...
...
Next Story

লক্ষ্মী পুজোতেই কলকাতায় শব্দবাজির রমরমা! ‘আনন্দের নামে আর কত প্রাণকে আতঙ্কিত করব…’, অবলা পশুদের জন্য কী আবেদন শ্রীলেখার?

দুর্গাপুজোয় দশমীর দিন থেকেই ফাটতে শুরু করেছে শব্দবাজি। সরকারি নিয়ম অগ্রাহ্য করে গত বছরও অবাধে ফেটেছে কালীপটকা, চকোলেট বোমা। আর সেই বিকট আওয়াজে অবলা পশুপাখিদের হাল হয়েছে বেহাল।

Published on: Oct 26, 2026, 10:30:47 IST
Advertisement

কালীপুজো ও দিওয়ালির সময় প্রতিবছরই শব্দবাজি না ফাটানোর অনুরোধ করে একাধিক পোস্ট ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়াতে। সরকারের বিধিনিষেধ অমান্য করেই প্রতি বছর সেই একই চিত্র ধরা পড়ে। যাদের বাড়িতে কুকুর বা বিড়ালের মতো পোষ্য রয়েছে তাঁরা জানেন যে, এই শব্দবাজি অবলা পশুদের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে। এমনকী, আওয়াজে অসুস্থও হয়ে পড়েন বহু অবলা।

শ্রীলেখা মিত্র।
শ্রীলেখা মিত্র।

লক্ষ্মীপুজোর আগেই শব্দবাজি নিয়ে একটি পোস্ট করেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। লিখলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এ বছরও বলব। বলেই যাব। যতক্ষণ না আমাদের কথা শোনা হচ্ছে, বলে যাব! যাদের শোনার ইচ্ছে নেই, তারা হয়তো এক টান সিগারেটের ধোঁয়া টেনে উড়িয়ে দেবেন আমাদের কথাগুলো। কিন্তু তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। কারণ ওরা আমাদের সন্তানসম। ওদের আমরা ভালোবাসি নিজের সন্তানের মতো। অনেকের কাছে আমাদের এই ভালোবাসা পাগলামি, অনেকের কাছে বাড়াবাড়ি। তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। ওদের জন্য আমরা প্রাণ দিতেও প্রস্তুত। অপমান,অসভ্যতা—কত কিছু সহ্য করেও আমরা ওদের পাশে থাকি, ওদের জন্য লড়াই করি। কারণ ওরা কথা বলতে পারে না। আমরা ওদের ভাষা বুঝি, ওদের যন্ত্রণা বুঝি, ওদের ভয় বুঝি।

‘Dr Dolittle সিনেমাটা দেখেছেন? আমরাও যেন এক একজন Dr Dolittle. ওরা মুখে বলতে পারে না, কিন্তু ওদের চোখের ভাষা, ওদের আতঙ্ক, ওদের কষ্ট আমরা বুঝতে পারি।গতকাল থেকে হঠাৎ করে বাজির আওয়াজ শুরু হয়েছে। আগামীকাল লক্ষ্মীপুজো, অথচ এখন থেকেই চারদিকে ধুমধাড়াক্কা শব্দবাজি! আমার ছোট্ট বেড়ালছানাটা গোল গোল চোখ করে, চমকে চমকে উঠছে।লক্ষ্মীপুজোর আগেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে কালীপুজোয় কী হবে? মানুষের আনন্দের কাছে কি পশুপাখিদের জীবন, নিরাপত্তা আর মানসিক যন্ত্রণার কোনও মূল্য নেই? পদপৃষ্ঠ হয়ে কত মানুষের প্রাণ গেল, সেই যন্ত্রণাও কি আমরা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলাম? আনন্দের নামে আর কত প্রাণকে আতঙ্কিত করব? আমরা ওদের রক্ষা করব। আমাদের সাধ্যমতো সবটুকু দিয়ে ওদের পাশে দাঁড়াব।’, আরও লেখেন শ্রীলেখা।

নিজের পোস্টের শেষে শ্রীলেখা আরও লেখেন, ‘ওদের ভালো না-ই বাসতে পারেন। কিন্তু ওদের ভয়, ওদের যন্ত্রণা, ওদের বেঁচে থাকার অধিকারটুকু অন্তত সম্মান করুন।ওরা আমাদের সঙ্গে একই পৃথিবীতে বাস করে। ওরা আমাদের মতো কথা বলতে পারে না, নিজেদের অধিকারের জন্য রাস্তায় নামতে পারে না। তাই বলে ওদের যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করার অধিকার আমাদের নেই। COEXIST করুন। সহাবস্থান করতে শিখুন। কারণ পৃথিবীটা শুধু মানুষের নয়’

 
ABOUT THE AUTHOR
Tulika Samadder

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks