গত ১৮ অক্টোবর মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছিল বিনোদন দুনিয়ায়। গুলিতে খোদ টাইগার অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালক এবং এক পথচারী আহত হন। যদিও পুলিশ জানিয়েছিল যে টাইগার সরাসরি কোনো গুলিবিদ্ধ হননি, তবে ঘটনার পরে উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সাথে সাক্ষাতের সময় অভিনেতার হাতে ও কাঁধে ব্যান্ডেজ দেখে ভক্তদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সেই রহস্যের উন্মোচন করে টাইগারের টিম একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে তাঁর গায়ে বার্ন মার্কস দেখা গিয়েছে।
টাইগারের হাতে বার্ন মার্কস ও গানপাউডারের দাগ:
ইনস্টাগ্রাম ভিডিও প্রকাশ: টাইগারের অফিশিয়াল টিম (Team Tiger Shroff) ইনস্টাগ্রামে একটি ছোট ভিডিও শেয়ার করে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, অভিনেতার হাতের ভেতরের অংশে বাদামী রঙের অসংখ্য ছোট ছোট দাগ বা বার্ন মার্কস রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দুক থেকে গুলি চলার পর উড়ন্ত ধূলিকণা বা গানপাউডারের অবশিষ্টাংশ ত্বকে বসে গিয়ে ‘পাউডার ট্যাটুয়িং’ তৈরি করে, যা মূলত এই ধরনের বার্ন মার্কসের কারণ। আর এই ক্ষতের কারণেই তাঁকে ব্যান্ডেজ পরে থাকতে হয়েছিল।
ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ‘ঈশ্বর দয়ালু’। টাইগারের মা আয়েশা শ্রফ পোস্টের কমেন্ট বক্সে লিখেছেন, ‘ঈশ্বর মহান’। এছাড়া বাবা জ্যাকি শ্রফ ও বোন কৃষ্ণা শ্রফও কমেন্ট বক্সে হাত জোড় করার ইমোজির মাধ্যমে নিজেদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এআই ভিডিও ও ভুয়া খবর নিয়ে কড়া সতর্কতা:
হামলার ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা জল্পনা এবং এআই-জেনারেটেড (AI-generated) ভিডিও ছড়াতে শুরু করে। এই বিষয়ে টাইগারের টিম একটি স্পষ্ট বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে—'আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, টাইগার শ্রফ এই ঘটনা বা পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কোনো রকম বিবৃতি দেননি, কোনো ভিডিও প্রকাশ করেননি এবং কোনো তথ্য অনুমোদনও করেননি।'
ভুয়া গল্প, এআই ভিডিও এবং ফেক ন্যারেটিভ ছড়ানোর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুশিয়ারিও দিয়েছে টাইগারের টিম।
{{/usCountry}}ভুয়া গল্প, এআই ভিডিও এবং ফেক ন্যারেটিভ ছড়ানোর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুশিয়ারিও দিয়েছে টাইগারের টিম।
{{/usCountry}}হামলা ও গ্রেফতারি:
এই চাঞ্চল্যকর ফায়ারিং কাণ্ডের পরেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ কোটা থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে মুম্বইয়ে নিয়ে আসে। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গ্যাংস্টার অনিল পণ্ডিত সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এই মামলায় হরিয়ানার সোনপতের কুণাল ও সুমিত এবং উত্তরপ্রদেশের রাধা ও ববিতা সহ মোট ১০ জনকে পুলিশ এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে।