‘এবার শিক্ষামন্ত্রী গেছে, পরের বার মোদী যাবে’, এমনই এক সংবাদ নিজের ফেসবুকের দেওয়ালে শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী তথা কালীঘাটপন্থী মমতার একনিষ্ঠ ভক্ত অভিনেত্রী ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি সায়নীর স্থলাভিষিক্ত অর্ণবের স্ত্রী। তাঁকে কাঠগড়ায় তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন স্বঘোষিত মোদীর অন্ধভক্ত দেবশ্রী। অর্থাৎ অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের দিদি।

দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হলো তীব্র আইডিওলজিক্যাল বাকযুদ্ধ। আর সেই পোস্টে পাল্টা ক্ষুরধার জবাব নিয়ে হাজির হলেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী তথা সমাজকর্মী পিয়া চক্রবর্তী। জাতীয় স্বার্থ, দলীয় অন্ধত্ব এবং প্রতিবেশী দেশের মিডিয়ার কনটেন্ট শেয়ার করা নিয়ে দুই ভিন্ন মেরুর দৃষ্টিভঙ্গি এখন নেটপাড়ার সবচেয়ে গরম খবর।
জাতীয় স্বার্থের চেয়ে কি দলীয় অন্ধত্ব বড়? সওয়াল দেবশ্রীর
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ পোস্ট করেন দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। সেখানে ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টের স্ক্রিনশট তুলে দেবশ্রীর অভিযোগ, নিজেদের রাজনৈতিক দলের ন্যারেটিভকে সত্যি প্রমাণ করার তাগিদে কিছু মানুষ আজকাল প্রতিবেশী দেশের সংবাদমাধ্যম বা ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও শেয়ার করছেন।
যখন ওনাদের এই বিষয়ের স্পর্শকাতরতা ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন উত্তর আসছে যে চ্যানেলের উৎস যাই হোক, কনটেন্ট নিয়ে কথা বলা উচিত। এই যুক্তি মানতে নারাজ দেবশ্রী। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, দেশের রাজনীতি বা নিজেদের দলের সমর্থনে কথা বলার জন্য আমাদের কি এখন অন্য ভূখণ্ডের চ্যানেলের মুখাপেক্ষী হতে হবে? তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যের উৎস কতটা স্পর্শকাতর তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি লেখেন, মতভেদের জায়গা গণতন্ত্রে থাকতেই পারে, কিন্তু দলীয় স্বার্থের জন্য দেশপ্রেমকে ভুলে যাওয়া চরম দলীয় অন্ধত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়।
পদত্যাগ চাওয়া মানে দেশবিরোধী নয়! পিয়ার পাল্টা যুক্তি
{{/usCountry}}পদত্যাগ চাওয়া মানে দেশবিরোধী নয়! পিয়ার পাল্টা যুক্তি
{{/usCountry}}দেবশ্রীর এই জাতীয়তাবাদী পোস্টের পরেই ময়দানে নামেন পরম-পত্নী পিয়া চক্রবর্তী। দেবশ্রীর তোলা যুক্তির এক্কেবারে বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে কড়া জবাব দেন তিনি। পিয়ার বক্তব্য, শুধু প্রতিবেশী দেশ কেন, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়া সহ বিশ্বের নানা প্রান্তেই বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
পিয়া স্পষ্ট জানান, কোনও সরকার বা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করার মধ্যে তিনি দেশবিরোধী কিছু খুঁজে পান না। ওনার কথায়, সেই দাবির কথা আন্তর্জাতিক কোনো মিডিয়া প্রচার করলে তা শেয়ার করায় কোনো ক্ষতি নেই। নিজের অবস্থান প্রমাণ করতে বিশ্ব রাজনীতির দুটি বড় উদাহরণ টেনে আনেন পিয়া: আমেরিকার রাজনীতিতে অনেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইম্পিচমেন্ট বা অভিশংসন চেয়েছিলেন।দুই: যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর গ্রেফতারি চান বহু মানুষ।
পিয়া মনে করিয়ে দেন, এই সমস্ত বিষয় নিয়ে আমাদের দেশেও সোশাল মিডিয়া বা মূল ধারার সংবাদমাধ্যমে প্রতিনিয়ত আলোচনা হয়। অতএব এতে কোনো সমস্যা নেই, বরং এটাই স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ।
নেটপাড়ায় দুই ভাবধারার চরম লড়াই
একদিকে শুভশ্রীর দিদি দেবশ্রীর জাতীয়তাবাদী সুর এবং অন্যদিকে পিয়া চক্রবর্তীর বাকস্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার সওয়াল— এই দুইয়ের লড়াইয়ে এখন স্পষ্ট দুই ভাগে বিভক্ত নেটিজেনরা। দেবশ্রীর সমর্থনে একাংশ যেমন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার কথা বলছেন, তেমনই পিয়ার যুক্তিকে সমর্থন জানিয়ে সরকারের সমালোচনার অধিকারকে প্রাধান্য দিচ্ছেন অন্য অংশ। তারকাবৃত্তের এই সোশাল যুদ্ধ আগামী দিনে কোথায় গিয়ে থামে, সেদিকেই এখন নজর সবার!