বিচ্ছেদ হয়েছে পাঁচ বছর আগে। কিন্তু পুরোনো ক্ষত কি সত্যিই শুকোয়? স্বরলিপি চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্ট অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। প্রাক্তন স্বামী সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্বরলিপি প্রশ্ন তুললেন তাঁর ‘পুরুষত্ব’ নিয়ে। গর্ভাবস্থার সেই কঠিন দিনগুলো এবং সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে নিয়ে এক লড়াকু মায়ের যন্ত্রণার কথা উঠে এল তাঁর কলমে।

গর্ভাবস্থার ভয়াবহ স্মৃতি:
স্বরলিপি লিখেছেন, গর্ভাবস্থায় যখন তিনি অসুস্থ থাকতেন, দিনে প্রায় ৩০ বার বমি করতেন, তখন পাশে ছিলেন না তাঁর স্বামী। কারণ হিসেবে স্বরলিপি জানিয়েছেন, তিনি তাঁর বাপের বাড়িতে থাকতেন বলে সৌম্য তাঁর সঙ্গে রাত কাটাতে আসতেন না। এমনকি কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরও সৌম্য তাঁকে দেখতে আসেননি ওই একই ‘অজুহাতে’।
ভোট ও পুরুষত্ব নিয়ে কটাক্ষ:
স্বরলিপির মূল ক্ষোভের জায়গাটি হলো প্রাক্তন স্বামীর বৈপরীত্য। তিনি লিখেছেন, ‘সেই পুরুষ বিবাহ বিচ্ছেদের ৫ বছর পরেও সেই লোকালয় ভোট দিতে আসতে পারে!!!’ অর্থাৎ, যে বাপের বাড়ির এলাকায় আসার জন্য সৌম্য তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বা সদ্যোজাত মেয়ের মুখ দেখতে আসতেন না, ভোট দেওয়ার প্রয়োজনে সেই এলাকাতেই তাঁর অনায়াস যাতায়াত। স্বরলিপির সপাট প্রশ্ন— ‘বাহঃ রে পুরুষত্ব যা শুধু দেখানো যায় একজন অসুস্থ দুর্বল... সদ্য নাড়ি কাটা মা ও তাঁর সদ্যজাত মেয়ের ওপর।’
অতীতের তিক্ততা:
{{/usCountry}}অতীতের তিক্ততা:
{{/usCountry}}বিচ্ছেদের পাঁচ বছর পরেও কেন আজ এই পোস্ট? নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, সম্প্রতি সৌম্যর সেই এলাকায় ভোট দিতে আসাটাই স্বরলিপির পুরোনো যন্ত্রণাকে উসকে দিয়েছে। একজন একা মা (Single Mother) হিসেবে মেয়েকে বড় করার কঠিন লড়াইয়ের পাশে যখন বাবার এই ‘সুবিধাবাদী’ চরিত্র সামনে আসে, তখন তা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটায়।
স্বরলিপির এই পোস্টে অনেকেই তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন। টলিপাড়ার অনেক সহকর্মীও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। যদিও এই আক্রমণের প্রেক্ষিতে সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্বরলিপি একা হাতে মানুষ করছেন মেয়ে সহচরীকে। প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে আগেও পরকীয়ার অভিযোগ এনে সরব হয়েছিলেন অভিনেত্রী।