিলেন!
রাজনীতি না ছাড়লেও আপতত একটু বিরতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন, তৃণমূলের হেরো-প্রার্থী সোহম চক্রবর্তীও।
‘ধন্দাবাজি’ হ্যাশট্যাগে চরম বিদ্রুপ:
{{/usCountry}}‘ধন্দাবাজি’ হ্যাশট্যাগে চরম বিদ্রুপ:
{{/usCountry}}শ্রীলেখার মতে, ক্ষমতার অলিন্দে থাকার সময় যে সুযোগ-সুবিধাগুলো পাওয়া যায়, তখন সবাই চুপ থাকেন। কিন্তু সময় খারাপ হলেই কিংবা রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালেই নিজেদের পিঠ বাঁচাতে কেউ সন্তানের দোহাই দেন, তো কেউ অন্য কোনও আছিলা (যা শ্রীলেখার ভাষায় ‘হরলিক্সের দোহাই’) খাড়া করেন। এই গোটা বিষয়টিকে একটি নিখাদ ‘ধন্দাবাজি’ বা সুবিধাবাদী অবস্থান ছাড়া আর কিছুই মনে করছেন না বামপন্থী মনোভাবাপন্ন এই অভিনেত্রী।
শ্রীলেখার এই পোস্টের নিচে ইতিমিধ্যেই নেটিজেনদের কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। অনুরাগীদের অনেকেই অভিনেত্রীর এই সাহসিকতাকে সমর্থন করে লিখেছেন, “একদম ঠিক বলেছেন দিদি, ক্ষমতার সুধা নেওয়ার সময় মনে থাকে না, আর এখন বাচ্চার দোহাই দিয়ে মহান সাজার চেষ্টা চলছে!” সব মিলিয়ে, শ্রীলেখার এই ওয়ান-লাইনার যে পরমব্রত ও সোহম শিবিরের গায়ে বেশ ভালো মতোই ফোস্কা ফেলে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।