...
...
Next Story

Rupsha Chakraborty: 'বেঁচে থাকতে পাশে থাকুন, মরলে শোকজ্ঞাপন সহজ!' টলিপাড়ার ভণ্ডামি নিয়ে সরব রূপসা

চলে যাওয়ার পরে হাজারো শব্দ, হাজারো পোস্ট, হাজারো স্মৃতিচারণ এর থেকেও জীবিত অবস্থায় বলা একটি কথা, যেমন তুমি আমার খুব প্রিয়, খুব আপন, খুব ভালো লাগে তোমাকে, এই কথা গুলো অনেক বেশি মূল্যবান, অনীকের মৃত্যুর পর লিখলেন রূপসা।

Published on: May 29, 2026, 16:10:01 IST
Advertisement

টলিপাড়ার আবহটা বেশ কিছুদিন ধরেই মেঘলা। ৪২ বছর বয়সে চলে গেলেন অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুর ধাক্কা সামলে ওঠবার আগেই নিজেকে শেষ করে দিলেন পরিচালক অনীক দত্ত। বিনোদন জগতের এই একের পর এক নক্ষত্রপতন এবং তাঁদের চলে যাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে শোকজ্ঞাপন ও মায়াকান্নার যে ঢল নেমেছে, তা দেখে আর চুপ থাকতে পারলেন না বিশিষ্ট অভিনেত্রী তথা ব্লুজ প্রোডাকশনের কর্ণধার স্নেহাশিস চক্রবর্তীর স্ত্রী রূপসা চক্রবর্তী। নিজের সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে এক দীর্ঘ, মননশীল এবং অত্যন্ত কড়া পোস্টে ভার্চুয়াল দুনিয়ার ভণ্ডামির মুখোশ টেনে ছিঁড়লেন অভিনেত্রী।

'বেঁচে থাকতে পাশে থাকুন, মরলে শোকজ্ঞাপন সহজ!' টলিপাড়ার ভণ্ডামি নিয়ে সরব রূপসা
'বেঁচে থাকতে পাশে থাকুন, মরলে শোকজ্ঞাপন সহজ!' টলিপাড়ার ভণ্ডামি নিয়ে সরব রূপসা

চলে যাওয়ার পর হাজার পোস্টের চেয়ে, বেঁচে থাকতে একটা কথাই যথেষ্ট

রূপসা তাঁর পোস্টে কোনো রাখঢাক না রেখেই লিখেছেন, মানুষকে যদি সত্যিই ভালোবাসেন, তবে সেই ভালোবাসার কথা মানুষটা বেঁচে থাকতেই তাকে জানান। তাকে অনুভব করান সে আপনার কাছে কতটা প্রিয়, কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সময় চলে যাওয়ার পরে হাজারো শব্দ, হাজারো পোস্ট, হাজারো স্মৃতিচারণ এর থেকেও জীবিত অবস্থায় বলা একটি কথা, যেমন তুমি আমার খুব প্রিয়, খুব আপন, খুব ভালো লাগে তোমাকে, এই কথা গুলো অনেক বেশি মূল্যবান।

আসলে রূপসার এই আক্ষেপ বর্তমান রূপোলি দুনিয়ার এক জ্বলন্ত বাস্তব। অনীক দত্তর মতো প্রতিভাবান অভিনেতা যখন একাকীত্ব বা অবসাদের মধ্যে দিয়ে যান, তখন অনেকেই খোঁজ নেন না। পরিচালক বেঁচে থাকতে নন্দনে ব্রাত্য থেকে যান, অথচ মৃত্যুর পর তাঁদের নিয়েই সোশ্যালে মোমবাতি জ্বালানোর হিড়িক পড়ে যায়। নন্দনে তাঁকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।

ইদানীং টলিপাড়া হোক বা নেটপাড়া, কাউকে নিয়ে ট্রোল করা বা কাঠি করা এক ধরণের বিনোদনে পরিণত হয়েছে। পর্দার পেছনের মানুষের আসল লড়াইটা কজনই বা দেখে! সেই প্রসঙ্গ টেনে রূপসা আরও যোগ করেন, আমরা প্রায়ই মানুষের হাসিমুখ দেখি, কিন্তু তার ভেতরের ক্লান্তি, অবসাদ, একাকীত্ব দেখতে পাই না। আর কেউ যখন ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে, তখন তাকে নিয়ে মজা করা, ট্রোলিং করা, সোশ্যাল মিডিয়াতে আঘাত করে কথা বলা, এইভাবে মানুষটিকে বিচার না করে, যদি সে ভুল করে সেই ভুল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে, তাকে শিক্ষা দেওয়ার নামে সবার সামনে ছোটো না করে পারলে তার পাশে দাঁড়ান।

রূপসার স্পষ্ট দাবি, নীতিপুলিশ সেজে কাউকে সবার সামনে অপমান করার চেয়ে, অন্তরালে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা উচিত, তুমি কেমন আছো? শোনা উচিত তার ভেতরের না-বলা কথাগুলো।

মানুষ চলে যাওয়ার পর ভালোবাসা দেখানো খুব সহজ!

পোস্টের শেষে এসে রূপসা যেন এক চাবুক মেরেছেন সোশ্যাল মিডিয়ার মেকি সহানুভূতিকে। তিনি লেখেন, ‘সম্ভব হলে তাকে একটু ভালোবাসা দিন, একটু সময় দিন, একটু ভরসা দিন। হয়তো আপনার সামান্য আন্তরিকতাই তাকে আবার জীবনের প্রতি আশাবাদী করে তুলতে পারে। মানুষ চলে যাওয়ার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসা প্রকাশ করা খুব সহজ, কিন্তু মানুষটা বেঁচে থাকতে তার অন্ধকার সময়ে হাতটা ধরে রাখা, সেটাই আসল ভালোবাসা।’

অনীক দত্ত এবং রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর আবহে রূপসার এই পোস্টটি এই মুহূর্তে নেটপাড়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল। টলিপাড়ার বোদ্ধারাও মনে করছেন, স্নেহাশিস-পত্নীর এই সপাট এবং সংবেদনশীল বার্তা হয়তো ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ট্রোলিং সংস্কৃতি এবং মেকি শোকপ্রকাশের মানসিকতায় কিছুটা হলেও বদল আনতে সাহায্য করবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe