শহরের ঐতিহ্য রবীন্দ্রসরোবরের সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সরোবরের জল সংশোধনে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, এবার থেকে রবীন্দ্র সরোবরে সারমেয়দের প্রবেশ নিষেধ। রবীন্দ্র সরোবর পরিষ্কার রাখতে, ভিতরে খাবার নিয়ে ঢুকতে মানা করেন তিনি। সঙ্গে কেউ যাতে কোনো কুকুর নিয়ে ঢুকতে না পারেন সেই নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেন। এক্ষেত্রে তাঁর দাবি, সরোবরের ভিতরে যত্রতত্র কুকুরেরা নোংরা করে কুকুর। তিনি বা তাঁর সরকার কুকুরের বিরোধী নয়। কিন্তু শহরের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত রবীন্দ্র সরোবরটি নোংরা করা কিছুতেই তিনি বরদাস্ত করবেন না।

আর অগ্নিমিত্রা পালের এই নির্দেশের পরই ফেসবুকে একটি লম্বা পোস্ট শেয়ার করে নিলে শ্রীলেখা। যদিও সেখানে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে বুঝতে সমস্য়া হয় না অভিনেত্রীর ইঙ্গিত কোন দিকে। শ্রীলেখা লিখেছেন, ‘কোনো জন্তু-জানোয়ার থাকবে না। থাকবে শুধু মানুষ নামক প্রাণী—যে আগে চারপেয়ে ছিল, এখন দুপেয়ে হয়েছে! তারা ফুটপাত ধরে হাঁটবে। সাইকেল-টাইকেল চড়বে না, গাড়ি-ঠাড়ি চড়বে না। কারণ রাস্তা, পার্ক, ফুটপাত—সবই আপনাদের! ওনারাই গাড়ি চড়বেন, ওনারাই সব করবেন। আর রাস্তার কুকুর-বিড়াল? তারা পার্কে থাকবে না, রাস্তায় থাকবে না, তাদের খেতে দেওয়া যাবে না—কারণ তারা পটি করে! তাহলে এবার ওরা আকাশে উড়ে চলবে? আপনাদের সুপ্রিমোকে বলুন, ওদের জন্য ডানা বানিয়ে দিতে। ওরা এবার আকাশে উড়েউড়ে চলবে!’
‘কী আরম্ভ করেছেন আপনারা? কী প্রমাণ করতে চাইছেন? কী চান আপনারা? ফুটপাতে মানুষের বাচ্চার দুধ কেড়ে নেবেন? গরিব মানুষের রুজি-রোজগার বন্ধ করবেন? দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ কষ্ট করে সবজি নিয়ে আসে, মাছ নিয়ে আসে—তারা সাইকেলে যাবে না, আসবে না। তাহলে কীসে আসবে? হেলিকপ্টারে? একবারও কি ভাবেন, সাধারণ মানুষ কীভাবে বাঁচে? রাস্তা কারও একার নয়। পার্ক কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। শহরও কারও বাপের সম্পত্তি নয়। মানুষ এবং অন্য প্রাণী—দুজনেরই এই পৃথিবীতে থাকার অধিকার আছে। কোথায় মুখ গুঁজে রাখেন আপনারা? কোথায় রাখেন আপনাদের ভাবনা, চিন্তা আর বুদ্ধি? এই কদিনে মানুষের জীবনটা অতিষ্ঠ, বিরক্ত আর দুর্বিষহ করে তুলেছেন আপনারা। প্রদীপ জ্বালাবেন? আগে একটু আলো নিজেদের মাথায় জ্বালান। সবকিছুর একটা সীমা আছে। আর হ্যাঁ… তৃণমূল আপনাদের থেকে ভালো ছিল অন্তত পশুদের বিষয়ে। এতটাই বিরক্তিকর হয়ে উঠেছেন আপনারা।’, আরও লেখেন শ্রীলেখা।
শ্রীলেখার এই পোস্টে এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘আমি তো বুঝতে পারছি না উনি কে? একজন বিধায়ক, একজন মন্ত্রী!! তো উনি কি সবার অথোরিটি?? ওঁকে কে এই সাহস দিয়েছে, কে এই সব অর্ডার করার ক্ষমতা দিয়েছে? উনি কি শাসক? ডিক্টেটর? পলিটিকাল সায়েন্সটা একটু পড়াশোনা করা উচিত ওঁর। উনি শুধুই জন নির্বাচিত প্রতিনিধি।মানুষ দিয়েছে ভোট, ৫ বছর পর মানুষই ছুঁড়ে ফেলে দেবে। অতিবার বাড়লেই ঝড়ে পরতে হবে, ঠিক যেমন আগের ক্ষেত্রে হল।’
{{/usCountry}}শ্রীলেখার এই পোস্টে এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘আমি তো বুঝতে পারছি না উনি কে? একজন বিধায়ক, একজন মন্ত্রী!! তো উনি কি সবার অথোরিটি?? ওঁকে কে এই সাহস দিয়েছে, কে এই সব অর্ডার করার ক্ষমতা দিয়েছে? উনি কি শাসক? ডিক্টেটর? পলিটিকাল সায়েন্সটা একটু পড়াশোনা করা উচিত ওঁর। উনি শুধুই জন নির্বাচিত প্রতিনিধি।মানুষ দিয়েছে ভোট, ৫ বছর পর মানুষই ছুঁড়ে ফেলে দেবে। অতিবার বাড়লেই ঝড়ে পরতে হবে, ঠিক যেমন আগের ক্ষেত্রে হল।’
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, কদিন আগে পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথে বসবাসকারী এক মহিলাকে বকাঝকা করেও বিতর্কে জড়ান অগ্নিমিত্রা। পরে নিজের রূঢ় ব্যবহারের জন্য ক্ষমাও চান তিনি। এমনকী, সেই পরিবারকে পূর্ণবাসনের বন্দোবস্তও করে দেয় বিজেপি সরকার। বেশ বড়সড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল গোটা ঘটনা নিয়ে।