বিগ বস বাংলার ঘরে জমে উঠেছে লড়াই। বিশেষ করে জীতু, রাজবীর, নন্দিনী, সৃজলা, দুর্নিবার, তনুশ্রী জমিয়ে রেখেছে খেলা। এদের তুলনায় এখনো অনেকটাই ব্যাকফুটে সোনামণি, নিরঞ্জন, ঝিলম, দীপেন্দুরা। তবে ঘরের বাইরে বিগ বসের খেলা চললেও, ঘরের বাইরেও টানটান উত্তেজনা। এমনকী, সোশ্যাল মিডিয়াতেও পোস্ট করছেন তা নিয়ে। এর আগেও রাজবীরের সমর্থনে আওয়াজ তুলেছেন শ্রীলেখা। আর এবার সোনামণি-র করা ‘ব্যাড টাচ’ মন্তব্যে করলেন সমালোচনা।

শ্রীলেখা তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা লড়াই করি মহিলাদের সমান অধিকারের জন্য। আমি মহিলা বলে কোনও বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশা কখনো করব না। আমি মহিলা, তাই তুমি এটা করলে কেন? — এটা অযৌক্তিক। এটা খেলার নিয়মের সঙ্গে কখনোই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই মেয়েটি সোনামণি—আমার নেমেসিস। ব্যস ওই অবধি মিল, যদিও আমি কোনও সিরিয়াল দেখি না, নিশ্চয়ই ওঁর একটা ফ্যান বেস আছে। কিন্তু প্রথম থেকেই এদের একটা গোষ্ঠী যেভাবে রাজবীর ছেলেটিকে নানাভাবে বাজে কথা বলে, অপমান করে চলেছে, সেটা অত্যন্ত অস্বস্তিকর। আমি নিজে ওই পরিস্থিতিতে থাকলে, সত্যি বলতে, হয়তো মানসিকভাবে ভেঙে পড়তাম। সবচেয়ে বিরক্তিকর লেগেছে সেই ঘটনাটা, যখন টাস্কের মধ্যে প্যান্টের পায়ের ভিতরে থাকা বিস্কিটটা রাজীব ধরেছিল, আর সেটাকে টেলিভিশনে 'ব্যাড টাচ' বলা হল।’
ক্যানভাস পেইন্টিং নিয়ে হওয়া বৃহস্পতিবারের ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে দেখা যায় যে, রং লাগানোর লাঠি দিয়েই রাজবীরের গায়ে একটা ঘা বসিয়ে দেন সোনামণি। যদিও ব্যাপারটাকে বেশ স্পোর্টিংলিই নিয়েছেন রাজবীর। সেটা নিয়ে কোনো সিনক্রিয়েট করেননি। তবে এই লাঠি দিয়ে মারার ব্যাপারটাও যে ‘আপত্তিকর’ সেটা মনে করিয়ে দিলেন শ্রীলেখা।
লিখলেন, ‘একজন পুরুষের ক্ষেত্রেও ‘ব্যাড টাচ’ কথাটা কতটা গুরুতর— সেটা বোঝা দরকার। মহিলা হলেই সবসময় মহিলা সঠিক, আর পুরুষ হলেই পুরুষের কোনও কথা বা অস্বস্তির মূল্য নেই— এই ধারণাটাও সমানভাবে সমস্যাজনক। আর কালকের এপিসোডে যখন দেখলাম লাঠি দিয়ে মারা হল— আস্তে মারা হয়েছে না জোরে, সেটা মূল প্রশ্ন নয়। লাঠি দিয়ে মারার ইনটেনশটাই প্রশ্নের। সেটা অত্যন্ত প্রশ্নসাপেক্ষ। তার ওপর বারবার তার খাওয়া নিয়ে কথা বলা, বারবার ছোট করা, বাজে নামে ডাকা, বারবার ‘ব্যাড টাচ’ একজন মানুষকে এইভাবে ক্রমাগত কর্নার করে রাখা কতটা মানবিক, সেটাও ভাবা দরকার। রাজবীর দে, কীভাবে এতকিছুর মধ্যে থেকেও নিজেকে সামলে রয়েছে, আমি জানি না। আর একটা কথা— কেউ মহিলা হলেই তার সব আচরণ ন্যায্য হয়ে যায় না। সমান অধিকারের অর্থ শুধু মহিলার অধিকার নয়; সমানভাবে পুরুষের মর্যাদা, সম্মান এবং নিরাপত্তার অধিকারকেও স্বীকার করা।’
{{/usCountry}}লিখলেন, ‘একজন পুরুষের ক্ষেত্রেও ‘ব্যাড টাচ’ কথাটা কতটা গুরুতর— সেটা বোঝা দরকার। মহিলা হলেই সবসময় মহিলা সঠিক, আর পুরুষ হলেই পুরুষের কোনও কথা বা অস্বস্তির মূল্য নেই— এই ধারণাটাও সমানভাবে সমস্যাজনক। আর কালকের এপিসোডে যখন দেখলাম লাঠি দিয়ে মারা হল— আস্তে মারা হয়েছে না জোরে, সেটা মূল প্রশ্ন নয়। লাঠি দিয়ে মারার ইনটেনশটাই প্রশ্নের। সেটা অত্যন্ত প্রশ্নসাপেক্ষ। তার ওপর বারবার তার খাওয়া নিয়ে কথা বলা, বারবার ছোট করা, বাজে নামে ডাকা, বারবার ‘ব্যাড টাচ’ একজন মানুষকে এইভাবে ক্রমাগত কর্নার করে রাখা কতটা মানবিক, সেটাও ভাবা দরকার। রাজবীর দে, কীভাবে এতকিছুর মধ্যে থেকেও নিজেকে সামলে রয়েছে, আমি জানি না। আর একটা কথা— কেউ মহিলা হলেই তার সব আচরণ ন্যায্য হয়ে যায় না। সমান অধিকারের অর্থ শুধু মহিলার অধিকার নয়; সমানভাবে পুরুষের মর্যাদা, সম্মান এবং নিরাপত্তার অধিকারকেও স্বীকার করা।’
{{/usCountry}}