উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে মহাসপ্তমীর রাতে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা বাংলা। সমাজ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষজন। দেরিতে হলেও এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী তথা সমাজকর্মী পিয়া চক্রবর্তী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দুর্গাপুজো নয়’। এ কথা লিখে পোস্ট করতেই তাঁর দিকে ধেয়ে আসে তীব্র কটাক্ষ ও ট্রোলিং। তবে মুখ বুজে না থেকে ট্রোলকারীদের একের পর এক কড়া জবাব দিয়েছেন পিয়া।

নেটিজেনদের কটাক্ষ ও পিয়া চক্রবর্তীর পালটা জবাব:
‘আপনি বিদেশ থেকে মেসেজ করছেন নিশ্চয়’
এক নেটিজেন কটাক্ষ করে লেখেন, ‘কাকিমা, আপনি বিদেশ থেকে মেসেজ করছেন নিশ্চয়।’ জবাবে কড়া ভাষায় পিয়া লেখেন—'কলকাতা থেকেই পোস্ট করছি। তবে যেই মা, বোন, ভাই, কাকিমা, জেঠিমারা পদপিষ্ট হয়েছেন তাঁরা কিন্তু শহরের মাটিতেই মরেছেন। বিদেশে গেলে হয়তো বেঁচে থাকতেন।' প্রসঙ্গত, সপ্তমীর দিনই পরমব্রত ও ছেলে নডিকে নিয়ে ফ্রান্সে ছুটি কাটানোর ছবি পোস্ট করেছিলেন।
অন্য এক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘শকুন এসেছে ডেডবডি পলিটিক্স করতে’। তার জবাবে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি টেনে পিয়া বলেন—'আপনাকে অত ‘ভাবার’ দায়িত্ব কেউ দেয়নি। এই রাজ্যে মেয়ের মৃত্যুর পর মাকে ভোটে দাঁড় করানো হয়।' নাম না করেই রত্না দেবনাথকে টিকিট দেওয়া প্রসঙ্গে বিজেপিকে সরাসরি তোপ দাগেন পিয়া।
‘বিদেশে ঘুরে পুজো কাটিয়ে এখন আঁতলামি বিরক্তিকর’
এক মহিলা নেটিজেন পিয়াকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘তুমি নিজে তো বিদেশে বেড়াচ্ছ, আর সেটাই তোমার পুজো হচ্ছে এবং তার জন্য কারো কিছু বলার অধিকারও নেই। কিন্তু একটা যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে সেটা নিয়ে আঁতলামি বিরক্তিকর।’
{{/usCountry}}এক মহিলা নেটিজেন পিয়াকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘তুমি নিজে তো বিদেশে বেড়াচ্ছ, আর সেটাই তোমার পুজো হচ্ছে এবং তার জন্য কারো কিছু বলার অধিকারও নেই। কিন্তু একটা যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে সেটা নিয়ে আঁতলামি বিরক্তিকর।’
{{/usCountry}}পিয়া অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় জবাব দিয়ে জানান— ‘আমি পৃথিবীর যে কোণেই থাকি, আমার শহর নিয়ে কথা বলব। কী ভাষায় বা কী মেজাজে বলব, তাও আমার ইচ্ছে। তাতে আপনার বিরক্তি হলে আমার কিচ্ছু করার নেই। আপনাকে খুশি করার জন্য লিখিনি।’ আরেকজন পিয়ার সাহিত্য়জ্ঞান নিয়ে খোঁচা দিলে (বিশাল বড় কবিতা লিখেছেন) তিনি বামেদের বুক-স্টার ভাঙার প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, ‘এটা আমার লেখা নয়। তবে কার লেখা জানতে গেলে বুকস্টলে যেতে হয়- বুলডোজার ছাড়া’।
চোরবাগান ট্র্যাজেডি ঘিরে যখন শহরজুড়ে শোকের ছায়া, ঠিক তখনই পরমব্রত-পত্নী পিয়া চক্রবর্তীর এই স্পষ্টবক্তা ও প্রতিবাদী রূপ সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।