পর্দায় তিনি অত্যন্ত পেশাদার ও সাবলীল। কিন্তু পর্দার পেছনের মানুষটা ঠিক কতটা জটিল আর মানসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যান, তা নিয়ে এবার প্রথমবার খোলামেলা মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত। 'প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি'-র লুক টেস্টের মাত্র দু'দিন আগে প্যানিক অ্যাটাকের জেরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে পোস্ট-মেনস্ট্রুয়াল সিন্ড্রোম এবং নেশা ছাড়ার অতীত— নিজের জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিস্ফোরক সব সত্য সামনে আনলেন অভিনেত্রী।

লুক টেস্টের দু'দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি!
অভিনয় জীবনের আড়ালের কঠোর বাস্তবতা তুলে ধরে স্বস্তিকা জানান, অভিনেত্রী স্বস্তিকা অনেক বেশি সাজানো-গোছানো হলেও ব্যক্তি স্বস্তিকা খুবই জটিল।
এক পডকাস্টে অভিনেত্রী জানান, 'প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি'-র লুক টেস্টের ঠিক দু'দিন আগেই তীব্র প্যানিক অ্যাটাক হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আগের প্রজন্মে বাবা-মাদের সময়েও মন খারাপ বা মানসিক চাপ হতো, কিন্তু কেউ তা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতেন না।
‘ডিপ্রেশন বা অ্যানজাইটি বুক ধড়ফড়ানি নয়, এটা একটা ব্যাধি’
নিজের মানসিক লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে একটি বই লেখার চেষ্টাও করছেন অভিনেত্রী। অ্যানজাইটি ও ডিপ্রেশনকে সাধারণ মন খারাপের থেকে আলাদা করে তিনি বলেন, ‘আমার নার্ভাস অ্যানজাইটি আছে, যেটা মন খারাপ নয়, সেটা প্রেমে হৃদয় ভাঙা নয়। সেটা শুধু বুক ধড়ফড়ানি নয়। এটা একটা অসুখ। সেটার ওষুধ হল অনেকটা ধৈর্য্য আর বোঝাপড়া, এবং এখানে কোনও জ্ঞানের দরকার নেই।’
তিনি জানান, ঋতুচক্রের এই নির্দিষ্ট সময়ে তিনি তীব্র মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। কিন্তু সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের সাথে নিজে যুদ্ধ করে সকাল ৯টার কল টাইমে শুটিং সেটে পৌঁছাতে হয় তাঁকে।
{{/usCountry}}তিনি জানান, ঋতুচক্রের এই নির্দিষ্ট সময়ে তিনি তীব্র মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। কিন্তু সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের সাথে নিজে যুদ্ধ করে সকাল ৯টার কল টাইমে শুটিং সেটে পৌঁছাতে হয় তাঁকে।
{{/usCountry}}ইন্ট্রোভার্ট ব্যক্তিত্ব, মুড সুইং ও নেশা ত্যাগের কথা
ব্যক্তিগত জীবন ও স্বভাব নিয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করেছেন স্বস্তিকা।অভিনেত্রী হিসেবে তিনি নিজের কাজের ক্ষেত্রে খুব 'সেলফিশ' ও কিছুটা কঠোর, কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে তিনি ভীষণ অন্তর্মুখী (introvert)। তাঁর মেজাজ সম্পূর্ণ নির্ভর করে মেন্টাল হেলথের ওপর। তিনি যেমন এক মুহূর্তে 'রিঙ্কিয়া কে পাপা' চালিয়ে নাচতে পারেন, তেমনই পরপর ১০ বার 'সাইয়ারা' দেখে কাঁদতেও পারেন।
নেশা ছাড়ার সিদ্ধান্ত: অতীত জীবনের এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে তিনি জানান, চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ রয়েছে কোনো ধরনের নেশা না করার। একসময় নেশা করলেও তা থেকে তীব্র ভীতি ও মানসিক চাপ তৈরি হতো বলে তিনি তা পুরোপুরি ত্যাগ করেছেন।
বাবা-মায়ের চোখে আজও 'বাচ্চা মেয়ে': পাঞ্জাবি মা প্র্যাক্টিক্যাল এবং বাঙালি বাবা ইমোশনাল হলেও বাবা-মা এখনও এসব লড়াইয়ের গভীরতা পুরোপুরি জানেন না। তাঁদের চোখে স্বস্তিকা আজও সেই ছোট্ট 'বাচ্চা মেয়েটিই'।