বারুইপুর নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গুটিকয়েক যে তারকারা মুখ খুলেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শ্রীলেখা মিত্র। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্য়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রীলেখা জানালেন যে, বারুইপুর নিয়ে করা তাঁর একটি পোস্টের কারণে, তাঁর নামে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

শ্রীলেখা লিখেছেন, ‘আমি এইমাত্র জানতে পেরেছি যে, বারুইপুরের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্তি উসকে দেওয়ার অভিযোগে আমার নামে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আমি এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি এবং জানতে চাই, কোথায়, কবে এবং কীভাবে আমি এমন কোনও উসকানিমূলক বক্তব্য বা কাজ করেছি, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা হোক।’
‘যদি কেউ দাবি করেন যে আমি এ ধরনের কোনও মন্তব্য করেছি বা এমন কোনও পদক্ষেপ নিয়েছি, তাহলে অনুগ্রহ করে তার স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আনুন। আমি সত্যের পক্ষেই আছি এবং ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীল ও আইনসম্মতভাবেই আমার বক্তব্য তুলে ধরব। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হোক। ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত।’, আরও লেখেন শ্রীলেখা নিজের পোস্টে।
জানা যাচ্ছে যে, বারুইপুর কাণ্ডে গণপিটুনিতে উসকানির অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র, সিপিআইএম নেতা লাহিক আলি, ইউটিউবার অনুভব মাইতি এবং একটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘দ্য আওয়াজ’-এর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। আর এই এফআইআরটি দায়ের করেছেন বারুইপুরের বিজেপি নেতা সুশোভন রায়। অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলি হিংসায় ইন্ধন যুগিয়েছে।
এরপর সুশোভন রায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘এক শিশুকন্যাকে নারকীয়ভাবে হত্যা করা হয়েছিল। যখন তার মা-বাবা অসহায়ভাবে চারদিকে ছোটাছুটি করছিলেন, আর পরে সেই নিথর দেহটি ভেসে উঠল, ঠিক তখনই এরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দিল, যার ফলে সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা তৈরি হল যে, যেন বিশেষ একটি সম্প্রদায়, আরএসএস কিংবা বিজেপিই এই কাজটা করেছে। এরপর রেললাইন উপড়ে ফেলা হল, একজনকে পিটিয়ে মারা হল এবং ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল। এই উসকানি এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যে, যে বাচ্চাগুলো মোবাইলে গেম খেলে, তাদের মাথাতেও ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে হিন্দুরা আমাদের শত্রু, হিন্দুরা আমাদের ক্ষতি করছে।’