সম্প্রতি অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও তাঁর স্বামী জাভেদ আখতারের নামাজ না পড়া এবং ধর্মীয় বিধিবিধান না মানার প্রসঙ্গে খোলামেলা স্বীকারোক্তি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শাবানার সাফ কথা, ‘আমি মুসলিম কিন্তু নামাজ পড়ি না’। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই এবার সমাজ মাধ্যমে এক বিস্ফোরক ও দীর্ঘ পোস্ট করলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। মানুষের বিশ্বাস, ধর্মীয় আচরণ এবং সমাজে ‘নাস্তিক’ পরিচয় দেওয়ার ভয় ও দ্বিধা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বিশ্বাস ও আচরণের অমিল এবং নাস্তিকদের দ্বিধা:
ধর্মের নিয়ম না-মানা বনাম অবিশ্বাসী: তসলিমা নাসরিন তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, অনেক মুসলমান নামাজ পড়েন না, রোজা রাখেন না, এমনকি নিষিদ্ধ খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলেও নিজেদের মুসলিম বলে পরিচয় দেন। এটি কোনো নতুন বিষয় নয়। কারণ, নামাজ না পড়লেই কেউ নাস্তিক হয়ে যান না; ঈশ্বরে বিশ্বাস রেখেও অনেকে আদেশ অমান্য করতে পারেন।
আসল প্রশ্ন অবিশ্বার্থীদের নিয়ে: লেখিকার মূল প্রশ্ন কিন্তু শুধু নিয়ম না-মানা মানুষদের নিয়ে নয়। তাঁর প্রশ্ন তাঁদের নিয়ে, যাঁরা খোদ আল্লাহর অস্তিত্বেই বিশ্বাস করেন না, অথচ প্রকাশ্যে নিজেদের ‘নাস্তিক’ বলতে দ্বিধা বোধ করেন।
সমাজে ভয়, পারিবারিক স্মৃতি ও ভণ্ডামি:
তসলিমা প্রশ্ন তোলেন— ‘নামাজ পড়ার প্রয়োজন দেখি না’ বলা গেলেও ‘যার উদ্দেশে নামাজ, তাঁর অস্তিত্বেই বিশ্বাস করি না’—এই সত্যটা বলতে মানুষের এত ভয় কেন? ভয়টা কি আল্লাহকে, নাকি সমাজে থাকা তাঁর ভক্তদের?'
অনেকের কাছে মুসলিম পরিচয়টি শৈশবের স্মৃতি, পরিবার, প্রিয় খাবার বা সংস্কৃতির বন্ধন হতে পারে। কিন্তু সেই অতীত বা স্মৃতিকে ভালো বাসতে গিয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্বের অভিনয় কেন করতে হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন লেখিকা।
{{/usCountry}}অনেকের কাছে মুসলিম পরিচয়টি শৈশবের স্মৃতি, পরিবার, প্রিয় খাবার বা সংস্কৃতির বন্ধন হতে পারে। কিন্তু সেই অতীত বা স্মৃতিকে ভালো বাসতে গিয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্বের অভিনয় কেন করতে হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন লেখিকা।
{{/usCountry}}অনেকেই নিজের অবিশ্বাস প্রকাশ করতে পারেন না নিরাপত্তার অভাবে। পরিবার মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, জীবিকা বিপন্ন হওয়া বা শারীরিক হামলার ভয়ে যদি পরিচয় গোপন রাখতে হয়, তবে তা ব্যক্তির ভীরুতা নয় বরং সমাজের অসহিষ্ণুতা। যে সমাজ সত্য বলতে দেয় না, সেটিই ভণ্ডামির কারখানা খুলে বসে আছে।
ধর্মীয় পরিচয় কি আমৃত্যু বয়ে বেড়ানোর আদেশ?:
তসলিমা নাসরিন পোস্টের শেষে দাবি জানান যে, প্রতিটি মানুষের নির্ভয়ে নিজের মতামত জানানোর অধিকার থাকা উচিত। ‘আমি নাস্তিক, ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না তাই নামাজও পড়ি না’—এই কথাটি কোনো অপরাধের স্বীকারোক্তি নয়, বরং এটি নিজের চিন্তার প্রতি সততা। জন্মের সময় ঘাড়ে চাপানো ধর্মীয় পরিচয় আমৃত্যু বয়ে বেড়ানোর বিষয় হতে পারে না বলে মত ব্যক্ত করেছেন তিনি।