...
...
Next Story

Swaroop Biswas: ‘বেড পার্টনার হও নয় মেয়ে সাপ্লাই দাও’, স্বরূপের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

‘স্বরূপ বিশ্বাস এবং গিল্ডের সেক্রেটারি, বাপি মালাকারের প্রত্যেক সপ্তাহে নতুন মেয়ে লাগে’, রূপটান শিল্পীকে শয্যাসঙ্গী হওয়ার প্রস্তাব। দিতে বলা হয়, 'মেয়ে সাপ্লাই'।

Published on: Jun 5, 2026, 20:04:47 IST
Advertisement

স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি নিয়ে তোলপাড় টলিউড। ইন্ডাস্ট্রির এক রূপটান শিল্পীর অভিযোগের ভিত্তিতে অরূপ বিশ্বাসের ভাইকে গ্রেফতার করেছে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। প্রাণে মেরা ফেলা, হুমকি, তোলাবাজি-সহ যৌন হেনস্থার অভিযোগ রয়েছে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।

‘বেড পার্টনার হও নয় মেয়ে সাপ্লাই দাও’, স্বরূপের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
‘বেড পার্টনার হও নয় মেয়ে সাপ্লাই দাও’, স্বরূপের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

স্বরূপের গ্রেফতারির পর সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন অভিযোগকারিণী। তাঁর দাবি, স্বরূপ বিশ্বাসের নামে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর থেকে লাগাতার হুমকি পেয়েছেন তিনি। ৪ঠা এপ্রিল স্বরূপ ঘনিষ্ঠ শান্তনু দে যিনি নিজে গিল্ডের একজন চিত্রগ্রাহক তিনি নিগৃহীতাকে জানান স্বরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগের চিঠি তুলে না নিলেন তিনি খুন হয়ে যাবেন। এবং তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসাবে তুলে ধরা দবে।

তিনি আরও বলেন, ‘স্বরূপ বিশ্বাসের বেড পার্টনার হতে, এবং বলে মেয়ে স্লাপাই করে কাজ করো। স্বরূপ বিশ্বাস এবং গিল্ডের সেক্রেটারি, বাপি মালাকারের প্রত্যেক সপ্তাহে নতুন মেয়ে লাগে।' হঠাৎ কেন তাঁকে মেয়ে স্লাপাইয়ের কথা বলা হয়? অভিযোগকারিণীর দাবি, এই প্রশ্নের উত্তর তাঁর জানা নেই। তবে শান্তনু দে জানান, ‘তোমার তো বয়স হয়ে গেছে’। তিনি এই কাজ করতে পারবেন না, এমনটা জানালে বলা হয় সব ঝঞ্ঝাট মিটিয়ে ‘বেড শেয়ার’ করে নিতে। অর্থাৎ স্বরূপ বিশ্বাস ও বাপি মালাকারের শয্যাসঙ্গী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বেশ কিছু দিন ধরেই টলিপাড়ার অন্দরে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীদের হেনস্থা করার ক্ষোভ জমছিল। তাঁর গ্রেপ্তারের খবর সামনে আসতেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন টলিউডের ওই রূপটানশিল্পী (Makeup Artist)। নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে তিনি জানান—'অবশেষে আমার চোখের জলের দাম পেলাম! এতদিন যে অন্যায় এবং অত্যাচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, আজ তার একটা বিচার শুরু হলো।'

পুলিশ সূত্রে খবর, এই রূপটানশিল্পী ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন নারী স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একের পর এক মামলা সামনে আসতেই পুলিশ কোমর বেঁধে তদন্তে নামে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ

কেবল যৌন হেনস্থাই নয়, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে টলিপাড়ায় ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় বা তোলাবাজির অভিযোগও দীর্ঘদিনের। ফেডারেশন এবং গিল্ডের ক্ষমতার আড়ালে থেকে সাধারণ টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীদের ওপর মানসিক ও আর্থিক অত্যাচার চালানো হতো বলে অভিযোগ। স্বরূপের এই গ্রেপ্তারি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন সিনেমা জগতের অন্যান্য ব্যক্তিত্বরাও। প্রযোজক শতদীপ সাহা থেকে শুরু করে অভিনেতা ঋদ্ধি সেন— অনেকেই টলিপাড়ার এই ‘বিশ্বাস’ রাজত্ব এবং দুর্নীতি নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই গ্রেফতারি টলিউডকে নোংরা রাজনীতি ও ভয়মুক্ত করার প্রথম ধাপ।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার স্বরূপ বিশ্বাসকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে, সরকারি আইনজীবী তোলাবাজি ও অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ তোলেন। এদিন আদালত ১৮ জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe