পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এখন গেরুয়া ঝড়। তৃণমূল ধুয়ে মুছে সাফ হতেই ভোলবদল কবীর সুমনের। ‘পাল্টি’ খেয়ে কবীর সুমন জানিয়েছেন, ‘অনিচ্ছাকৃত’ রাজনীতিতে এসেছিলেন তিনি। সেই দাবিকে এক হাত নিলেন তসলিমা নাসরিন। সুমনের দাবি ছিল, তিনি আদতে তৃণমূলপন্থী নন, বরং তাঁকে একপ্রকার বাধ্য করা হয়েছিল। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই তসলিমা প্রশ্ন তুলেছেন, সুমনের করা গত কয়েক বছরের ‘মমতা-বন্দনা’ কি তবে সবই লোকদেখানো ছিল?

পুরানো কাসুন্দি ঘাঁটলেন লেখিকা:
তসলিমা নাসরিন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, কবীর সুমনই তো একসময় বলেছিলেন— “আজ থেকে ৩০০ বছর পর মমতার নামে পুজোআচ্চা হবে, মন্দিরও হবে।” লেখিকার প্রশ্ন, এই ধরনের অতিশয়োক্তি করার জন্য কি কেউ তাঁর হাতে-পায়ে ধরেছিল?
গানে গানে মমতার গুণগান:
তসলিমা সুমনের করা কাজগুলোর তালিকা তুলে ধরে মনে করিয়ে দেন:
১. ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে প্রচারমূলক গান।
২. করোনা আবহে মমতার কাজের প্রশংসা করে গান।
৩. এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে একটি বিশেষ ‘রাগ’ তৈরি করে খেয়াল গাওয়া।
৪. ‘মমতার জন্য’ নামক বিশেষ গান রচনা।
তসলিমার টিপ্পনী— ‘এত গান লেখা এবং গাওয়ার জন্য কি কেউ তাঁকে হাতে-পায়ে ধরেছিল? মাথায় একটা সাদা গোল টুপি পরে যে ঘোষণা করেছিলেন মমতার মন্দির হবে, ওই টুপিটা পরার জন্য কে বা কারা তাঁর হাতে-পায়ে ধরেছিল, জানতে পারি?’
‘বিজেপি হয়ে যাওয়া’ নিয়ে খোঁচা:
{{/usCountry}}‘বিজেপি হয়ে যাওয়া’ নিয়ে খোঁচা:
{{/usCountry}}সবশেষে তসলিমা অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মক সুরে লিখেছেন, ‘মজার তো! হাতে-পায়ে ধরলেই কাজ হয়ে যায়! কেউ যদি হাতে-পায়ে ধরে বলে তুই তো কমিউনিস্ট ছিলি, হাতে-পায়ে ধরেছিল বলে তৃণমূল হয়েছিলে, এবার হাতে-পায়ে ধরলে তুই তো ঠিক বিজেপি হয়ে যাবি, তাই না?’
বিতর্কের আবহ:
কবীর সুমন সম্প্রতি বামপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দিতেই তসলিমার এই পোস্ট রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সুমনের ‘রাজনৈতিক পল্টি’ নিয়ে তসলিমার এই প্রশ্নগুলো এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখেও ফিরছে। কবীর সুমন জানিয়েছেন, ‘ আমি তো তৃণমূলের মেম্বার নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির মেম্বার ছিলাম না। আমার ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্র আমি পদত্যাগ করি।’ বিতর্কিত সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘আমি এবার তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি।’