...
...
Next Story

গল্প চুরির অভিযোগ প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে! ‘বিবেকের কাছে একবারও কি…’, বিস্ফোরক ‘কাদম্বরী’ পরিচালক সুমন ঘোষ

চলচ্চিত্র নির্মাতা সুমন ঘোষের দাবি, তিনি গত আড়াই বছর ধরে একটি চিত্রনাট্য নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, তার সঙ্গে অভিমান-এর ‘রকস্টার আকাশ চ্যাটার্জি’র অনেকটাই সাদৃশ্য রয়েছে।

Published on: Jun 19, 2026, 14:04:11 IST
Advertisement

টলিউডকে ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘কাদম্বরী’, ‘বসু পরিবার’, ‘নোবেল চোর’-এর মতো একাধিক ভিন্ন স্বাদের সিনেমা উপহার দিয়েছেন সুমন ঘোষ। সেই সুমন এবার ‘চুরি’র অভিযোগ তুললেন ইন্ডাস্ট্রির ‘জ্যেষ্ঠ পুত্র’র দিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রসেজিতের জন্য লিখেছেন খোলা চিঠি। যেখানে অভিযোগ, অভিমান ছবির ‘ভাবনা এবং চরিত্র চুরি’র। সুমনের দাবি, তিনি গত আড়াই বছর ধরে এমনই এক চিত্রনাট্য নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, তার সঙ্গে অভিমান-এর ‘রকস্টার আকাশ চ্যাটার্জি’র অনেকটাই সাদৃশ্য রয়েছে।

প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে গল্প চুরির অভিযোগ সুমন ঘোষের।
প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে গল্প চুরির অভিযোগ সুমন ঘোষের।

ইতিম্যধ্যেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে নিজের ‘অভিমান’ মেইলের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন সুমন ঘোষ। আর সেটাই সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাগ করে নিলেন। সঙ্গে আরও লিখলেন, অভিমান ছবিতে প্রসেনজিতের চরিত্রায়ণ তাঁর পরিকল্পিত ছবির গুরুত্বপূর্ণ অংশের সঙ্গে মিল রয়েছে। যদিও নির্মাতাদের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই, তিনি শুধু মনে করেন প্রসেনজিৎ বিষয়টি তাঁকে আগে জানাতে পারতেন। যদিও সুমন ছবিটি দেখেননি, তাই দর্শকদের এই নিয়ে বিচার করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বলেছেন, তাঁর দাবি ভুল প্রমাণিত হলে তিনি ক্ষমা চাইবেন, তবে অভিযোগ সত্য হলেও তাঁর আর নিজের ছবিটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে না।

ই-মেইলে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে কী লেখেন সুমন?

‘প্রিয় বুম্বাদা, অত্যন্ত ভারী মন নিয়ে তোমায় এই চিঠি লিখছি। শিল্পের সততা ও নৈতিকতা নিয়ে এমন কিছু প্রশ্ন বুকে চেপে বসেছে, যা আমার মতো একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে বিচলিত করছে। ​সৃজনশীলতা বা শিল্পের মূল ভিত্তি কী? শুধুই একটা চূড়ান্ত সৃষ্টি, নাকি সেই সৃষ্টি তৈরি হওয়ার পেছনের পারস্পরিক বিশ্বাস, সততা ও নৈতিকতা?’

পরিচালকের দাবি, গল্প আলাদা হলেও চরিত্রায়ণের এই সাদৃশ্য তাঁর দীর্ঘদিনের সৃজনশীল পরিশ্রমকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তাঁর অভিযোগ মূলত আইনি বা কপিরাইট সংক্রান্ত নয়, বরং শিল্পীসুলভ সততা, বিশ্বাস ও পেশাগত নৈতিকতার বিষয়ে। তিনি মনে করেন, একজন অভিনেতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ভাগ করে নেওয়া সৃজনশীল ভাবনার প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখানো উচিত ছিল। এই ঘটনা ভবিষ্যতে নতুন নির্মাতাদের শিল্পী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বদের প্রতি আস্থা নষ্ট করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তাই তো প্রসেনজিৎকে তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেছেন, ‘যদি ধরেও নিই এগুলো কেবলই ‘coincidence’ বা কাকতালীয়, তবুও তোমার তো 'Star'-এর স্ক্রিপ্টটি প্রায় মুখস্থ ছিল। বিবেকের কাছে একবারও কি মনে হলো না যে আমাকে অন্তত জানানো উচিত ছিল?’

এখানেই থেমে থাকেননি সুমন, বেশ চাঁচাছোলা ভাষাতেই প্রসেনজিৎকে এথিক্সের পাঠ পড়িয়েছেন। ‘এই ইন্ডাস্ট্রির বহু নামী এবং কিংবদন্তি শিল্পীর সাথে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে—যেমন সৌমিত্রকাকু, মিঠুনদা, শর্মিলা ঠাকুর বা অপর্ণা সেন। এঁদের কাছ থেকে প্রফেশনাল এথিক্স শেখা উচিৎ। এঁদের কারও কাছ থেকে এমন আচরণ অবিশ্বাস্য। তাই তোমার মতো একজন সিনিয়র অভিনেতার কাছ থেকে এই চরম অসৌজন্যমূলক উপেক্ষা এবং অনৈতিক আচরণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’, লেখা হয়েছে ই-মেইলে।

দেখুন সুমনের পোস্ট-

ই-মেইলের শেষে লেখা হয়েছে, ‘যদি ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা একজন মানুষের সাথে এমন আচরণ হতে পারে, তবে নতুন যে ছেলেমেয়েরা শুধুমাত্র গল্প বলার স্বপ্ন নিয়ে এই ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখছে, তারা কি আর প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জীদের ওপর ভরসা রাখতে পারবে? …কোনো শিল্পীর নিষ্ঠা ও ডেডিকেশনকে যেন এভাবে অবহেলা না করা হয়। শিল্প টিকে থাকে সততায়, ক্ষমতার দম্ভে নয়। তোমার পদ্মশ্রীর যথার্থ মর্যাদা যেন অক্ষুণ্ন থাকে। তোমার নতুন ছবির জন্য শুভকামনা রইল। হোক না তা অনৈতিকতার ওপর দাঁড়িয়ে।’

গোটা ব্যাপার নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও, মুখ খুলেছে ‘অভিমান’-এর প্রযোজনা সংস্থা হোয়াই সো সিরিয়াস। প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘অভিমান-এর প্রযোজক হিসেবে আমরা আমাদের সমগ্র সৃজনশীল দলের সততা, মৌলিকতা এবং নিষ্ঠা নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। ছবিটির মূল ভাবনা এসেছে যিশু সেনগুপ্তর কাছ থেকে, আর চিত্রনাট্য ও সংলাপ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে রচনা ও নির্মাণ করেছেন শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত।’

‘আমরা সকল চলচ্চিত্র নির্মাতার কাজ এবং তাঁদের সৃজনশীল যাত্রাকে সম্মান করি। তবে আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে অভিমান একটি সম্পূর্ণ মৌলিক সৃষ্টি, যা এর লেখক ও নির্মাতাদের স্বাধীন সৃজনশীল প্রচেষ্টার ফল। আমরা আমাদের চিত্রনাট্যের স্বকীয়তা এবং ছবির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের পেশাগত নৈতিকতার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন জানাই। আমাদের বিশ্বাস, যে কোনও শিল্পকর্মকে শেষ পর্যন্ত তার নিজস্ব গুণমান ও শিল্পমানের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা উচিত।’, লেখা হয়েছে সেই বিবৃতিতে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Tulika Samadder

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe