দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর আগামী ১ অগস্ট কলকাতায় আসছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। যদিও বহু আগেই তিনি নিজ দেশ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। আপাতত থাকছেন দিল্লিতে। বহুদিন ধরেই আক্ষেপ ছিল বাঙালি হয়েও কলকাতায় প্রবেশের অধিকার কেড়ে নিয়েছে তাঁর থেকে বামেরা। এমনকী, তৃণমূল সরকার তাঁদের ১৫ বছরেও তসলিমাকে কলকাতায় পা রাখার অনুমতি দেননি। তবে পালা বদলের পর বঙ্গে বিজেপি আসতেই অবস্থার বদল। যদিও বিজেপি সরকারের কোনো অনুষ্ঠানে নয়, তসলিমা আসছেন ‘সেকুলার মিশন’ নামে একটি সংগঠনের আমন্ত্রণে। সম্প্রতি নিজের একটি ফেসবুক পোস্টে বামেদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তিনি। দাবি, এত বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তিনি, কিন্তু কিছু বাম নেতা সেটাকে নিয়েও তির্যক মন্তব্য করছেন। তসলিমার দাবি তিনি যে মুসলিম সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোয় আনতে চান, তা পছন্দ নয় বামেদের।

তসলিমা তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমাকে কি বিজেপি কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছে? না। আমাকে কি পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ে যাচ্ছে? না। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচিত সরকার শুধু আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। আমি যে রাজ্যেই যাই, সেখানে যে রাজনৈতিক দলেরই সরকার থাকুক না কেন, সেই সরকারই আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। এটাই স্বাভাবিক প্রশাসনিক দায়িত্ব। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের কিছু বাম নেতা আমাকে দোষ দিচ্ছেন—আমি কেন কলকাতায় যাচ্ছি! তাঁরা আমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়েছিলেন; এখন আমি সেই রাজ্যে পা রাখা মানেই নাকি আমি হিন্দুত্ববাদী, আমি বিজেপি আর এস এস।’
তসলিমা প্রশ্ন তোলেন, বহুবার তিনি কেরালার বাস সরকারের আমলে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে গিয়েছেন। সেখানে তাঁর জন্য জন্য জেড প্লাস নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। কেন তখন কলকাতার বাম নেতারা তাঁকে ‘বামপন্থী’ বলে গালি দেননি। এখন তাহলে তাঁর গায়ে কেন দেওয়া হচ্ছে ‘আরএসএস’ তকমা?
‘লজ্জা’ লেখিকার দাবি, ‘আসলে আমরা যারা মুসলিম সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোয় আনতে চাই, মুসলিমদের শিক্ষিত ও বিজ্ঞানমনস্ক করতে চাই, ধর্মান্ধতা, অজ্ঞতা ও বর্বরতা থেকে মুক্ত করতে চাই, নারীর সমানাধিকার ও মানবাধিকার চাই, বৈষম্যমূলক ইসলামী আইনের বদলে সমানাধিকারের ভিত্তিতে প্রণীত আধুনিক আইন প্রতিষ্ঠা করতে চাই—বাম নেতাদের অনেকেই তা সহ্য করতে পারেন না। তাঁরা চান মুসলিম সমাজ চোদ্দশো বছর আগের নারীবিদ্বেষী, ধর্মান্ধ ও অসহিষ্ণু সমাজ হিসেবেই পড়ে থাকুক। মুসলিম সমাজের সংস্কার যাঁরা চান, তাঁদের তাঁরা শত্রু মনে করেন; এবং আমরা সকলেই জানি ইসলামী মৌলবাদীদের তুষ্ট করতে তাঁদের কোনও দ্বিধা নেই। এই কারণেই আমার পশ্চিমবঙ্গে ফেরা নিয়ে তাঁদের এত রাগ, এত ক্ষোভ, এত মিথ্যে প্রচার। এই বামরা কি কোনও দিন মানুষ হবেন না? আর কত দিন তাঁরা প্রগতিশীলতার মুখোশ পরে জিহাদিদের ভাষায় কথা বলে যাবেন?’
{{/usCountry}}‘লজ্জা’ লেখিকার দাবি, ‘আসলে আমরা যারা মুসলিম সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোয় আনতে চাই, মুসলিমদের শিক্ষিত ও বিজ্ঞানমনস্ক করতে চাই, ধর্মান্ধতা, অজ্ঞতা ও বর্বরতা থেকে মুক্ত করতে চাই, নারীর সমানাধিকার ও মানবাধিকার চাই, বৈষম্যমূলক ইসলামী আইনের বদলে সমানাধিকারের ভিত্তিতে প্রণীত আধুনিক আইন প্রতিষ্ঠা করতে চাই—বাম নেতাদের অনেকেই তা সহ্য করতে পারেন না। তাঁরা চান মুসলিম সমাজ চোদ্দশো বছর আগের নারীবিদ্বেষী, ধর্মান্ধ ও অসহিষ্ণু সমাজ হিসেবেই পড়ে থাকুক। মুসলিম সমাজের সংস্কার যাঁরা চান, তাঁদের তাঁরা শত্রু মনে করেন; এবং আমরা সকলেই জানি ইসলামী মৌলবাদীদের তুষ্ট করতে তাঁদের কোনও দ্বিধা নেই। এই কারণেই আমার পশ্চিমবঙ্গে ফেরা নিয়ে তাঁদের এত রাগ, এত ক্ষোভ, এত মিথ্যে প্রচার। এই বামরা কি কোনও দিন মানুষ হবেন না? আর কত দিন তাঁরা প্রগতিশীলতার মুখোশ পরে জিহাদিদের ভাষায় কথা বলে যাবেন?’
{{/usCountry}}তসলিমা তাঁর পোস্টে লেখেন কিছু ‘আঁতেল’ বাম সমর্থক দাবি করে, তিনি নাকি সাহিত্য রচনা করতে পারে না! ঠিক যেমন করে বাংলাদেশের জিহাদিরা। লেখিকার দাবি, তিনি খুব খারাপ সাহিত্যিক মেনে নিলেও কি, মাথার মূল্য ঘোষণা করা যায়? শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, গোটা বাংলা থেকেই তাঁকে নির্বাসিত করা যায়? নির্বাসিত করা বৈধ? একজন লেখকের সাহিত্যমানের বিচার করবেন পাঠক ও সময়, কিন্তু সেই লেখকে হত্যার হুমকি দেওয়া বা নির্বাসনে পাঠানো কীভাবে ঘটতে পারে কোনো সভ্য সমাজে।
‘মুক্তচিন্তা, উদারতা ও সহিষ্ণুতা—এসবকে এই বাম আঁতেলরা নিজেদের ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেন না। আসলে আমার একটিই দোষ—তাঁরা ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে বিশ্বাস করেন, আমি করি না। ইসলামের সমালোচনা করার অধিকারকে তাঁরা বাক্স্বাধীনতা বলে মানতে পারেন না। তাঁদের যাবতীয় উদারতা ইসলামের দরজায় এসে শেষ হয়ে যায়।’, আরও লিখেছেন তসলিমা।