...
...
Next Story

শিক্ষিত বামপন্থীরা অশিক্ষিত জিহাদীদের মতো আচরণ করছে, দাবি তসলিমার! লিখলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ কোনও রাজনৈতিক দলের জমিদারি নয়..’

চলতি বছরের জুলাই মাসে বিজেপি সরকারের আমলে পা রাখেন কলকাতায়। প্রাক্তন তৃণমূল সরকার ও তারও আগের বাম সরকারের নামে করছেন ভুরি ভুরি অভিযোগ। আর এবার তসলিমা তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে ফের একবার বামপন্থীদের নিয়ে করলেন বিস্ফোরক পোস্ট।

Published on: Aug 10, 2026, 18:41:02 IST
Advertisement

নিজের মতামত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বর্তমানে সরা বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরেন তসলিমা নাসরিন। তাঁর এই লেখার কারণেই একসময় নিজের দেশ থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন। এখনো বাংলাদেশে পা রাখার অধিকার নেই তাঁর। বর্তমানে তিনি সুইডেনের নাগরিক, এবং দিল্লির বাসিন্দা। প্রায় ১৯ বছর পর চলতি বছরের জুলাই মাসে বিজেপি সরকারের আমলে পা রাখেন কলকাতায়। প্রাক্তন তৃণমূল সরকার ও তারও আগের বাম সরকারের নামে করছেন ভুরি ভুরি অভিযোগ। আর এবার তসলিমা তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে ফের একবার বামপন্থীদের নিয়ে করলেন বিস্ফোরক পোস্ট।

বামেদের সমালোচনা তসলিমার।
বামেদের সমালোচনা তসলিমার।

তসলিমা লেখেন, ‘বাংলাদেশের বামপন্থী তরুণ নেতা মেঘমল্লার বসুকে নিয়ে আমি ফেসবুকে কত লিখেছি! তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছি, তাঁর ওপর মৌলবাদীদের আক্রমণের প্রতিবাদ করেছি, এমনকি একদিন তাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দেখতে চাই বলেছি। সেই মেঘমল্লারই এখন আমার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন। প্রাক্তন নকশাল প্রশান্ত রায় সাতাশ বছর ধরে আমার প্রকাশক। শুধু প্রকাশক নন, আপন দাদার মতো, আত্মীয়ের মতো কাছের মানুষ। তিনিও এখন আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গেও আমার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল। তিনিও বাজে কথা বলছেন। হঠাৎ কী হলো এঁদের? আমার বিরুদ্ধে এত বিষ কেন? আমার অপরাধটা কী?’

তসলিমার দাবি তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী যে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, এটাই মানতে পারছেন না বামেরা। লেখেন, ‘একজন ধর্মনিরপেক্ষ নারীবাদী লেখককে বামফ্রন্ট সরকার পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়েছিল। উনিশ বছর পর সেই লেখককেই স্বাগত জানিয়েছে একটি বিজেপি সরকার। এই রাজনৈতিক বৈপরীত্য তাঁদের আত্মমূর্তিতে আঘাত করেছে। তাই নিজেদের ব্যর্থতার মুখোমুখি না হয়ে তাঁরা আমাকে বিজেপির লোক বানাতে ব্যস্ত। কিন্তু আমার ভাষণটি নিয়ে তাঁরা একটি কথাও বলছেন না কেন? আমার ভাষণের একটি বাক্য উদ্ধৃত করে দেখান, কোথায় আমি কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছি। কোথায় আমি আমার আদর্শ থেকে এক ইঞ্চি সরে গেছি? কোথায় আমি ধর্মনিরপেক্ষতা, নারীর সমানাধিকার, মানববাদ, যুক্তিবাদ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেছি?’

সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁকে কলকাতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছিল ছোট একটি সংগঠন—সেক্যুলার মিশন। পরে যুক্ত হয়েছিল আরও দুটি ছোট সংগঠন—‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ এবং হিউম্যান রাইটস বিয়ন্ড ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন। সেই নাগরিক উদ্যোগকেই স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি সরকার। সপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিয়েছে। ডানপন্থীরা প্রকাশ্যে তাঁর পশ্চিমবঙ্গে ফেরার অধিকারকে সমর্থন করেছেন। তবে এতে তিনি কখনো ডানপন্থী হয়ে যান না।

নিজের পোস্টের একটি অংশে তসলিমা লেখেন, ‘আজ অশিক্ষিত জিহাদিরা আমার বিরুদ্ধে যে ভাষায় অপপ্রচার চালাচ্ছে, শিক্ষিত বামপন্থীদের একাংশও প্রায় একই ভাষায় একই বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। আমি বলছি না, জিহাদি আর বামপন্থী একই মতাদর্শের মানুষ। কিন্তু একজন ধর্মনিরপেক্ষ নারীবাদী লেখককে আক্রমণ করতে গিয়ে যখন দুই পক্ষ একই মিথ্যা, একই কুৎসা এবং একই ঘৃণার ভাষা ব্যবহার করে, তখন তাদের ভাষার মধ্যে নৈতিক পার্থক্যটি কোথায় থাকে?’ সঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘পশ্চিমবঙ্গ কোনও রাজনৈতিক দলের জমিদারি নয়। কলকাতাও নয়। পশ্চিমবঙ্গ মানুষের, কলকাতা মানুষের। সেই মানুষের ভালোবাসায় আমি ফিরেছি। আবারও ফিরব।’

 
ABOUT THE AUTHOR
Tulika Samadder

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe