টেলিপাড়ায় আবারও মেগা সিরিয়াল বন্ধের মনখারাপের হাওয়া। কিছুদিন আগেই পর্দা কেঁপে বিদায় নিয়েছিল ‘মিলন হবে কতদিনের’ ধারাবাহিকটি। এবার সেই একই পথ অনুসরণ করে বন্ধ হয়ে গেল স্টার জলসার (Star Jalsha) আরও এক জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিক ‘রাঙামতি তিরন্দাজ’। ৬০০-রও বেশি পর্ব পার করে অবশেষে ইতি টানল। আর এই সমাপনীলগ্নে ধারাবাহিকের নায়ক ‘একলব্য’ অর্থাৎ অভিনেতা নীলাঙ্কুর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করে টিম ও দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নিজের কেরিয়ারের এই বিশেষ মোড়ে দাঁড়িয়ে অভিনেতা নীলাঙ্কুর সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন প্রযোজক-পরিচালক সুশান্ত দাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে। ইন্ডাস্ট্রিতে যখন কেউ তাঁকে চিনত না, তখন সুশান্ত দাসই তাঁর ওপর ভরসা রেখেছিলেন।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অভিনেতা লিখেছেন:
‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি। একলব্যর সফর শেষ হলো। সুশান্ত দাস আপনাকে অনেক ধন্যবাদ! আপনাকে ধন্যবাদ জানানোর মতো ভাষা আমার কাছে নেই। যেদিন কেউ আমাকে চিনত না, কেউ আমার কথা শুনত না, সেদিন আমার কথা শোনার জন্য এবং এই সুযোগটি দেওয়ার জন্য আমি আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’
একই সঙ্গে স্টার জলসা চ্যানেল কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন নীলাঙ্কুর। এই মেগার মাধ্যমেই তিনি একদিকে যেমন পরিচিতি পেয়েছেন, তেমনই নিজের নাচের প্রতিভা দেখানোরও বড় সুযোগ পেয়েছেন।
অন-স্ক্রিন মা চান্দ্রেয়ী থেকে সহ-অভিনেত্রী মনীষা: সবাইকে কুর্নিশ
একটি সিরিয়াল দীর্ঘ ৬০০ পর্ব চালানো কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়। আর তাই ‘রাঙামতি তিরন্দাজ’-এর পুরো কাস্ট এবং ক্রু-কে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি ‘একলব্য’। সহ-অভিনেত্রী মনীষা মণ্ডলের চমৎকার অভিনয়ের প্রশংসা করে তাঁকে অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ সহকর্মী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পর্দায় যিনি তাঁর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, সেই জনপ্রিয় অভিনেত্রী চান্দ্রেয়ী ঘোষের উদ্দেশ্যে নীলাঙ্কুর লেখেন, ‘পর্দায় একজন অসাধারণ মা এবং পর্দার বাইরে একজন চমৎকার মানুষ হওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’
পরিচালক বিজয় দা, ক্রিয়েটিভ সংযুক্তা দি ছাড়াও সুদীপ্তা বাগীশ, জয়িতা গোস্বামী, এবং অন-স্ক্রিন বোন ঐশ্বর্য মণ্ডল ও শ্রীজিতা বিশ্বাসকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও চন্দ্রনিভ মুখোপাধ্যায়, অরিত্র দত্ত, দেবোত্তম মজুমদার, সাগর সিনহা, ঋষি, তন্ময় মজুমদারসহ সমস্ত সহ-অভিনেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যাঁরা সেটে শুটিংয়ের সময় তাঁর প্রতি অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং আন্তরিক ছিলেন।