নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচি পালন করার ডাক দিয়েছে বিজেপি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে দেশবাসীকে নিজ নিজ ঘরে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং উপাসনালয়ে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান দেওয়া হয়েছে। গুজরাটের আহমেদাবাদেই প্রায় ৭৬ হাজার প্রদীপ জ্বলবে বলে খবর। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবাংলাতেও ব্যাপকভাবে এই কর্মসূচি পালন করছে সদ্য নির্বাচিত সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সাধারণ মানুষকে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যাবেলায় বাড়ি, মন্দির ও জনবহুল এলাকায় প্রদীপ বা ‘আশীর্বাদের দীপ’ জ্বালানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

তবে বিজেপির এই প্রদীপ জ্বালানোর ডাককে ঘিরে চলছে নিন্দে। বিশেষ করে যখন দেশজুড়ে বন্যা পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি আকাশ ছুঁয়েছে। এবার এই প্রদীপ জ্বালানোর উদ্যোগের সমালোচনা করলেন বাম-মনস্ক অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। অভিনেত্রী ফেসবুকে লিখলেন, ‘মানুষকে বলা হচ্ছে প্রদীপ জ্বালাতে। কী এক অদ্ভুত বৈপরীত্য... আমাদের জীবনকে নরকে পরিণত করার পর... এমন আবদার!!!! ঠিক যেন এক বেদনাদায়ক পরিহাস।’
‘একজন স্বৈরাচারী—অথবা এক স্বৈরাচারী গোষ্ঠী—সাধারণ মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনছে: সম্পত্তি ধ্বংস করছে, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে, জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে, আর সম্প্রদায়, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিভেদ আরও গভীর করছে; অথচ একই সঙ্গে তারা দাবি করছে যে তাঁরা স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর অবতার! আমরা কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? আমরা কেমন এক সমাজ গড়ে তুলছি যেখানে অন্ধ অনুসারীদের 'ভক্ত' হিসেবে মহিমান্বিত করা হয়। আর শিক্ষিত ও ভিন্নমতাবলম্বীদের তকমা দেওয়া হয় 'দিমাগি নকশাল' হিসেবে? এমন এক সময় যখন ভয়ই হয়ে ওঠে শাসনের হাতিয়ার আর ভিন্নমতকে দেখা হয় বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে? আর তারপর আমাদের বলা হচ্ছে প্রদীপ জ্বালাতে। কী এক ঘোরতর পরিহাস। কী এক অন্ধকার যুগে আমরা বাস করছি!’, আরও লেখেন শ্রীলেখা মিত্র তাঁর পোস্টে।
শ্রীলেখার এই পোস্টে এক নেটিজেন মন্তব্য করলেন, ‘আমি আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে আমার বাড়ির সব আলো নিভিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি… এটাই তো প্রদীপ জ্বালানোর নির্দিষ্ট সময় তাই না?’ অন্যজন লিখলেন, ‘কিছু মানুষ বুঝছেন আর কিছু মানুষ বুঝেও নিজেদের স্বার্থ, জীবিকা সুরক্ষিত রাখতে চুপ’। অন্য কমেন্টে লেখা হয়, ‘প্রদীপের তলাতেই তো আসল অন্ধকার।’