...
...
Next Story

টাইগার শ্রফের হামলাকারীরা গ্রেফতার, তবুও বলিউডে আতঙ্ক! বিস্ফোরক দাবি রাম গোপাল বর্মার

টাইগার শ্রফের উপর হামলার ঘটনায় তিন অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও বলিউডের বিপদ এখনও কাটেনি! এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন পরিচালক রাম গোপাল বর্মা। তাঁর দাবি, বন্দুক চালানো ব্যক্তিরা অপরাধজগতের সবচেয়ে নিচের সারির সদস্য। আসল কলকাঠি যাঁরা নাড়েন, তাঁরা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।

Published on: Oct 24, 2026, 20:53:06 IST
Advertisement

টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশ। কিন্তু এতেই কি নিশ্চিন্ত হতে পারবেন বলিউডের তারকারা? একেবারেই তা মনে করছেন না পরিচালক রাম গোপাল বর্মা। বরং তাঁর আশঙ্কা, বন্দুকবাজরা পুলিশের জালে ধরা পড়লেও নেপথ্যের মূলচক্রীরা অধরাই থেকে যেতে পারেন। শনিবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্ট করে অপরাধজগতের অন্দরের কার্যকলাপ নিয়ে মুখ খুলেছেন পরিচালক। সেই সঙ্গে ব্যাখ্যা করেছেন, কেন অভিযুক্তদের গ্রেফতারির পরেও বলিউডের উপর থেকে আতঙ্কের মেঘ সরছে না।

রাম গোপাল বর্মা।
রাম গোপাল বর্মা।

রাম গোপাল বর্মার বক্তব্য, টাইগার শ্রফের হামলাকারীদের গ্রেফতারিতে যাঁরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন, তাঁদের অপরাধজগতের বাস্তব চিত্রটা বোঝা প্রয়োজন। পরিচালকের মতে, কোনও অপরাধচক্রে যে ব্যক্তি সরাসরি বন্দুকের ট্রিগার টেপে, সংগঠনের কাছে তাঁর গুরুত্ব সবচেয়ে কম। কারণ, প্রয়োজনে তাঁকে সহজেই অন্য কাউকে দিয়ে বদলে ফেলা যায়। সেই কারণেই বন্দুকবাজদের পারিশ্রমিকও তুলনামূলক কম। নির্দিষ্ট কাজ শেষ হয়ে গেলে সংগঠনের কাছে তাঁদের প্রয়োজনও ফুরিয়ে যায়।

নিজের যুক্তি বোঝাতে নির্মাণশ্রমিকদের উদাহরণ টেনেছেন পরিচালক। তাঁর কথায়, একটি বাড়ি তৈরির কাজে শ্রমিকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাঁরা সেই বাড়ির নকশা তৈরি করেন না কিংবা মালিকানার অধিকারী হন না। অপরাধজগতেও বন্দুকবাজদের অবস্থান অনেকটা তেমনই। যাঁরা হত্যার নির্দেশ দেন, কাকে বাঁচতে দেওয়া হবে আর কাকে নয়, সেই সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরাই আসল পরিকল্পনাকারী।

শুধু নির্মাণশ্রমিক নয়, যুদ্ধক্ষেত্রের উদাহরণও দিয়েছেন রাম গোপাল বর্মা। তিনি লিখেছেন, রাজা কিংবা সেনাপতিরা সাধারণত নিজেরা যুদ্ধক্ষেত্রে নেমে লড়াই করেন না। তাঁদের নির্দেশ পালন করেন সৈনিকেরা। যুদ্ধ করতে গিয়ে মৃত্যু কিংবা বন্দি হওয়ার ঝুঁকিও নিতে হয় তাঁদেরই। অন্যদিকে, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নিরাপদ দূরত্বে থাকেন।

পরিচালকের যুক্তি, কোনও অপরাধচক্রের প্রধানকে যদি প্রতিটি হত্যাকাণ্ড নিজে ঘটাতে হত, তাহলে তাঁর নিজের জীবনও বিপন্ন হতে পারত। সেই ঝুঁকি এড়াতেই অন্যদের দিয়ে অপরাধ করানো হয়। ফলে কয়েক জন বন্দুকবাজ গ্রেফতার হলেও গোটা অপরাধচক্রের শক্তি যে কমে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

রাম গোপাল বর্মার কথায়, ‘বন্দুকবাজদের গ্রেফতার করা পুলিশের বড় সাফল্যও নয়, আবার অপরাধজগতের বড় ক্ষতিও নয়। আর সেই কারণেই গোটা বলিউডের উপর এখনও কুয়াশার মতো আতঙ্ক ছড়িয়ে রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ১৮ অক্টোবর মুম্বইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে তিন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। ফুটবল খেলে ফেরার সময় অভিনেতার গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে খবর। ঘটনায় টাইগারের গুরুতর আঘাত না লাগলেও তাঁর গাড়িচালক গুলিবিদ্ধ হন। আহত চালককে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। ঘটনার পর অভিনেতা নিজেই গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে।

পরবর্তীতে রাজস্থান থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে মুম্বইয়ে নিয়ে আসে পুলিশ। তবে এই গ্রেফতারি অপরাধচক্রের মূল পরিকল্পনাকারীদের কাছে পৌঁছনোর জন্য কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন রাম গোপাল বর্মা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Tulika Samadder

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks