মাজমাধ্যম প্রভাবী তথা পশুপ্রেমী সায়নী চক্রবর্তীর আকস্মিক আত্মহত্যার ঘটনা যেন টলিপাড়া থেকে নেটপাড়া— সর্বত্র একটা বড়সড় ওলটপালট ঘটিয়ে দিয়েছে। সায়নীর মৃত্যুর পর যখন একদিকে মেকি শোকপ্রকাশের ঢল, ঠিক তখনই সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে এক মারাত্মক সত্য আর নিজের জীবনের অন্ধকার অতীত নিয়ে হাজির হলেন অভিনেত্রী দেবলীনা নন্দী। মাস কয়েক আগে যিনি নিজে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, সেই দেবলীনা আজ সায়নীর চলে যাওয়া দেখে আর চুপ থাকতে পারলেন না। তীব্র ক্ষোভ, আফসোস আর ট্রোলিং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক খোলা চিঠি লিখলেন তিনি। যদিও সরাসরি সায়নীর নাম নেননি তিনি।

বুকের ভেতর কতটা যন্ত্রণা থাকলে মানুষ এমন করে, আমি জানি
দেবলীনা তাঁর পোস্টে সায়নীর সঙ্গে কাটানো একটি ছোট্ট মুহূর্তের কথা মনে করে লিখেছেন, 'এমন একটা ঘটনা ঘটেছে যেটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই কারণ, কি বলবো সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না। মেয়েটার সাথে একদিনই দেখা হয়েছিল, তখন ওই ১০ মিনিটের কথাবার্তায় কেউ কারুর মনের অবস্থা বুঝতে পারিনি। মানুষ বুকের ভিতর কতটা যন্ত্রণা পেলে এরকম করে সেটা আমি জানি, কিন্তু তারা জানে না যারা কটাক্ষ করে।'
আজ সায়নী চলে যাওয়ার পর যাঁরা সোশ্যালে মায়াকান্না কাঁদছেন, তাঁদের একপ্রকার ভণ্ডামির মুখোশ খুলে দিয়ে দেবলীনা যোগ করেন, ‘আজ সে নেই আমাদের মধ্যে, সবাই দুঃখ করছে। কিন্তু কোনো ভাবে বেঁচে গেলে সারাজীবন কিছু মানুষ তাঁকে তিলে তিলে মেরে ফেলতো নানান বাজে কথা বলে। যেমনটা আমার সাথে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে।’
মারতে চাইছে আমাকেও, রোজ রোজ!
{{/usCountry}}মারতে চাইছে আমাকেও, রোজ রোজ!
{{/usCountry}}নিজের আত্মহত্যার চেষ্টার সেই ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা টেনে দেবলীনা স্বীকার করেছেন যে, ট্রোলিং এবং মানসিক অবসাদ একটা মানুষকে কতটা খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করায়। তিনি লেখেন, ‘আমি কিছুক্ষণের জন্য মা, বাবা, ভাই সবার কথা ভুলে গিয়ে একটা অকাজ করে ফেলেছিলাম। কিন্তু ওখানে উপস্থিত কিছু মানুষের জন্য আর আমাকে যারা নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবাসে, তাদের জন্য এখনও আছি। কিন্তু কিছু মানুষের সেটা নিয়ে সমস্যা, রোজ রোজ মারতে চাইছে আমাকে।’
দেবলীনার এই আক্ষেপ প্রমাণ করে দেয়, এ দেশে একজন মানসিক অবসাদগ্রস্ত মানুষ যদি কোনোভাবে বেঁচেও ফেরে, সমাজ তাকে সুস্থ হতে দেওয়ার বদলে খোঁচা মেরে মেরে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলতে চায়।
মা-বাবাকে কষ্ট দেওয়া ঠিক না, তুমিও ভুল করেছো বোন
পোস্টের শেষে এসে এক দিদির মতো সায়নীর উদ্দেশ্যে এক বুক কান্না উগরে দিয়েছেন দেবলীনা। যারা সবকিছুতেই খুত খোঁজে, সেই জাজমেন্টাল নীতিপুলিশদের একহাত নিয়ে তিনি লিখেছেন, সব কিছুর পরে একটাই কথা বলবো, শুধু একটা মানুষই আজ সব থেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছে, সেটা হলো তার মা। কিছু মানুষ প্রচন্ড জাজমেন্টাল, ভালো তাও খারাপ খোঁজে। কিন্তু আমিও ভুল করতে যাচ্ছিলাম আর তুমিও ভুল করেছো বোন। মা বাবাকে কষ্ট দেওয়া ঠিক না সেটা আমি বুঝেছি। যেখানেই থাকো ভালো থাকো।
সায়নীর চলে যাওয়া এবং দেবলীনার এই করজোড় স্বীকারোক্তি যেন এই মুহূর্তে নেটপাড়ার প্রতিটি মানুষকে এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কোনো জাজমেন্ট বা ট্রোলিং যে একটা জলজ্যান্ত প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, দেবলীনা নন্দীর এই পোস্ট হয়তো সমাজকে সেই শিক্ষাটাই আরও একবার দিয়ে গেল।