...
...
Next Story

‘ক্ষমতার অলিন্দে ঘুরঘুর করতে ভালোবাসেন, এবার একটু চুপ করুন!’ টলিউডকে বেনজির তোপ সুদীপার

ক্ষমতার অলিন্দে থাকার সময় যাঁদের অহংকারে মাটিতে পা পড়ত না, আজ পরিস্থিতি বদলে যেতে

Published on: Jun 7, 2026, 08:00:19 IST
Advertisement

মুখে ক্ষমতার চেনা মুখোশ, আর ভেতরে আখের গোছানোর তাগিদ। টলিউডের একাংশের এই তথাকথিত ‘সুবিধাবাদী’ রাজনীতি ও দলবদলের খেলা নিয়ে এবার বিস্ফোরক সমাজমাধ্যম। তারকাদের এই দ্বিচারিতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন জনপ্রিয় সঞ্চালিকা তথা টলিপাড়ার পরিচিত মুখ সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। সাফ জানালেন, রোজ রোজ অভিনয় করতে করতে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বোধহয় আসল আর নকলের ফারাকটাই ভুলে গিয়েছেন।

‘ক্ষমতার অলিন্দে ঘুরঘুর করতে ভালোবাসেন, এবার একটু চুপ করুন!’ টলিউডের একাংশকে বেনজির তোপ সুদীপার
‘ক্ষমতার অলিন্দে ঘুরঘুর করতে ভালোবাসেন, এবার একটু চুপ করুন!’ টলিউডের একাংশকে বেনজির তোপ সুদীপার

সাম্প্রতিক সময়ে শাসকদলের একাধিক কর্মসূচিতে টলিউডের চেনা মুখদের উপস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কম জলঘোলা হয়নি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই সুদীপা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ভাইফোঁটার কিংবা স্বরূপ বাবুর পেছনে হাঁটার কোনও একটা মুহূর্তেও,

কিংবা বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীকে নেমন্তন্ন করে ডেকে এনে পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময়ও কারও কি মনে হয়েছে— এনাদের কেউ মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে এসব করতে বাধ্য করেছেন?’ তাঁর মতে, ক্ষমতার অলিন্দে থাকার সময় যাঁদের অহংকারে মাটিতে পা পড়ত না, আজ পরিস্থিতি বদলে যেতেই তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন অত্যন্ত দৃষ্টিকটু।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণ ও স্পষ্ট অবস্থান

সুদীপা নিজের পোস্টে স্পষ্ট করে দিয়েছেন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুসম্পর্কের কথা। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করেন। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (ববিদা) সঙ্গে তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক এবং প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায় ছিলেন তাঁদের অভিভাবকের মতো। কিন্তু এই সম্পর্কের দোহাই দিয়ে তিনি কখনও রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে যাননি। সুদীপার কথায়, “কই, তাঁরা কেউ একবারের জন্যও আমাকে দলের প্রচারে কিংবা কোনও মিছিলে ডাকেননি? কেন বলুন তো? কারণ, জানতেন— বাড়িতে পুজোর ভোগ খেতে আমি যেতে পারি, কিন্তু প্রচারে আমি যাব না।” তিনি আরও যোগ করেন, কাজ চলে যাওয়ার পরেও তিনি কখনও ‘দলের প্রচার না করার’ অজুহাত দিয়ে সহানুভূতি খোঁজার চেষ্টা করেননি।

তারকাদের এই লাইমলাইটে থাকার মরিয়া চেষ্টাকে ‘অসহ্য’ বলে উল্লেখ করে সুদীপার পরামর্শ, এই কটা দিন তাঁরা যেন জমানো টাকায় কোথাও ঘুরে আসেন। কারণ সাধারণ মানুষের স্মৃতি বা ‘পাবলিক মেমরি’ অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী, কদিন পরেই সব ভুলে যাবে। তবে এর মধ্যেও টলিউডের একাংশের আগামী দিনের রাজনৈতিক ডিগবাজির আগাম পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছেন তিনি। বিজেপি নেতা সজল ঘোষের পুজোর প্রসঙ্গ টেনে তীব্র কটাক্ষ করে লিখেছেন, “আগে থেকে খোঁজ নিন— সজল ঘোষের পুজোয় ঢাক বাজাতে কিংবা ধুনুচি নাচে কীভাবে ডাক পাওয়া যাবে। এবার কিন্তু ওখানেই বেশি মাইলেজ…।” আর সেখানে জায়গা না হলে ঐতিহ্যবাহী ম্যাডক্স স্কোয়ার বা নিজের পাড়াতেই সিঁদুর খেলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সুদীপার এই পোস্ট টলিপাড়ার অন্দরের ক্ষমতার সমীকরণকে যে বড়সড় ধাক্কা দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের অনেকেই তাঁর এই স্পষ্টবক্তা রূপের প্রশংসা করছেন, আবার একাংশের মতে এই খোঁচা টলিউডের বহু ‘হেভিওয়েট’ তারকার গায়েই লাগবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe