প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর মাত্র ৬ দিন পর আত্মহত্যা করেন সুশান্ত সিং রাজপুত। ঘটনার পর কেটেছে ৬ বছর। ২০২০ সালের সেই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)-কে এফআইআর (FIR) রুজু করে নতুন করে তদন্ত করার নির্দেশ দিল বোম্বে হাইকোর্ট।

বিচারপতি সারং ভি কোতোয়াল এবং বিচারপতি রঞ্জিতসিনহা আর ভোঁসলের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্তকারী সংস্থাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। যতক্ষণ না তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ পাচ্ছেন, ততক্ষণ কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
মামলার প্রধান দিক ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
সিবিআই-এর প্রতি আদালতের নির্দেশ: হাইকোর্ট মুম্বইয়ের মালবানী পুলিশকে এই মামলার সমস্ত নথি সিবিআই-এর একজন শীর্ষ কর্মকর্তার হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সিবিআই দিশার বাবা সতীশ সালিয়ানের বক্তব্য রেকর্ড করে নতুন করে তদন্ত শুরু করবে।
বাবার অভিযোগ ও আবেদন: পুলিশ শুরুতেই দিশার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করে মামলা বন্ধের রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। কিন্তু গত বছর সতীশ সালিয়ান হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ তোলেন যে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বাঁচাতে পুলিশ সত্য গোপন করেছে এবং তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে আসা প্রশ্ন: দিশার পরিবারের আইনজীবী নিলেশ ওঝা আদালতে জানান, যে ১৪ তলা ভবন থেকে দিশা পড়ে গিয়েছিলেন, তাঁর দেহ সেখান থেকে ১০ ফুট দূরে উদ্ধার হয়। সোজা নিচে না পড়ে ১০ ফুট দূরে দেহ পাওয়া এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে একাধিক অসঙ্গতির কথা তিনি তুলে ধরেন।
{{/usCountry}}তদন্তে উঠে আসা প্রশ্ন: দিশার পরিবারের আইনজীবী নিলেশ ওঝা আদালতে জানান, যে ১৪ তলা ভবন থেকে দিশা পড়ে গিয়েছিলেন, তাঁর দেহ সেখান থেকে ১০ ফুট দূরে উদ্ধার হয়। সোজা নিচে না পড়ে ১০ ফুট দূরে দেহ পাওয়া এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে একাধিক অসঙ্গতির কথা তিনি তুলে ধরেন।
{{/usCountry}}পুলিশের ভূমিকায় আদালতের প্রশ্ন: হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, পুলিশ কোনো অস্বাভাবিক কিছু না পেয়ে থাকলে কেন কোনও এফআইআর ছাড়াই দিনের পর দিন তদন্ত চালিয়ে গেছে এবং এতদিন ধরে পরিবারকে তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করেনি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: দিশা সালিয়ান অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার ছিলেন। সুশান্তের মৃত্যুর ঠিক ছয় দিন আগে দিশার মৃত্যু হওয়ায় এই মামলাটি নিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক ও রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়েছিল। প্রসঙ্গত, সুশান্তের শেষ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও ছিল দিশাকে ঘিরে। দিশার মৃত্য়ুর পর নাকি ভয়ে ছিলেন সুশান্ত, এমন দাবিও করা হয়েছিল প্রয়াত অভিনেতার পরিবারের তরফে। তবে হাইকোর্ট জানিয়েছে, আইন মেনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারকে সঠিক বিচার দেওয়াই এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য।
প্রসঙ্গত, সুশান্তের মৃত্যু মামলার ক্লোজার রিপোর্ট গত বছর মার্চ মাসে জমা দেয় সিবিআই। আত্মহত্যাই করেছেন সুশান্ত, বম্বের বিশেষ সিবিআই আদালতে এমনটাই জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অর্থাৎ মুম্বই পুলিশের দাবি মেনে নেয় সিবিআই।