আকাশে-বাতাসে তখন শুধুই অবিশ্বাস। টলিউড যেন মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ। প্রখ্যাত পরিচালক অনীক দত্তর আকস্মিক রহস্য়মৃত্য়ুর খবর যখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে, ঢাকুরিয়ার সেই বেসরকারি হাসপাতালের সামনে তখন থিকথিক করছে ভিড়। ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইটের ঝলকানি, চেনা-অচেনা মুখের ভিড়, আর একরাশ নিঃশব্দ হাহাকার।

সেই ভিড় ঠেলে যখন হাসপাতালের করিডোরে এসে দাঁড়ালেন তিনি, চারপাশটা যেন আরও একটু ভারী হয়ে উঠল। তিনি জীতু কমল। অনীক দত্তর ‘অপরাজিত’ ছবির সেই ‘সত্যজিৎ রায়’। যে মানুষটি জীতুর ভেতরের অভিনেতাকে নতুন করে চিনিয়েছিলেন, তাঁর এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে অভিনেতা যে কতটা বিধ্বস্ত, তা তাঁর চোখ-মুখই বলে দিচ্ছিল।
ক্যামেরার সামনে মৌনব্রত, ফেসবুকে ক্ষোভ ও আর্তি
হাসপাতালের বাইরে তখন সংবাদমাধ্যমের তুমুল ব্যস্ততা। প্রত্যেকেই চাইছেন অনীকের ‘অপরাজিত’র মুখ থেকে দুটো কথা শুনতে। কিন্তু জীতু সেদিন অন্য মানুষ। কোনো ‘বাইট’ দিলেন না, মাইকের সামনে মুখ খুললেন না। মাথা নিচু করে, এক বুক শূন্যতা নিয়ে বেরিয়ে গেলেন হাসপাতাল চত্বর থেকে।
তবে নীরবতা ভাঙল রাতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় উপচে পড়ল তাঁর ভেতরের জমে থাকা কান্না আর যন্ত্রণা। ফেসবুকের দেওয়ালে জীতু লিখলেন:
'মিডিয়ার সমস্ত বন্ধু, দিদি, দাদা, ভাই, প্রত্যেকের কাছে আমি করজোরে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। যে ঘটনা ঘটে গেছে তারপরে আমার কিছু বলার থাকতে পারে না এমনটা বলবো না। আমার সত্যিই কিছু বলার নেই, বিশ্বাস করুন। কী বলবো বলুন?"
সংবাদমাধ্যমের পেশাদারিত্বের প্রতি সম্মান জানিয়েও জীতু যোগ করেন, ‘জানি আর বুঝিও বাইট/কপি নেওয়াটা আপনাদেরও কাজ। আমাকে ক্ষমা করবেন। আপনাদেরও মন ভেঙেছে, আপনারাও বেদনাহত।’ কিন্তু সেই সঙ্গেই পরিচালকের প্রতি চিরঋণ স্বীকার করে অভিনেতা লিখেছেন, ‘আমি অনীক দার কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। ওনার পরিবারের পাশে থাকুন, আর কিছু বলার নেই।’
{{/usCountry}}সংবাদমাধ্যমের পেশাদারিত্বের প্রতি সম্মান জানিয়েও জীতু যোগ করেন, ‘জানি আর বুঝিও বাইট/কপি নেওয়াটা আপনাদেরও কাজ। আমাকে ক্ষমা করবেন। আপনাদেরও মন ভেঙেছে, আপনারাও বেদনাহত।’ কিন্তু সেই সঙ্গেই পরিচালকের প্রতি চিরঋণ স্বীকার করে অভিনেতা লিখেছেন, ‘আমি অনীক দার কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। ওনার পরিবারের পাশে থাকুন, আর কিছু বলার নেই।’
{{/usCountry}}‘শুয়ে আছে সেনা...’
তবে জীতুর বিষাদের আসল রূপটি ধরা পড়ল তাঁর অপর একটি ছোট, কিন্তু মেরুদণ্ড কাঁপিয়ে দেওয়া পোস্টে। সেখানে কোনো কৈফিয়ত নেই, নেই কোনো দীর্ঘ বাক্য। অভিনেতা স্রেফ লিখেছেন—
‘শুয়ে আছে সেনা লাশকাটা ঘরে।’
বিনোদনের ঝাঁ-চকচকে দুনিয়ায় অনীক দত্ত ছিলেন এক নির্ভীক যোদ্ধা। স্পষ্টবক্তা, আপসহীন এক ‘সেনা’। তাঁর এই অকাল এবং মর্মান্তিক চলে যাওয়া টলিপাড়ার অনেক সমীকরণই ওলটপালট করে দিল। আর তাঁর প্রিয় ‘অপরাজিত’ নায়ক? তিনি হয়তো এখন লাইমলাইটের আলো থেকে দূরে, নিভৃতে তাঁর ‘অনীক দা’র চলে যাওয়াটাকেই বিশ্বাস করতে লড়ছেন।