আইএসসি (ISC) পরীক্ষায় ৪০০-তে ৪০০ পেয়ে ইতিহাস গড়েছে ব্যারাকপুরের অনুষ্কা ঘোষ। তাঁর এই আকাশছোঁয়া সাফল্যে অভিনন্দন জানাতে ফুলের তোড়া নিয়ে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। কিন্তু মেধার পাশাপাশি অনুষ্কার নির্ভীক রাজনৈতিক অবস্থান এখন বঙ্গ রাজনীতির নতুন চর্চার বিষয়। প্রথম স্থান পাওয়া , অনুষ্কা নিজেকে কেবল বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী বলেই থামেননি, ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন।

মেধার সাথে বামপন্থার মেলবন্ধন:
বিজ্ঞানের তুখোড় ছাত্রী অনুষ্কা শুধু ল্যাবরেটরি বা পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ নন। তাঁর কথায়, তিনি বামপন্থী রাজনীতির প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁর এই আদর্শের প্রতি টান। অনুষ্কা জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে তিনি ভবিষ্যতে সক্রিয়ভাবে বাম রাজনীতিতে যোগ দিতে চান। মেধার সাথে এই লড়াকু মানসিকতার মিশেল নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলেরও।
শুভেচ্ছা জানাতে দুয়ারে রাজ:
রাজনৈতিক মতাদর্শের ফারাক থাকলেও এদিন অনুষ্কার দুয়ারে রাজ চক্রবর্তী। ভোটের ময়দানে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী যখন অনুষ্কার বাড়িতে পৌঁছান, তখন তিনি কেবল একজন কৃতী ছাত্রীকে সম্মান জানাতেই গিয়েছিলেন। অনুষ্কার বহুমুখী প্রতিভা— গল্প লেখা থেকে শুরু করে সিনেমার প্রতি আগ্রহ দেখে মুগ্ধ হন রাজ। অনুষ্কাকে ‘গোটা বাংলার গর্ব’ হিসেবে অভিহিত করে রাজ তাঁকে অনেক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এদিন রাজ অনুষ্কার হাতে তুলে দেন ফুলের তোড়া এবং বিশেষ উপহার। তারকা প্রার্থীর কথায়, ‘ব্যারাকপুরের নাম উজ্জ্বল করল অনুষ্কা ঘোষ! ISC পরীক্ষায় ৪০০-তে ৪০০ নম্বর পেয়ে দেশজুড়ে প্রথম হয়েছে সে। শুধু বিজ্ঞানের মেধাবী ছাত্রই নয়, অনুষ্কা গল্পও লেখে দারুণ এবং সিনেমার প্রতিও ভীষণ আগ্রহ রয়েছে। ব্যারাকপুরের এমন প্রতিভাবান কন্যার সাফল্যের কথা জেনে এবং তাঁর সাথে দেখা করে খুব ভালো লাগল। অনুষ্কা শুধু ব্যারাকপুরের নয়, ও গোটা বাংলার গর্ব। অনেক অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা অনুষ্কা!’
সৃজনশীলতা ও আদর্শের লড়াই:
অনুষ্কা মনে করেন, শিক্ষা ও রাজনীতির মধ্যে কোনো দেওয়াল থাকা উচিত নয়। সিনেমার প্রতি ভালোবাসা আর বিজ্ঞানের চর্চার পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক আদর্শকেও সমান গুরুত্ব দেন তিনি। ব্যারাকপুরের এই মেয়ের চোখে এখন স্বপ্ন কেবল গবেষণার নয়, বরং এক উন্নততর সমাজ গড়ারও।