ছোট পর্দার অত্যন্ত জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো জি বাংলার ‘দাদাগিরি’। বিশেষ এক পর্বে সঞ্চালক দেব-এর মুখোমুখি হয়েছিল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের দুই খুদে পড়ুয়া। সঞ্চালকের আসনে দাঁড়িয়ে দেব তাদের দিকে একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন— ‘নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে থাকতে গেলে কোন ৫টি গুণ থাকা প্রয়োজন?’ দেবের এই প্রশ্নের উত্তরে দুই খুদের নিখুঁত ও পরিণত জবাব শুনে অবাক হয়ে যান সঞ্চালক দেব সহ উপস্থিত দর্শকেরা।

রামকৃষ্ণ মিশনের পড়ুয়ার চোখে বিদ্যার্থীর ৫টি গুণ:
দেবের প্রশ্নের জবাবে এক খুদে ছাত্র জানায়, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের বিদ্যা কণিকায় তাদের প্রধান শিক্ষক মহাশয় (হেডমাস্টার) বিদ্যার্থীর প্রকৃত ৫টি গুণের কথা শিখিয়েছেন, যা মেনে চললে একজন আদর্শ মানুষ হওয়া যায়। ছাত্রটির মতে এই ৫টি গুণ হলো— ‘কাগচেষ্টা’, ‘বকধ্যান’, ‘কুক্কুরনিদ্রা’, ‘স্বল্পাহারী’ এবং ‘গৃহত্যাগী’।
৫টি গুণের চমৎকার ব্যাখ্যা:
সঞ্চালক দেব যখন প্রতিটি গুণের সহজ মানে জানতে চান, তখন খুদেটি একে একে সবকটি গুণের অসাধারণ ব্যাখ্যা তুলে ধরে।
কাগচেষ্টা: কাক যেমন কলসির তলায় থাকা জল নুড়ি পাথর ফেলে উপরে তুলে এনে জল খেয়েছিল, ঠিক তেমনই শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অনবরত চেষ্টা করার মানসিকতা থাকতে হবে।
বকধ্যান: বক যেমন এক পায়ে দাঁড়িয়ে পরম মনোযোগে মাছ ধরে, বিদ্যার্থীরও পড়াশোনায় ঠিক তেমনই গভীর একাগ্রতা বা মনোযোগ থাকা প্রয়োজন। কুক্কুরনিদ্রা: কুকুরের ঘুমে যেমন সর্বদা সতর্কতা থাকে, তেমনই পড়ুয়াদেরও সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে যাতে নির্ধারিত সময়ে সঠিক কাজ শেষ করা যায়। স্বল্পাহারী: অতিরিক্ত খাওয়া বা একদম কম খাওয়া দুটোই ক্ষতিকর। নিয়ম মেনে পরিমিত আহার করতে হবে এবং অনুশাসন বজায় রেখে পরিমিত কথা বলতে হবে।
গৃহত্যাগী: হোস্টেলে বা মিশনে থাকতে গেলে বাড়ির মায়া-আবেগ ত্যাগ করে ব্রহ্মচর্য ও কঠোর নিয়ম মেনে চলা শিখতে হয়।
{{/usCountry}}গৃহত্যাগী: হোস্টেলে বা মিশনে থাকতে গেলে বাড়ির মায়া-আবেগ ত্যাগ করে ব্রহ্মচর্য ও কঠোর নিয়ম মেনে চলা শিখতে হয়।
{{/usCountry}}এত ছোট বয়সে দুই খুদে ছাত্রের এমন প্রাঞ্জল বিশ্লেষণ এবং পরিপক্ক চিন্তাভাবনা দেখে সঞ্চালক দেব মঞ্চে দাঁড়িয়ে মৃদু হেসে তাদের প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। ছাত্ররা জানায়, এই আদর্শ নীতিগুলি যারা মেনে চলতে পারে তারাই মিশনে টিকে থেকে প্রকৃত 'মানুষ' হয়ে উঠতে সক্ষম হয়।
খুদেদের এই সুন্দর বক্তব্যের ভিডিও ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দু-ভাগে বিভক্ত। তবে অধিকাংশই নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। একজন লেখেন, ‘এমন মানুষ হওয়ার চেয়ে আমি অমানুষই ঠিক আছি’। আরেকজন লেখেন, ‘আমার চেনা নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অনেকে আছে যারা কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমোয়, আর প্রচুর পরিমাণে খায়’। আরেক নেটিজেন লেখেন, ‘এ তো পুরো দাসত্বের জীবন কাটানো’। অন্য আরেক নেটনাগরিক লেখেন, ‘এরাই বড় হয়ে নারীবিদ্বেষী তৈরি হয়’।
তবে নরেন্দ্রপুরের অনেক প্রাক্তনী লেখেন, বাইরে থেকে কাউকে বিচার করা উচিত নয়। একমাত্র ছাত্ররাই জানে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাহাত্ম্য।