‘গবিরের ভগবান, নারীদের সম্মান তোমার সাথে জড়িয়ে….সবুজ সেনার সেনাপতি, যুবসমাজের নতুন জীবন। এগিয়ে চলার সাহস হয়ে দিলে লক্ষ বুকে শিহরণ’, বছর তিনেক আগে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গান বেঁধেছিলেন কেশব দে। রমরমিয়ে ভাইরাল হয়েছিল সেই গান।

বিধানসভা ভোটের আগেও গায়ক কেশব দে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছেন। এক পডকাস্টে জানিয়েছিলেন, অভিষেক তাঁর আদর্শ তথা অনুপ্রেরণা। কিন্তু ভোটে বাংলার ফুল বদল হতেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন গায়ক। আচমকাই তাঁর মুখে রাম স্তুতি। ভক্তিমূলক গান আগেও গেয়েছেন কেশব। তবে এদিন আচমকাই ‘জয় শ্রীরাম’ গেয়ে ফেসবুকে আপলোড করেন।
রাজনৈতিক সখ্যতা কি কেবলই স্বার্থের? গায়ক কেশব দে-র সাম্প্রতিক কাণ্ড দেখে এই প্রশ্নই তুলছেন সাধারণ মানুষ। জনৈক রয় অপূর্ব কেশবকে ট্রোল করে ফেসবুকে লিখেছেন— ‘আগেই বলেছিলাম এখন চারদিকে পাল্টিবাজ দলবদলু-দের দেখতে পাবেন, ওরা গর্ত থেকে বেরোতে শুরু করেছে।’
প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ:
অপূর্বর অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি দাবি করেছেন, কেশব দে শুধু রাম-ভজন গাইছেন তাই নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে গাওয়া সেই বিখ্যাত অ্যান্থমটি (Anthem) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে সরিয়েও দিয়েছেন। ভোটের ফলাফল অন্যরকম হতেই সেই স্মৃতি ‘ডিলিট’ করে দিলেন গায়ক।
সুবিধাবাদী তকমা:
{{/usCountry}}সুবিধাবাদী তকমা:
{{/usCountry}}নেটিজেনদের একাংশের মতে, কেশব দে একজন ‘সুবিধাবাদী শিল্পী’। যখন যে দল ক্ষমতায় বা যখন যে হাওয়ার দাপট বেশি, সেই অনুযায়ী সুর বদলে ফেলেন তিনি। কেউ আবার লিখেছেন, ‘টাকা আর সুযোগের জন্য মানুষ কত নিচে নামতে পারে, কেশব তার প্রমাণ।’
বিতর্কের সূত্রপাত:
উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের আগে কেশবের ‘বাংলার যুবরাজ’ গানটি তৃণমূলের প্রচারের অন্যতম ভিত্তি ছিল। কিন্তু ৪ জুনের পর পরিস্থিতি বদলাতেই কেশব হঠাৎ রাম-ভক্ত হয়ে ওঠেন। নিজের প্রোফাইল থেকে পুরনো রাজনৈতিক পোস্ট বা গান সরিয়ে ফেলাকে নেটিজেনরা ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবেই দেখছেন।
গায়ক কেশব দে অবশ্য এই ট্রোলিং বা গান সরিয়ে ফেলার অভিযোগ নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি। তবে স্টুডিও পাড়া থেকে সোশ্যাল মিডিয়া— সবর্ত্রই এখন তাঁর এই ‘১৮০ ডিগ্রি পাল্টি’ নিয়ে হাসাহাসি চলছে।