...
...
Next Story

Jeetu-Anik Dutta: লাশকাটা ঘরে ‘সেনা’ অনীক দত্ত, হাসপাতালে মৌন ‘অপরাজিত’ জীতু! ফেসবুকে চাইলেন ক্ষমা

অনীক দত্তের অকাল মৃত্যুর যন্ত্রণা কুড়েকুড়ে খাচ্ছে তাঁর কাছের মানুষদের। অনীক দত্তর হাত ধরে বড়পর্দায় নতুন করে পরিচিতি লাভ করেছিলেন জীতু কমল। সত্যজিৎ রায়ের ভূমিকায় তাঁর নিখুঁত অভিনয় আজও ভোলেনি বাঙালি। পরিচালকের মৃত্যুতে শোকেকাতর জীতু কমল।

Published on: May 28, 2026, 07:01:02 IST
Advertisement

আকাশে-বাতাসে তখন শুধুই অবিশ্বাস। টলিউড যেন মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ। প্রখ্যাত পরিচালক অনীক দত্তর আকস্মিক রহস্য়মৃত্য়ুর খবর যখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে, ঢাকুরিয়ার সেই বেসরকারি হাসপাতালের সামনে তখন থিকথিক করছে ভিড়। ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইটের ঝলকানি, চেনা-অচেনা মুখের ভিড়, আর একরাশ নিঃশব্দ হাহাকার।

লাশকাটা ঘরে ‘সেনা’ অনীক দত্ত, হাসপাতালে মৌন ‘অপরাজিত’ জীতু! ফেসবুকে চাইলেন ক্ষমা
লাশকাটা ঘরে ‘সেনা’ অনীক দত্ত, হাসপাতালে মৌন ‘অপরাজিত’ জীতু! ফেসবুকে চাইলেন ক্ষমা

সেই ভিড় ঠেলে যখন হাসপাতালের করিডোরে এসে দাঁড়ালেন তিনি, চারপাশটা যেন আরও একটু ভারী হয়ে উঠল। তিনি জীতু কমল। অনীক দত্তর ‘অপরাজিত’ ছবির সেই ‘সত্যজিৎ রায়’। যে মানুষটি জীতুর ভেতরের অভিনেতাকে নতুন করে চিনিয়েছিলেন, তাঁর এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে অভিনেতা যে কতটা বিধ্বস্ত, তা তাঁর চোখ-মুখই বলে দিচ্ছিল।

ক্যামেরার সামনে মৌনব্রত, ফেসবুকে ক্ষোভ ও আর্তি

হাসপাতালের বাইরে তখন সংবাদমাধ্যমের তুমুল ব্যস্ততা। প্রত্যেকেই চাইছেন অনীকের ‘অপরাজিত’র মুখ থেকে দুটো কথা শুনতে। কিন্তু জীতু সেদিন অন্য মানুষ। কোনো ‘বাইট’ দিলেন না, মাইকের সামনে মুখ খুললেন না। মাথা নিচু করে, এক বুক শূন্যতা নিয়ে বেরিয়ে গেলেন হাসপাতাল চত্বর থেকে।

তবে নীরবতা ভাঙল রাতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় উপচে পড়ল তাঁর ভেতরের জমে থাকা কান্না আর যন্ত্রণা। ফেসবুকের দেওয়ালে জীতু লিখলেন:

'মিডিয়ার সমস্ত বন্ধু, দিদি, দাদা, ভাই, প্রত্যেকের কাছে আমি করজোরে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। যে ঘটনা ঘটে গেছে তারপরে আমার কিছু বলার থাকতে পারে না এমনটা বলবো না। আমার সত্যিই কিছু বলার নেই, বিশ্বাস করুন। কী বলবো বলুন?"

‘শুয়ে আছে সেনা...’

তবে জীতুর বিষাদের আসল রূপটি ধরা পড়ল তাঁর অপর একটি ছোট, কিন্তু মেরুদণ্ড কাঁপিয়ে দেওয়া পোস্টে। সেখানে কোনো কৈফিয়ত নেই, নেই কোনো দীর্ঘ বাক্য। অভিনেতা স্রেফ লিখেছেন—

‘শুয়ে আছে সেনা লাশকাটা ঘরে।’

বিনোদনের ঝাঁ-চকচকে দুনিয়ায় অনীক দত্ত ছিলেন এক নির্ভীক যোদ্ধা। স্পষ্টবক্তা, আপসহীন এক ‘সেনা’। তাঁর এই অকাল এবং মর্মান্তিক চলে যাওয়া টলিপাড়ার অনেক সমীকরণই ওলটপালট করে দিল। আর তাঁর প্রিয় ‘অপরাজিত’ নায়ক? তিনি হয়তো এখন লাইমলাইটের আলো থেকে দূরে, নিভৃতে তাঁর ‘অনীক দা’র চলে যাওয়াটাকেই বিশ্বাস করতে লড়ছেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe