কদিন আগেই তিলোত্তমায় ধুমধাম করে পালন হয়েছে উত্তম কুমারের জন্ম শতবার্ষিকী। আর তাতে ডাক পায়নি উত্তম কুমারের ভাই তরুণ কুমারের পরিবার। যা নিয়ে ক্ষোভ ঝরে পড়ল নাতি ও নাত বউ সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায়ের গলাতে।

শনিবার ছিল তরুণ কুমারকে নিয়ে লেখা বই ‘চির-তরুণ’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি। কন্যা ঝিমলি বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন সৌরভ ও স্বরিতা।
সৌরভকে বলতে শোনা যায়, ‘সরকারকে দোষ দেব না। কিন্তু সেই সরকারের হয়ে যারা কাজ করছেন, যাদেরকে এই অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা তো এই পরিবারের সঙ্গে যুক্ত আজীবন কাল ধরে। ছোট থেকে আমি তাঁদের নাম শুনে আসছি। তাঁরা বাংলা ইন্ডাস্ট্রির মাথায় বসেছিলেন এতদিন ধরে, এখনো আছেন। তাঁদের তো সরকারকে একবার বলা উচিত ছিল। নতুন সরকারের কাছে বোধহয় কোন খবরই নেই যে তরুণ কুমার উত্তম কুমারের ভাই ছিলেন বা তাঁর পরিবার এখনও আছে।’
‘আমার কিছু যায় আসে না। তবে মায়ের জন্য এটা খুব অসম্মানের। তরুণ কুমারের মেয়ে শুধু আছে। তাঁর স্বামীও নেই এখন। তরুণ কুমারের মেয়ে হিসেবে তো মায়ের সম্মান পাওয়া উচিত ছিল। মায়ের নামে একটা অন্তত চিঠি আসা উচিত ছিল। শুধু উত্তম কুমারকে নিয়ে ভাবলে চলবে না। উত্তম কুমারের পাশেও তো লোক ছিল, যাঁদেরকে তিনি সম্মান করতেন।’, আরও বলেন সৌরভ।
বরের কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ত্বরিতাকেও বলতে শোনা যায়, ‘আমারও মনে হয় নতুন সরকারে কাছে কোনো তথ্য নেই এই বিষয়ে। পুরনো সরকারের কাছে ছিল যে, তরুণ কুমার উত্তম কুমারের ভাই ছিলেন।’
{{/usCountry}}বরের কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ত্বরিতাকেও বলতে শোনা যায়, ‘আমারও মনে হয় নতুন সরকারে কাছে কোনো তথ্য নেই এই বিষয়ে। পুরনো সরকারের কাছে ছিল যে, তরুণ কুমার উত্তম কুমারের ভাই ছিলেন।’
{{/usCountry}}শিশুশিল্পী হিসেবে কালজয়ী বাংলা সিনেমা 'পাতালঘর'-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটে সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পরবর্তীতে তিনি 'বাইসাইকেল কিক' সিনেমায় কাজ করেন। দেখা গিয়েছিল ‘হৃদয়হরণ বি.এ. পাস’ ধারাবাহিকে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে সৌরভ জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন সৌরভ। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগ দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, তিন দিন ব্যাপী চলছিল উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী পালন। একাধিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি। কেক কেটে, নাচ-গান করে, পদযাত্রা, উত্তম কুমারের সুদীর্ঘ কাটআউট উন্মোচনের মাধ্যমে তা পালন করা হয়। দেখা গিয়েছিল টলিপাড়ার বহু জনপ্রিয় মুখকে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ-শুভশ্রী, কাঞ্চন-শ্রীময়ী-র মতো তারকারা ছিল অনুষ্ঠানে।