বৃহস্পতিবার টলিউডের বড় অংশের মানুষের কাছে স্বস্তির রাত। শান্তির ঘুমের রাত। এদিন কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। যাঁর অঙ্গুলি হেলনে এতদিন টলিউড চলত। ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি এদিন গ্রেফতার হলেন তোলাবাজি, যৌন হেনস্থার মতো গভীর অপরাধের অভিযোগে।

এক রূপটান শিল্পীর অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার স্বরূপ। বছর দুয়েক ওই মহিলা কোনও কাজ পাননি স্বরূপের দাদাগিরিতে। কাজ চাইতে গেলে তাঁর কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। এমনকি, তাঁকে ভয়ও দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। স্বরূপের একনায়কতন্ত্র নিয়ে টলিগঞ্জের অনেক কলাকুশলীর মনেই ক্ষোভ জন্মেছিল। তাই এদিন স্বস্তিতে সকলেই।
স্বরূপের গ্রেফতারির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আচমকাই চর্চায় অনির্বাণ ভট্টাচার্য। খোকা'কে নিয়ে মিমে ছেয়ে গিয়েছে ফেসবুক। স্বরূপের দাদাগিরির জেরেই অনির্বাণের মতো পাওয়ারফুল অভিনেতা মাসের পর মাস কাজহীন হয়ে ঘরে বসে থেকেছেন। দেব জোর করে দেশু৭-এ অনির্বাণকে কাস্ট করেন, তার আগে পর্যন্ত সেই সাহস দেখাননি কেউই। স্বরূপের সোনার দুর্গ ভেঙে পড়তে পারে সেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল রাজ্য়ে রাজনৈতিক পালাবদলের পরই। এক মাসের মধ্যেই সেই আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত হল।
বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ এদিন জানান, ‘আবার প্রমাণিত, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’। হিরণ চট্টোপাধ্যায় সাফ জানান, ‘অনেকের চোখের জলের কারণ উনি, এটা তো হওয়ারই ছিল। আশা করব আইন মেনে শাস্তি হবে’।
ফেসবুক পোস্টে সুদীপ্তা চক্রবর্তী লেখেন, ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।’
মাস কয়েক আগেই পরিচালক জয়ব্রত দাসের ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইনস আটর্সের মুক্তি আটকে ছিলেন স্বরূপ। এদিন পরিচালক লিখলেন, ’আমাদের ছবির যখন রিলিজ আটকে দেওয়া হয়েছিল তখন বেশ কিছু পরিচালক বাংলা ছবি বানানোর নিয়ম নামক একটি চোথা নামিয়েছিলেন ফেসবুকে। আজ এই শুভদিনে ওই চোথাটি অ্যাকচুয়ালি কে লিখেছিলেন জানতে একটু মন চায় !'
ওদিকে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় পুত্র অর্কও এদিন মুখ বুজে থাকলেন না। কনে দেখা আলোর নির্মাতা ফেসবুকে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেন। যেখানে স্বরূপকে পাশে নিয়ে ম্যাজিক মোমেন্টসের উপর ‘ব্যান’ (সাসপেনশন)-এর খাঁড়া ঝোলানো হয়েছিল। অর্ক ভিডিয়োর কথোপকথনের অংশ তুলে ধরে লেখেন,'প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক আর তাদের প্রিয় পরিবার মাননীয় স্বরূপ বিশ্বাস এর লাস্ট ব্যান-এর ভিডিও টা দেখছিলাম, কোর্ট থেকে ভিডিও আর transcript চেয়ে পাঠিয়েছে বলে, সামনে রাখা ছিল, জাস্ট চোখে পড়লো মাত্র। যাইহোক, একটা উইকেট পড়লো, বাকিগুলো ও আশা করি তাড়াতাড়ি পড়বে! পালটি শিল্পর বাজারও ভালো না, কি আর করা যাবে'।
কাঞ্চনা মৈত্র খোঁচা দিয়ে লেখেন, ‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তোলায় (সঙ্গে পড়বেন কাটমানি) বহুদূর’। স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারিকে ‘আপদ বিদায়’ বলে উল্লাসে মেতে উঠেছেন ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে লোকজন। এই বিতর্কের শেষ কোথায়? সেটাই এখন দেখবার।