...
...
Next Story

Taslima-Suvendu: ‘বার বার আসুন, এই বাংলা আপনার!’ লেখিকার সামনে করজোরে মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দুর সৌজন্যে মুগ্ধ তসলিমা!

‘দুই বাংলার কোনও রাজনীতিক এভাবে বলেনি…’, শুভেন্দুু অধিকারীর সৌজন্যবোধ মন ছুঁয়েছে তসলিমার। প্রশংসায় ভরালেন লেখিকা।

Published on: Oct 14, 2026, 08:00:29 IST
Advertisement

বত্রিশ বছরের নির্বাসনের যন্ত্রণা বুকে চেপে থাকেন তসলিমা নাসরিন। ওপার বাংলায় প্রবেশের অধিকার নেই সেই দেশেরই ভূমিকন্যার। এবার বাংলা থেকেও তাঁকে তাড়িয়েছিল বাম সরকার। তৃণমূলের আমলেও বদলায়নি ছবি। অবশেষে বাংলার মাটিতে পা দিয়ে ঋদ্ধ বিতর্কিত ও নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শারদোৎসবের মহালয়ার সন্ধ্যায় কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য মহালয়ার অনুষ্ঠানে বিশেষ উপস্থিত ছিলেন তিনি। আর সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনাবিল আন্তরিকতা ও বিনম্র ব্যবহারে গভীরভাবে আপ্লুত ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন এই লেখিকা।

‘বার বার আসুন, এই বাংলা আপনার!’ লেখিকার সামনে করজোরে মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দুর সৌজন্যে মুগ্ধ তসলিমা!
‘বার বার আসুন, এই বাংলা আপনার!’ লেখিকার সামনে করজোরে মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দুর সৌজন্যে মুগ্ধ তসলিমা!

ইডেনের ভিভিআইপি গ্যালারি ও রথী-মহারথীদের মেলা:

পুজোয় কলকাতায় থাকতে না পারার দুঃখ ভুলে ইডেন গার্ডেন্সের মহালয়ার অনুষ্ঠান উপভোগ করতেই বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে পৌঁছান তসলিমা। তবে সেখানে পৌঁছাতেই তাঁকে সম্মান জানিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ভিভিআইপি (VVIP) সারিতে। বাঁ পাশে বিধানসভার স্পিকার, ডানে মিঠুন চক্রবর্তী, শমীক ভট্টাচার্য এবং পেছনের সারিতে স্বপন দাশগুপ্ত— চারপাশে এমন রথী-মহারথীদের দেখে শুরুতে বেশ কিছুটা অস্বস্তি ও জড়তায় ভুগছিলেন লেখিকা। লকেট চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল এবং মুর্শিদাবাদের এক বিধায়ক এসেও তাঁর খোঁজখবর নেন ও কুশল বিনিময় করেন।

শুভেন্দু অধিকারীর অভাবনীয় আন্তরিকতা:

অনুষ্ঠান চলাকালীন ড্রোন শো দেখার মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং তসলিমার কাছে এগিয়ে আসেন এবং ভিড়ের কোলাহলের মধ্যেও লেখিকার যত্ন নিয়ে খোঁজ নেন। এরপর অনুষ্ঠান শেষে বিদায় নেওয়ার সময় তসলিমা নাসরিনের সামনে মাথা নুইয়ে হাত জোড় করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। নমস্কার জানিয়ে তসলিমাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন—'বার বার আসুন, বার বার আসুন, বার বার আসুন, এই বাংলা আপনার।'

মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে এই তিনটি বাক্য শুনে মুহূর্তে নিশ্চল ও স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তসলিমা। বুকের ভেতর জমে থাকা অগণিত অনুভূতির কারণে মুখে কোনো ভাষা ফুটছিল না তাঁর। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তসলিমা নাসরিন লেখেন—'আজ পর্যন্ত দুই বাংলার কোনও রাজনীতিক, কোনও সরকার আমাকে এভাবে বলেননি, ‘এই বাংলা আপনার’। এমন সহজ ভাষায় আমাকে এত বড় আশ্বাস দেননি। বত্রিশ বছরের নির্বাসনের দুঃখ একটি বাক্যে মুছে যায় না, তবু একটি বাক্য যে সেই দীর্ঘ দুঃখের ভেতর এতখানি শান্তি এনে দিতে পারে, সেদিন অনুভব করলাম।'

দীর্ঘদিন ধরে জন্মভূমি ও আপনজনের থেকে দূরে থাকা এই লেখিকার কাছে এই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এই সৌজন্য ও উষ্ণ সম্ভাষণ যেন বহু বছরের জমে থাকা তৃষ্ণায় এক পশলা শান্তির ঝরনাজল হয়ে ধরা দিল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks