বিগ বস মানেই বিতর্ক, অপ্রত্যাশিত প্রেম এবং সম্পর্কের নানা সমীকরণ। এই রিয়ালিটি শোয়ের সপ্তম সিজনে অভিনেত্রী তনিশা মুখোপাধ্যায় ও আরমান কোহলির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। বলিউড অভিনেত্রী কাজলের বোন তনিশার সঙ্গে আরমানের সম্পর্ক সেই সময় যথেষ্ট চর্চায় ছিল। এবার বহু বছর পর সেই সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন তনিশা। এক পডকাস্টে বিগ বসের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে শোয়ের নির্মাতাদের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আবেগকে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল ‘আনফোল্ডিং হিউম্যানস’-এর সঙ্গে কথোপকথনে তনিশা জানান, বিগ বসে অংশ নেওয়ার আগে শোয়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তাঁর তেমন ধারণা ছিল না। নিজের সরলতা ও প্রস্তুতির অভাবের কথাও স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, এই ধরনের রিয়্যালিটি শোয়ে অংশ নেওয়ার আগে এর পরিবেশ ও প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
‘পরিস্থিতি তৈরি করে আবেগকে প্রভাবিত করা হয়’
তনিশার দাবি, বিগ বসের ঘরে প্রতিযোগীদের এমন কিছু পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়, যাতে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও একে অপরের প্রতি আনুগত্য তৈরি হয়। কখনও দু’জনকে একই দলের সদস্য করা হয়, কখনও আবার কঠিন পরিস্থিতিতে একসঙ্গে থাকতে হয়। এর ফলে একে অপরের প্রতি সহানুভূতি ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
অভিনেত্রীর কথায়, ‘ওরা আপনাকে এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে প্রভাবিত করে। দু’জনকে একসঙ্গে কঠিন অবস্থায়, এমনকী জেলের মধ্যেও রাখা হয়। তখন দু’জনেই নিজেদের কষ্ট নিয়ে একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠেন। এই অভিজ্ঞতাগুলি এমন কিছু আবেগ তৈরি করে, যেগুলি হয়তো আপনার নিজের নয়।’
তনিশার মতে, শোয়ের নিয়ন্ত্রকদের তৈরি করা পরিস্থিতির কারণেই প্রতিযোগীদের মধ্যে নানা ধরনের আবেগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
{{/usCountry}}তনিশার মতে, শোয়ের নিয়ন্ত্রকদের তৈরি করা পরিস্থিতির কারণেই প্রতিযোগীদের মধ্যে নানা ধরনের আবেগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
{{/usCountry}}কেন আরমান কোহলির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন তনিশা?
তনিশা জানিয়েছেন, বিগ বসের ঘরে তাঁকে ও আরমান কোহলিকে একই দলে রাখা হয়েছিল। ফলে তাঁদের একসঙ্গে সময় কাটানো ও কথা বলার সুযোগ বেড়ে যায়। অভিনেত্রীর কথায়, আরমানও চলচ্চিত্র জগতের পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাঁর সঙ্গে প্রথম থেকেই একটা পরিচিতির অনুভূতি তৈরি হয়েছিল।
তনিশার দাবি, বাড়ির অন্য প্রতিযোগীদের তুলনায় আরমানের সঙ্গে তাঁর মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য বেশি ছিল। কারণ, দু’জনেরই চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যোগ ছিল। সেই পরিচিত পরিবেশ তাঁদের কাছাকাছি আসার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করেন তিনি।
অভিনেত্রী আরও জানান, একসঙ্গে বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে তাঁদের মধ্যে এমন এক ধরনের আবেগগত বন্ধন তৈরি হয়েছিল, যাকে তিনি ‘ট্রমা বন্ডিং’ বলে উল্লেখ করেছেন।
‘বিগ বসের ব্রেনওয়াশ থেকে বেরোতে ছ’মাস লেগেছিল’
তনিশার বক্তব্যের সবচেয়ে চর্চিত অংশটি হল তাঁর মানসিক অবস্থার কথা। অভিনেত্রী দাবি করেছেন, বিগ বস থেকে বেরিয়ে আসার পর নিজেকে সামলে নিতে তাঁকে মনোবিদের সাহায্য নিতে হয়েছিল। শোয়ের অভিজ্ঞতার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে প্রায় ছ’মাস সময় লেগেছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তনিশার কথায়, ‘বিগ বসের ব্রেনওয়াশ থেকে বেরিয়ে আসতে আমার ছ’মাস লেগেছিল। এই ধরনের রিয়্যালিটি শোয়ে গেলে খুব সতর্ক থাকতে হবে।’
নিজের পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশের কথাও তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, তিনি এমন এক পরিবেশে বড় হয়েছেন, যেখানে অন্যের জীবনে হস্তক্ষেপ না করে নিজের মতো করে বাঁচার মানসিকতা ছিল। তাই মানুষের কৌশলী আচরণ বা পরিস্থিতির মাধ্যমে প্রভাবিত করার বিষয়টি আগে সেভাবে বুঝতে পারেননি। বিগ বসের ঘরে প্রবেশ করার পরই প্রথমবার এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তনিশার এই মন্তব্য ঘিরে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বিগ বসের সপ্তম সিজন এবং আরমান কোহলির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। তবে অভিনেত্রীর বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির ভিত্তিতেই করা দাবি।